দুই হাঁটুতে সাতটি অস্ত্রোপচার। ছোট বড় মিলিয়ে ১৩বার ছুরিকাঁচির নিচে যাওয়া। মাশরাফির এ জীবন-যুদ্ধের গল্পটা প্রায় সব বাংলাদেশিই জানেন।

কিন্তু সব কি আর জানেন? আরও এমন অনেক গল্প, অনেক কষ্টই লুকিয়ে আছে তার মনে। কাছের লোকরা অল্প কিছু জানেন।

কিন্তু ক্রিকেট ভক্তদের কাছে প্রায় সবটাই অজানা। সেই গল্পটা মাশরাফিকে বই আকারে লিখতে অনুরোধ করেছেন জিম্বাবুয়ের হয়ে এদিন শেষ ম্যাচ খেলতে নামা অধিনায়ক হ্যামিল্টন মাসাকাদজা।

কাল সকালে যখনই হ্যামিল্টন মাসাকাদজার মনে পড়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আজই তাঁর শেষ—চোখ বেয়ে নেমে এসেছে অশ্রুর ধারা। মাসাকাদজা অশ্রুসিক্ত হয়েছিলেন সেদিনও, যেদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায়ের সিদ্ধান্ত জানালেন দলকে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের শেষ ম্যাচ, শেষ ইনিংসটা খেলার আগে পেয়েছেন ‘গার্ড অব অনার’। নেমেছেন বিশেষ জার্সি পরে। ম্যাচের পর পেয়েছেন বিসিবির বিশেষ সম্মাননা আর স্মারক উপহার। উপহার নিয়েই মাসাকাদজা এসেছেন সংবাদ সম্মেলনে।

উপহারের একটি হচ্ছে ফ্রেমে বাঁধানো ক্যারিয়ারের কিছু মুহূর্ত, সেখানে লেখা ‘থ্যাংকস মুধারা হ্যামি।’ জিম্বাবুয়ের আঞ্চলিক ভাষায় মুধারা মানে ‘পরিণত’। মাসাকাদজা এই ডাক নাম পেয়েছেন ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই, মাত্র ১৭ বছর বয়সে। ক্যারিয়ারের উষালগ্নে মুগ্ধ করেছিলেন পরিণত ব্যাটিংয়ে, নামের সঙ্গে মিল রেখে শেষটাও করলেন একইভাবে।

বাংলাদেশকে তিনি মনে করেন ‘দ্বিতীয় বাড়ি’। ক্রিকেটের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা মাসাকাদজাকে ভীষণ মুগ্ধ করে। এখানে অবশ্য তিক্ত-আনন্দ দুই স্মৃতিই আছে তাঁর—

* তিক্ত স্মৃতি: ‘প্রথমবারের মতো এখানে আমরা যখন টেস্ট সিরিজ হারলাম (জানুয়ারি ২০০৫, বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সিরিজ জয় যেটি)। তখন বাংলাদেশ এখনকার মতো শক্তিশালী দলে পরিণত হয়নি। ওই হার ছিল আমার ক্যারিয়ারের খুব তিক্ত একটা অভিজ্ঞতা।’

* সুখ স্মৃতি: ‘ঢাকা লিগে খেলা। যে ক্লাবে খেলেছি, সে ক্লাবে জড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর সঙ্গে পরিচয় হওয়া। সবচেয়ে আনন্দদায়ী স্মৃতি হচ্ছে মাশরাফি বিন মুর্তজার সঙ্গে ক্লাব ক্রিকেট খেলা। আমার মনে হয় তার গল্প অনেকেই জানে না। সে কিসের মধ্যে দিয়ে গেছে, সেটা জানে না।

একবার আমি মাশরাফিকে বলেছিলাম, তোমার জীবন নিয়ে একটা বই লেখা উচিত। এটা সত্যি অনুপ্রেরণাদায়ী হবে। এই মানুষটা বাংলাদেশ ক্রিকেটকে যা দিয়েছে সেটা অনেকে হয়তো জানে না। তার সঙ্গে সময় কাটানো আমার জীবনের অন্যতম আনন্দদায়ী স্মৃতি।’

মাসাকাদজা বিদায়ও নিলেন হাসিমুখে। নিজে দুর্দান্ত খেলেছেন, দল জিতেছে। ভীষণ সম্মান আর ভালোবাসা নিয়ে ছেড়েছেন মাঠ একজন খেলোয়াড়ের কাছে এটাই তো অনেক বড় পাওয়া।

সাগরিকায় এদিন ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ খেললেন মাসাকাদজা। ম্যাচ শেষে জানালেন, 'বাংলাদেশ আমার দ্বিতীয় বাড়ি।' আর দ্বিতীয় বাড়িতে অবশ্যই দারুণ কিছু মুহূর্ত রয়েছে তার।

বেশ কিছু মুহূর্তের মধ্যে মাশরাফির সঙ্গে অতিবাহিত করা সময়কেই উল্লেখ করলেন জিম্বাবুয়ের এ বিদায়ী অধিনায়ক। তবে কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতাও রয়েছে।

জিম্বাবুয়ের হয়ে বাংলাদেশের কাছে প্রথম টেস্টের হারকে সবচেয়ে বাজে অভিজ্ঞতা হিসেবে চিহ্নিত করলেন তিনি, 'তিক্ত অভিজ্ঞতা বলতে গেলে... আমি সে দলের সদস্য যে প্রথমবার বাংলাদেশের কাছে জিম্বাবুয়ের হয়ে টেস্ট হেরেছি।

এর আগে জিম্বাবুয়ে শক্তিশালী দলই ছিল। এটা আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বাজে অভিজ্ঞতা।'

এএস