নিজেদের মাটিতে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হবে। তাই যে কোন উপায়ে দেখতে হবে অন্তত একটি ম্যাচ। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত সাহারা কাপ সিরিজের প্রথম ম্যাচের টিকিট সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়ে শুক্রবারের টিকিট সংগ্রহের জন্য স্পন্সর প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক কর্তৃপক্ষের ইউক্যাশের একাউন্ট খুলতে বাধ্য হন ইউএসটিসি’র বিবিএ বিভাগের পঞ্চম সেমিস্টারের ছাত্র তিন বন্ধু। যথারিতি তাদের একাউন্ট থেকে নির্ধারিত টিকিটের মুল্য পরিশোধ করে তারা লাভ করে টিকিট পাওয়ার নিশ্চয়তার ট্র্যাকিং নাম্বার।
কর্তৃপক্ষ ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে জানিয়ে দেয় ১৩ তারিখেই নির্ধারিত আউটলেট থেকে সংগ্রহ করতে হবে বরাদ্ধ পাওয়া টিকিট। শর্ত মেতাবেক টিকিট সংগ্রহ করতে গিয়ে তাদের চক্ষু স্থির। একটি আউটলেটেই এত ভীড়? তারপরও ক্রিকেট প্রেম বলে কথা। নির্ধারিত লাইনের ১৮শ’তম স্থান থেকে সিরিয়াল শুরু হয় সুহাইল মাহমুদ, শাহরিয়ার শাকিল ও শহিদুল আলমের। দীর্ঘ অপেক্ষা ও লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে যতই সময় যাচ্ছিল ততই হতাশা বাড়তে থাকে ওই তিন বন্ধুর। শেষ পর্যন্ত ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙ্গে যায় তাদের। টিকিট সংগ্রহের মায়া ত্যাগ করে চলে আসে তারা।
এবার মিশন ইম্পসিবলে নামে তিন বন্ধু। খুঁজে বের করে কালোবাজারীদের। তবে সেখান থেকেও কোন সুফল আসেনি। ৫০ টাকার একটি টিকিটের জন্য দাবী করা হয় ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। কিন্তু ছাত্রাবস্থায় একটি ম্যাচ দেখার জন্য এত টাকা খরচ করার সামর্থ্য তাদের ছিল না। ফলে রণে ভঙ্গ দেন তারা।
এত কিছুর পরও হতাশ হয়নি সুহাইল সাকিলরা। শুক্রবার ছুটির দিনের ম্যাচটি স্বচক্ষে দেখার সুযোগ না হলেও খেলার আমেজ থেকে নিজেদের দুরে আটকে রাখতে পারেনি তারা। ছুটে আসে সাগরিকায় অবস্থিত স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে। চীর চেনা চীনা বাদাম চিবুতে চিবুতে তারা পায়চারি করছিল স্টেডিয়ামের সামনে রাস্তায় আর উৎসুক হয়ে শুনছিল মাঠের ভেতরে প্রবেশের সুযোগ পাওয়া সৌভাগ্যবান দর্শকদের চিৎকার। ডিজিটাল বাংলাদেশের যুগে মোবাইলের বদৌলতে অবশ্য ক্ষণে ক্ষণেই তারা পেয়ে যাচ্ছিল ম্যাচের সর্বশেষ তথ্য।
এদিন ইউএসটিসির ওই ছাত্রদের মত অন্তত কয়েক হাজার উৎসুক দর্শক মাঠের বাইরের ওই রাস্তায় অবস্থান নিয়ে এভাবেই একাত্ম হয়ে গিয়েছিল ক্রিকেটের সঙ্গে। ওই দলে ছিল শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্রে (বিটাক) প্রশিক্ষণ নিতে আসা তরুণ আমিনুল, সুমন মিয়া, আলমগীর, মিজানসহ নাম না জানা আরো অনেকেই।-বাসস