গত এক যুগ ধরে বাংলাদেশের টপ অর্ডার বিদেশের মাটিতে কতটা সংগ্রাম করেছে সেটা বোঝা এই পরিসংখ্যান দেখলেই! ২০০৯ সালের পরে আর বিদেশের মাটিতে দ্বিতীয় উইকেটে ছিল না কোনো শত রানের জুটি। অবশেষে তামিম ইকবাল ও নাজমুল হোসেন শান্ত নতুন করে লেখালেন সেই রেকর্ড।

২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংসটাউনে দ্বিতীয় উইকেটে শতরানের জুটি গড়েছিলেন তামিম ও জুনায়েদ সিদ্দিক। গতকাল (২১ এপ্রিল) তামিম ও শান্ত জুটির আগে পর্যন্ত ওটাই ছিল শেষবার। তামিম ও জুনায়েদ গড়েছিলেন ১৪৬ রানের জুটি। শান্তকে নিয়ে অবশ্য নিজেরই আগের জুটিতে পেরোতে পারেননি, থামেন ১৪৪ রানে।

পাল্লেকেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাটিং করতে নামে বাংলাদেশ। শুরুতেই বিশ্ব ফার্নান্দোর শিকার হয়ে ফেরেন সাইফ হাসান। দ্বিতীয় উইকেটে শান্তকে সাথে নিয়ে তামিম খেলতে থাকেন ওয়ানডে মেজাজে। ১০১ বলে ৯০ রান করেন তামিম। সেঞ্চুরির আক্ষেপ নিয়ে ফিরলেও এক যুগ পর বাংলাদেশের টপ অর্ডারে অবশেষে একটি স্বস্তি ফিরিয়ে দিয়ে গিয়েছেন।

উল্লেখ্য, কিংসটাউনের দ্বিতীয় উইকেটের ওই জুটির পরে উদ্বোধনী বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশে দল শতরান পেরিয়েছে আর মাত্র দুইবার। ২০১০ সালে তামিম ও ইমরুল কায়েস লর্ডসে গড়েছিলেন ১৮৫ রানের জুটি এবং একই সিরিজে ম্যানচেস্টারে ১২৬ রানের জুটি। এরপরে আর উদ্বোধনী কিংবা দ্বিতীয় উইকেটে বিদেশের মাটিতে বড় জুটি পায়নি বাংলাদেশ।

শান্ত এখনো অপরাজিত আছেন ক্রিজে। তামিমের পরে মুমিনুল হকের সাথেও শতরানের জুটি গড়েছেন তিনি। শান্ত ও মুমিনুলের জুটি অবিচ্ছিন্ন আছে ১৫০ রানে। বিদেশের মাটিতে তৃতীয় উইকেটে এটাই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জুটি। তৃতীয় উইকেটে শান্ত ও মুমিনুলের জুটির ওপরে আছে আর কেবল দুইটি জুটি, দুইটির দেশের মাটিতে। মুমিনুল ও মুশফিকুর রহিমের ২৩৬ এবং তামিম ও মুমিনুলের ১৫৭ রানের জুটি। বিডিক্রিকটাইম

বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হক (অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস (উইকেটরক্ষক), মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, আবু জায়েদ রাহী, এবাদত হোসেন, তাসকিন আহমেদ।

শ্রীলঙ্কা একাদশ: দিমুথ করুনারত্নে (অধিনায়ক), লাহিরু থিরিমান্নে, ওশাদা ফার্নান্দো, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস, ধনঞ্জয়া ডি সিলভা, পাথুম নিসাঙ্কা, নিরোশান ডিকভেলা, ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা, বিশ্ব ফার্নান্দো, সুরাঙ্গা লাকমল, লাহিরু কুমারা।

এমবি