দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন ইমরুল কায়েস। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের মধ্যে ইতিমধ্যে ২টি সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন বাংলাদেশ দলের এ ওপেনার। প্রথম ম্যাচে ঢাকায় সেঞ্চুরি (১৪৪) করা কায়েস, গত বুধবার চট্টগ্রামে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মাত্র ১০ রানের জন্য শতরান করতে পারেননি। ফেরেন ৯০ রান করে।

আজ (২৬ অক্টোবর) শুক্রবার চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সিরিজের শেষ খেলায় তুল নিয়েছেন সেঞ্চুরি। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৭৬তম ম্যাচে ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন কায়েস। ওয়ানডেতে তার ১৬টি ফিফটি রয়েছে। 

ওয়ানডে ক্রিকেটে পাশাপাশি টেস্টও সফল কায়েস। সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ৩৪ ম্যাচ খেলে ৩টি সেঞ্চুরি এবং ৪টি ফিফটির সাহায্যে ১ হাজার ৬৭৯ রান করেছেন ইমরুল।

জিততে হলে ২৮৭ রান করতে হবে বাংলাদেশকে। এই লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই কিছুটা চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। আগের ম্যাচেই দুর্দান্ত খেলা ওপেনার লিটন দাস ইনিংসের প্রথম বলেই আউট হয়ে সাজঘরে ফিরেন। 

তবে দ্বিতীয় উইকেট জুটির দৃঢ়তায় সে ধাক্কা সামলে দলকে জয়ের পথ দেখান দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ইমরুল কায়েস ও সৌম্য সরকার।  অবশ্য সেঞ্চুরি করেই সাজঘরে ফিরেন সৌম্য। 

আজ (২৬ অক্টোবর) চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৩৮ ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে ২৭২ রান করে। ইমরুল কায়েস (১১৫) ও মুশফিকুর রহিম (১৯) রানে ব্যাট করছেন।  

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের দলেই ছিলেন না। প্রস্তুতি ম্যাচে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করে দলকে জেতালেও তাই প্রথম-দুই ওয়ানডেতে সুযোগ হয়নি সৌম্য সরকারের।

সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে হঠাৎ সুযোগ পেলেন। সেঞ্চুরি দিয়েই প্রত্যাবর্তনটা উদযাপন করলেন সৌম্য সরকার। 

৮১ বলেই সেঞ্চুরি ছুঁলেন সৌম্য। যেটি তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয়। সেঞ্চুরির পথে ৪টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন বাঁহাতি এই ড্যাশিং ওপেনার। ৪ মেরেছেন ৯টি। 

সৌম্যর সেঞ্চুরি মানেই বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের পসরা। ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিটা করেছিলেন পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০১৫ সালে। সেটাও ছিল মাত্র ৯৪ বলে। এবার করলেন ৮১ বলে।

৯২ বলে ১১৭ রানে আউট হন সৌম্য। ৯টি চারের পাশে হাঁকিয়েছেন ৬টি ছক্কা। সেঞ্চুরির পর সিকান্দার রাজার এক ওভারেই দুটি ছক্কা হাঁকিয়েছেন তিনি। 

এর আগে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে সফরকারী জিম্বাবুয়ে ২৮৬ রান করে শন উইলিয়ামসের ষেঞ্চুরি ও ব্রেন্ডন টেইলরের চমৎকার ব্যাটিং দৃঢ়তায়। অবশ্য তাদের শুরুটা ভালো হয়নি। ইনিংসের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ওভারে হ্যামিল্টন মাসাকাদজা (২) ও সিফাস জুয়াও (০) দ্রুত সাজঘরে ফিরে যান।

তবে তৃতীয় ও চতুর্থ উইকেট জুটিতে দলকে এগিয়ে নেওয়ার পথে দারুণ ভূমিকা রাখেন ব্রেন্ডন টেইলর ও সিকান্দার রাজা। টেইলর ৭৫ ও রাজা ৪০ রান করে সাজঘরে ফিরলেও উইলিয়ামস শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে দলকে এগিয়ে নিতে মূল ভূমিকা রাখেন। 

উইলিয়ামস ১৪৩ বলে ১২৯ রানের চমৎকার একটি ইনিংস খেলেন। যাতে ১০ টি চার ও ১টি ছক্কার মার রয়েছে।  আর মুর ২১ বলে ২৮ রান করেন। 

বাংলাদেশের কোনো বোলারই জিম্বাবুয়ের ব্যাটিংয়ে খুব একটা চাপ প্রয়োগ করতে পারেনি।  নাজমুল ইসলাম অপু ৫৮ রানে দুটি এবং সাইফউদ্দিন ও আবু হায়দার রনি একটি করে উইকেট পান।

বাংলাদেশ একাদশ: মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), লিটন দাস, ইমরুল কায়েস, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, সৌম্য সরকার, আরিফুল হক, মোহাম্মদ মিঠুন, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, আবু হায়দার রনি ও নাজমুল ইসলাম অপু।

জিম্বাবুয়ে একাদশ: হ্যামিল্টন মাসাকাদজা, সিফাস জুয়াও, এল্টন চিগুম্বুরা, ব্রেন্ডন টেইলর, শন উইলিয়ামস, পিটার মুর, সিকান্দার রাজা, ডোনাল্ড টিরিপানো, ওয়েলিংটন মাসাকাদজা, কাইল জার্ভিস, রিচার্ড এনগারাভা।

এমবি