আর্জেন্টিনাকে ম্যাচের ৯০ মিনিট পর্যন্ত আটকে রেখেছে ইরান। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি তাদের। শনিবার ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে অধিনায়ক লিওনেল মেসির গোলে জয় নিশ্চিত হয়েছে লা আলবিসেলেস্তেদের। আর এ জয়ে ‘এফ’ গ্রুপ থেকে প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলাও নিশ্চিত হয়েছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

বেলো হরিজোন্তের ঐতিহাসিক এস্তাদিও মিনেরাওয়ে ম্যাচের শুরু থেকে ডিফেন্স মজবুত রেখে সুযোগ বুঝে আক্রমণে যাওয়াটা যেন কৌশল ছিল ইরানের। অন্যদিকে আক্রমণাত্মক খেলেছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ১৩ মিনিটে ভালো একটি সুযোগ পেয়েছে তারা। ডানপ্রান্ত দিয়ে ফার্নান্দো গ্যাগোর ক্রসে বক্সে বল পেয়েছেন আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ড গঞ্জালো হিগুয়েইন। ইরানের গোলরক্ষক আলিরেজা হাজিজিকে একা পেয়েও ব্যর্থ ছিলেন তিনি। গিগুয়েইন শট নেওয়ার আগেই ঝাঁপিয়ে পড়ে বল নিজের আয়ত্তে নিয়েছেন হাজিজি।

২২ মিনিটে ফের সুযোগ এসেছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। এবার বক্সে হিগুয়েইনের ব্যাক পাসে শট নিয়েছেন সার্জিও আগুয়েরো। তার শট পাঞ্চ করে দলকে বিপন্মুক্ত করেছেন হাজিজি। ২৪ মিনিটে ডি মারিয়ার কর্নারে উড়ন্ত বলে হেড নিয়েছেন মার্কোস রোহো। তার হেডে বল সাইড পোস্ট ঘেঁষে মাঠের বাইরে চলে গেছে। ৩৩ মিনিটে ফ্রি-কিক পেয়েছে লা আলবিসেলেস্তেরা। বক্সে ঠিক বাইরে থেকে ফ্রি-কিক নিয়েছেন আর্জেন্টিনা মেসি। তার ফ্রি-কিকে বল ইরানের প্রতিরক্ষা প্রাচীর পার করলেও জাল খুঁজে পায়নি।

৩৭ মিনিটে ফের ফ্রি-কিক পেয়েছে আর্জেন্টিনা। এবার মেসির ফ্রি-কিকে হেড নিয়েছেন এজেকিয়েল গারাই। তার হেডে বল পোস্ট ছুঁয়ে মাঠের বাইরে চলে গেছে। প্রথমার্ধ শেষ হয়েছে গোলশূন্যভাবেই। এ আর্ধে অতিমাত্রায় ডিফেন্সিভ খেলেছে ইরান। ইরানিয়ান কোচ কার্লোস কুইরোজের রক্ষণাত্মক কৌশলের কাছেই মার খেয়েছে আর্জেন্টিনা।

বিরতির পর ভালো একটি সুযোগ পেয়েছে ইরান। ৫৩ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে রেজা ঘুচান্নেজাদের পোস্টমুখী শটে হেড নিয়েছে আসখান দেজাগেহ। তার হেড অসম্ভব দক্ষতার সঙ্গে রুখে দিয়েছেন আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞ গোলরক্ষক সার্জিও রোমেরো। ৬০ মিনিটে মেসির জাদুময় ফুটবলশৈলী। প্রায় মধ্য মাঠ থেকে বল নিয়ে প্রতিপক্ষের বিপৎসীমানায় ঢুকে পড়েছেন মেসি। দুই ডিফেন্ডারকে গতির লড়াইয়ে পরাস্ত করেছেন। কিন্তু বক্স থেকে নেওয়া এ অধিনায়কের শট সাইড বার ঘেঁষে মাঠের বাইরে চলে গেছে। ৬৭ মিনিটে গোল প্রায় পেয়েই গিয়েছিল ইরান। পেইমান মোন্তাজেরির ক্রসে বক্স থেকে এবারও হেড নিয়েছেন আসখান দেজাগেহ। তার হেড এবার কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেছেন সার্জিও রোমেরো।

৭৪ মিনিটে বক্সে ঠিক বাইরেই ফ্রি কিক পেয়েও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি আর্জেন্টিনা। মেসির ফ্রি কিক পোস্ট ঘেঁষে মাঠের বাইরে চলে গেছে। দুই মিনিট পরই গোলরক্ষকে একা পেয়েও ব্যর্থ হয়েছেন অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া। তিনি ইরানের গোলরক্ষক হাজিজির গায়ে শট নিয়েছেন। ৮৬ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে বল নিয়ে আর্জেন্টিনার বক্সে ঢুকে পড়েছেন রেজা ঘুচান্নেজাদ। দুই ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে বাঁ পায়ের জোরালো শট নিয়েছেন তিনি। তার শট রুখে দিয়েছেন সার্জিও রোমেরো।

 ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে কেউ আটকে রাখতে পারেনি মেসিকে। তার শট এক ডিফেন্ডারের মাথার ওপর দিয়ে জালে আশ্রয় নিয়েছে। আর এ গোলেই জয় নিশ্চিত হয়েছে আর্জেন্টিনার।

গ্যালারিতে বসে নিজ মেয়েসহ এই ম্যাচ উপভোগ করেছেন বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন ফুটবলার ও ফুটবলের জীবন্ত কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা।

নিজেদের প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে বসনিয়া হার্জেগোভিনাকে হারিয়েছে। অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে নাইজেরিয়ার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে নিয়েছে ইরান। এ ম্যাচেই শততম ম্যাচের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন জাভিয়ের মাচেরানো। চতুর্থ আর্জেন্টাইন হিসেবে এ গৌরব পেয়েছেন তিনি।

আর্জেন্টিনার কাছে হেরেও বাদ পড়বে না ইরান, বরং পরের ম্যাচে একটা সুযোগ থেকেই যাবে তাদের। ১৯৭৭ সালে একবারই দেখা হয়েছে আর্জেন্টিনা-ইরানের। বার্নাব্যুতে স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের ৭৫তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত প্রীতি ম্যাচে ১-১ গোলের ড্র করেছিল আর্জেন্টিনা-ইরান।

ঢাকা, ২২ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই