লর্ডসে মুখোমুখি ক্রিকেটের দুই পরাশক্তি-ইংল্যান্ড আর অস্ট্রেলিয়া। এই ম্যাচের ওপর অনেকটাই নির্ভর করেছে সেমিফাইনালের হিসাব-নিকেশ। আর এই ম্যাচে হেসেখেলেই ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দিলো অস্ট্রেলিয়া।
গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ে নেমে বোলাররা আশা দেখাচ্ছিলেন। কিন্তু ব্যাটিংয়ের ব্যর্থতা বড় হয়েই দেখা দিলো। স্বাগতিকদের হারতে হলো ৬৪ রানে।
এই জয়ে ৭ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়া। বাকি দুই ম্যাচে হেরে গেলেও সমস্যা হবে না। অপরদিকে সেমির স্বপ্ন ধূসর হল ইংল্যান্ডের।
বাংলাদেশ সময় আজ (২৫ জুন) মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টায় আগে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লড়াইয়ের পুঁজি পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। অ্যারন ফিঞ্চের সেঞ্চুরিতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৮৬ রান তুলেছে তারা।
আবার ব্যাটিংয়ে শুরুর দিকে ধারা ধরে শেষ পর্যন্ত রাখতে পারেনি অজিরা। তাই টার্গেটা ইংলিশদের নাগালের মধ্যেই ছিল। কিন্তু একের পর এক ব্যাটসম্যান ব্যার্থতার কাতারে যোগ দেন। এক বেন স্টোকসের ৮৯ রানের ইনিংসটি তাই নভৃতেই কাঁদছে। অজি বোলারদের তোপে পুরো ওভার খেলতেও পারেনি স্বাগতিকরা। ৪৪.৪ ওভারেই ২২১ রানে অলআউট হয় তারা।
![]()
এর আগে ব্যাটে নেমে দারুণ শুরু এনে দেন দুই অজি ওপেনার অ্যারন ফিঞ্চ এবং ডেভিড ওয়ার্নার। ২৩তম ওভারে গিয়ে সফলতা পান মইন আলি। ৫৩ রানে ওয়ার্নারকে ফিরিয়ে ১২৩ রানে ওপেনিং জুটি ভাঙেন মইন।
অধিনায়কের সঙ্গে অর্ধশত রানের পার্টনারশিপ গড়ে বিদায় নেন উসমান খাজা। বেন স্টোকসের বলে বোল্ড হওয়ার আগে তিনি করেন ২৩ রান। তবে একপাশ আগলে বিশ্বকাপের চলতি আসরে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। শতক হাঁকিয়েই জোফরে আর্চারের শিকার হন ফিঞ্চ।
এরপর ছন্দপতন হয় অস্ট্রেলিয়ার। ৩৫ ওভারে ২ উইকেটে যেখানে রান ছিল ১৮৩। সেখানে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শেষ হল ২৮৬ রানে। শেষ দিকে এসে ব্যাটিং বিপর্যয় না আসলে হয়তো আরো ২০/৩০ রান বেশি হতে পারতো।
১২ রানে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল বিদায়ের পর স্টিভ স্মিথের সঙ্গে ভুল বুঝাবুঝির কারণে রান আউট হয়ে ফেরেন মার্কাস স্টইনিশ। শেষদিকে ক্রিজে সেট হয়ে যাওয়া স্মিথকে খবই দরকার ছিল অস্ট্রেলিয়ার। কিন্তু ৩৮ রানে তাকে ফেরান ক্রিস ওকস। তবে স্লগ ওভারে ২৭ বলে ৩৮ রানের ইনিংসে খেলে দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন অ্যালেক্স কারি।
এই ম্যাচটির দিকে তাকিয়ে ছিলো বাংলাদেশও। টাইগার সমর্থকরা নিশ্চিতভাবেই চাইবেন, ইংল্যান্ড যেন এই ম্যাচে হারে। এতে সেমিতে যাওয়ার সম্ভাবনা টিকে থাকবে বাংলাদেশের।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
অস্ট্রেলিয়া একাদশ: ৫০ ওভারে ২৮৫/৭ (ফিঞ্চ ৫৩, খাওজা ২৩, স্মিথ ৩৮, ম্যাক্সওয়েল ১২, স্টয়নিস ৮, ক্যারি ৩৮*, কামিন্স ১, স্টার্ক ৪; ওকস ২/৪৬, আর্চার ১/৫৬, উড ১/৫৯, স্টোকস ১/২৯, মইন ১/৪২, রশিদ ০/৪৯)।
ইংল্যান্ড একাদশ: ৪৪.৪ ওভারে ২২১ (ভিন্স ০, বেয়ারস্টো ২৭, রুট ৮, মরগান ৪, স্টোকস ৮৯, বাটলার ২৫, ওকস ২৬, মইন ৬, রশিদ ২৫, আর্চার ১, উড ১*; বেহরেনডর্ফ ৫/৪৪, স্টার্ক ৪/৪৩, কামিন্স ০/৪১, লাওন ০/৪৩, স্টয়নিস ১/২৯, ম্যাক্সওয়েল ০/১৫)।
ফলাফল: ইংল্যান্ড ৬৪ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: অ্যারন ফিঞ্চ (অস্ট্রেলিয়া)।
এমবি





