ইংল্যান্ডের কাছে লর্ডস টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হারায় ক্ষেপে উঠেছে ভারতের ক্রিকেটাঙ্গণ। সাধারণ দর্শক থেকে শুরু করে সাবেক ক্রিকেটাররা মেতেছেন সমালোচনায়। এই লজ্জার হারে কোহলিদের 'হেডস্যার' রবি শাস্ত্রীকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন ভারতের সাবেক অফ-স্পিনার হরভজন সিং।
হরভজনের মতে, 'লর্ডস টেস্টে ভরাডুবির ব্যাখ্যা কোচ হিসেবে শাস্ত্রীকে আজ বা কাল দিতে হবে। প্রত্যেকের কাছে ও জবাব দিতে বাধ্য। ভারত সিরিজ হারলে তখন হয়তো ও কথা ঘুরিয়ে বললে, ইংল্যান্ডের পরিবেশেই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।'
বিরাট কোহলির নেতৃত্বে ভারত টেস্টে এত খারাপ খেলেনি। এজবাস্টনে ১৯৪ রান তাড়া করতে নেমেও চারদিনে ম্যাচ হেরেছে ভারত। আর লর্ডসে তিন দিনেই রুটবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছে কোহলি বাহিনী। ইংনিস ও ১৫৯ রানে হেরেছে ভারত। বৃষ্টির জন্য প্রায় দেড় দিন পর খেলা শুরু হলেও চতুর্থ দিনেই ম্যাচ গুটিয়ে দেয়ে ইংরেজ বোলাররা। জেমস অ্যান্ডারসন ও স্টুয়ার্ট ব্রডদের সামনে অসহায় আত্মসমপর্ণ করে কোহলি-রাহানেরা।
কিন্তু ইংল্যান্ড সফরে যাওয়ার আগে শাস্ত্রীয় বচন ছিল, 'আমাদের কাছে অ্যাওয়ে সিরিজ বলে কিছু নেই। প্রতিটি ম্যাচই আমাদের হোম গেম। আমরা প্রতিপক্ষ নিয়ে ভাবি না। আমরা পিচ দেখে খেলি। আমাদের লক্ষ্য হল পিচ জয় করে এগিয়ে যাওয়া।'
ইংল্যান্ডে ভারত পাঁচ টেস্টের সিরিজ হারলে বড় বড় কথা বলা শাস্ত্রীকে কৈয়ফিয়ৎ দিতে বলে জানান দেশের হয়ে ১০৩টি টেস্ট খেলা অফ-স্পিনার। এখনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়া ভাজ্জি দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলে সুযোগ পান না। স্কাই স্পোর্টসের ধারাভাষ্য দেওয়ার জন্য এই মুহূর্তে লন্ডনে আছেন তিনি। লর্ডসে ভারতীয় ক্রিকেটাররা লড়াইয়ের আগেই হার মেনেছে বলে মনে করেন 'টার্বুনেটর'।
ভাজ্জি বলেন, 'লর্ডসে ভারতীয় দলের লডাইয়ের কোনও ইচ্ছে চোখে পড়েনি। জেতার ইচ্ছে ছিল না। এটা অত্যন্ত হতাশজনক। প্রতিপক্ষকে কোনও চ্যালেঞ্জ না দিয়েই আমরা হেরেছি।'
ইংল্যান্ডে কোহলিদের সিরিজ জয়ের স্বপ্ন এখন বলতে গেলে অসম্ভব। কারণ ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে ইংল্যান্ডে কোহলিদের সিরিজ জয় কি সম্ভব? পরিসংখ্যান বলছে ইতিহাসে একবারই এমনটা ঘটেছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ টেস্টের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে সিরিজ জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। ১৯৩৬-৩৭ ডন ব্র্যাডম্যানের অস্ট্রেলিয়া একই ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যাশেজ জিতেছিল। কিন্তু ভারতের পক্ষে এমন কোনো রেকর্ড নেই।





