অভিষেক ম্যাচে ভারতের ব্যাটসম্যান সুরেশ রায়নার স্টাম্প এক্কেবারে ভেঙে দিলেন বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। পরের বলে অশ্বিনকেও বিদায় করে দিলেন তিনি।

এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৩৭ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৮৮ রান সংগ্রহ করেছে ভারত। ক্রিজে আছেন জাদেজা (৩০) ও ভুবনেশ্বর (০)।

বল হাতে শুরুটা দারুণ করলেও উইকেটের দেখা পায়নি বাংলাদেশের বোলাররা। মুশফিকের হাতে ক্যাচ মিস হওয়ায় আরো বেশি হতাশ হতে হয় টাইগার সমর্থকদের।

অবশেষে ১৬তম ওভারের শেষ বলে তাসকিনের বলে ধাওয়ান ক্যাচ তুললে এবার আর ভুল করেননি মুশফিক। ৩৮ বলে ৩০ রান করা ব্যাটসম্যানকে ফিরে যেতে হয় সাজঘরে।

১৮তম ওভারের দ্বিতীয় বলে বিদায় নেন ওয়ানডাউনে নামা বিরাট কোহলি (১)। এবারও নায়ক তাসকিন ও মুশফিক।

২১তম ওভারের ৫ম বলে মুস্তাফিজের বলে টাইগার নেতা মাশরাফির তালুবন্দী হন ৬৮ বলে ৬৩ রান করা রোহিত শর্মা।

২৬তম ওভারে সাকিবের হাতে বল তুলে দেন অধিনায়ক মাশরাফি। বসের মান রাখলেন বিশ্বসেরা অল রাউন্ডার। ওভারের তৃতীয় বলে ধোনিকে বিদায় করে দিলেন তিনি। মুশফিকের তালুবন্দী হয়ে মাত্র ৫ রান করেই সাজঘরে ফিরে যান সফরকারী অধিনায়ক।

রায়না ও জাদেজা প্রতিরোধ গড়ে ৬০ রান করে ফেলেন। কিন্তু মুস্তাফিজ তাদেরকে আর বাড়তে দিলেন না। ৩৭ ওভারের চতুর্থ বলে রায়নাকে (৪০) বোল্ড করে দেন তিনি। পরের বলে মুশফিকের হাতে ক্যাচ আউট হন ক্রিজে নামা অশ্বিন (০)। তাকে হ্যাটট্রিক থেকে বঞ্চিত করেন ভুবনেশ্বর।

তবে ৩৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলেই ৩২ রান করা জাদেজাকে সাজঘরে পাঠান এই পেসার। ফলে অভিষেক ম্যাচেই ৫ উইকেট তোলার রেকর্ড গড়েন তিনি।

বৃহস্পতিবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নির্ধারিত ৪৯.৪ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ৩০৭ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ।

এদিন টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ধুম-ধাড়াক্কা ব্যাটিং করতে থাকে বাংলাদেশ। প্রথম ১০ ওভারেই সংগ্রহ করে ৭৯ রান।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে ওয়ানডেতে অভিষেক হওয়া সৌম্য সরকারের দ্বিতীয় অর্ধ শতকে দলীয় শত রান পূর্ণ হয়। তবে ১৩.৪ ওভারে হাফ সেঞ্চুরি করা সৌম্য সরকার রান আউটের ফাঁদে পড়েন। সুরেশ রায়নার থ্রোয়িং করা বল সরাসরি স্টাম্পে লেগে যায়। ফলে টাইগারদের প্রথম উইকেটের পতন হয়।

তামিম ইকবালের ৩০তম ওয়ানডে অর্ধ শতকের পর বৃষ্টির কারণে খেলা সাময়িক বন্ধ হয়ে যায়। বৃষ্টির আগে ১৫.৪ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ১১৯ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।

বৃষ্টির পর মাঠে নেমে ১৭.৩ ওভারে অশ্বিনের বলে রোহিত শর্মার হাতে ক্যাচ আউট হন তামিম। মাঠ ছাড়ার আগে ৬২ বলে ৬০ রান করেন তিনি।

১৯.৪ ওভারে অশ্বিনের বলে এলবিডব্লিউ আউট হন ওয়ানডাউনে নামা লিটন দাস। ১৩ বলে মাত্র ৮ রান করেছেন অভিষিক্ত এই ব্যাটসম্যান।

২৩.৩ ওভারে অশ্বিনের বলে রোহিত শর্মার হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরে ফিরে যান ১৯ বলে ১৪ রান করা মুশফিকুর রহিম।

সাকিবের সঙ্গে ৮৩ রানের জুটি গড়ে তোলেন সাব্বির রহমান। কিন্তু ব্যক্তিগত অর্ধ শতক থেকে মাত্র নয় রান দূরে থাকতে জাদেজার বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন এই তারকা।

তবে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন অল রাউন্ডার সাকিব। ক্যারিয়ারের ২৯তম ওয়ানডে হাফ- সেঞ্চুরির পর মাঠে বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারেননি। ৬৮ বলে ৫২ রান করে উমেশ যাদবের বলে রবীন্দ্র জাদেজার হাতে ক্যাচ আউট হন তিনি।

২৭ বলে ৩৪ রান করা নাসিরও যাদবের বলে জাদেজার তালুবন্দী হন। ক্রিজে এসে রুবেল ও তাসকিন বিদায় নিলেও মাশরাফি দলের হাল ধরেন। শেষ ওভারের চতুর্থ বলে ক্যাচ আউট হওয়ার আগে ১৮ বলে ২১ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন টাইগার অধিনায়ক।

ভারতের বোলার অশ্বিন তিনটি উইকেট পান। দুটি করে উইকেট নেন যাদব ও ভুবনেশ্বর কুমার।

জেডআই