শ্রীলংকার চলতি সফরে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে শেষ বলে জয়ের জন্য মাত্র তিন রান দরকার ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু শেষ বলে ক্যাচ আউট হন স্বাগতিক ব্যাটসম্যান। সেই সঙ্গে দল হেরেছিল দুই রানে। এবার দ্বিতীয় ম্যাচে শেষ বলে জয়ের জন্য মাত্র দুই রান দরকার ছিল শ্রীলংকার। কিন্তু তাদের ব্যাটসম্যান বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন। সেই সঙ্গে দলকে জিতিয়েছেন তিন উইকেটে। আর শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে প্রথম ম্যাচে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও হারল বাংলাদেশ। ফলে দুই ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজটি ছেড়ে দিতে হলো সফরকারীদেরকে।
শুক্রবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শেষ ওভারে জয়ের জন্য নয় রান দরকার ছিল লংকানদের। ফরহাদ রেজার প্রথম বলে এক রান নেন থিসারা। দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে দুটি করে রান নেন সচিত্রা সেনানায়েক। চতুর্থ বল থেকে আসে এক রান। পঞ্চম বলে থিসারা এক রান নিয়ে শেষ বলে জয়ের জন্য দুই রান দরকার হয় তাদের। সেই বলে চার রান নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেছেন সচিত্রা।
তবে প্রথম টি-টোয়েন্টির মতো এদিনও খেলাটি ছিল বাংলাদেশের পক্ষে। প্রথমে ব্যাট করে লংকানদেরকে মাত্র ১২১ রানের টার্গেট দিলেও বল হাতে প্রথমে দুর্দান্ত ছিলেন মাশরাফিরা। প্রথম উইকেটের জন্য ২৩ রান অপেক্ষা করতে হলেও মাত্র ৫০ রানেই ছয় উইকেট শিকার করেছেন তারা। তখন ১২তম ওভার চলছিল। ফলে জয়ের স্বপ্ন দেখে বাংলাদেশ। কিন্তু টেস্টের পর টি-টোয়েন্টিতেও বাংলাদেশের বোলারদের প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায় সাঙ্গাকারা। থিসারা পেরেরাকে নিয়ে ৪৬ রানের জুটি গড়ে তোলেন তিনি। সেই সঙ্গে দলকে নিয়ে যান জয়ের বন্দরের কাছাকাছি। দলীয় ৯৬ রানে রুবেল হোসাইনের বলে তামিমের তালুবন্দী হওয়ার আগে ৩৮ বলে ৩৭ রান করেন তিনি।
সাঙ্গাকারা আউট হলেও দলের জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়েন থিসারা। শেষ বল পর্যন্ত টিকে থেকে ২৮ বলে তিনটি চারে ৩৫ রান করেন তিনি। তার সঙ্গে ১২ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন সচিত্রা সেনানায়েক। এছাড়া ওপেনার কুসল পেরেরার ২১ রানই দুই অঙ্কের ঘরের স্কোর। বাংলাদেশের বোলার মাশরাফি সর্বোচ্চ দুটি উইকেট পান।
এর আগে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে ভালো সুবিধা করতে পারেনি টসজয়ী বাংলাদেশ। সাব্বির রহমানের ২৬ রান ও এনামুল হকের ২৪ রানের সঙ্গে মাশরাফির ১৭ রানে ভর করে ১২০ রান সংগ্রহ করতে পারে তারা। লংকান বোলার মালিঙ্গার তিনটি উইকেট ছাড়া দুটি করে উইকেট নেন কুলসেকারা ও সচিত্রা।
আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে তিন ম্যাচ ওয়ানডে লড়াই।