অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাট করছে বাংলাদেশ। তবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়েছে জুনিয়র টাইগাররা।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৩৪ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ১৪১ রান। মেহেদী হাসান মিরাজ ২৮ ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ১১ রান নিয়ে ব্যাট করছেন। ফিরে গেছেন জাকির হাসান (২৪), জয়রাজ শেখ (৩৫), নাজমুল হোসেন শান্ত (১১), সাইফ হাসান (১০), পিনাক ঘোষ (০)।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কুয়াশায় ঢাকা ছিল মিরপুরের শের বাংলা স্টেডিয়াম। এর মাঝেই সবাইকে অবাক করে দিয়ে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।
ম্যাচের আগে থেকেই বলা হচ্ছিল, ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেস আক্রমণ সামলানোই হবে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ব্যাটিংয়ে নেমে সেই চ্যালেঞ্জ নিতে বাংলাদেশের উদ্বোধনী দুই ব্যাটসম্যান ব্যর্থই বলা যায়।
ইনিংসের প্রথম ওভারেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের সবচেয়ে গতিময় বোলার আলজারি জোসেপের একটি বাউন্সার বল পুল করতে গিয়েছিলেন পিনাক ঘোষ, কিন্তু ব্যাটে-বলে এক করতে পারেননি।
বল সোজা আঘাত হানে পিনাকের হেলমেটে। মাঠে ফিজিরও থেকে সেবা-শুশ্রূষাও নিতে হয় তাকে।
পরের ওভারেই আরেক পেসার চেমার হোল্ডারের শর্ট বলে শট খেলতে গিয়ে থার্ডম্যানে ক্যাচ দেন পিনাক। এদিন রানের খাতাই খুলতে পারেননি এই বাঁহাতি।
ভালো করতে পারেননি তার উদ্বোধনী জুটির সঙ্গী সাইফ হাসানও। দলীয় ২৭ রানে জোসেপের বলে স্কয়ার লেগে গুডলিকে ক্যাচ দেন সাইফ (১০)।
শুরুতেই উদ্বোধনী দুই ব্যাটসম্যানকে হারানোর পর তৃতীয় উইকেট জুটিতে জয়রাজ শেখ ও নাজমুল হোসেন শান্ত মিলে প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ৩১ রানের বেশি স্থায়ী হয়নি এ জুটিও। আরেক পেসার রায়ান জনের বলে শিমরন হেটমায়ারকে ক্যাচ দেন শান্ত। এদিন শান্তর ব্যাট থেকে আসে ১১ রান।
৫৮ রানেই ৩ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর জাকির হাসানকে নিয়ে প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন জয়রাজ। ধীরগতিতে রান তুললেও দুজন দলকে একটু একটু করে এগিয়ে নিচ্ছিলেন।
কিন্তু দলীয় ৮৮ রানে পেসার শামার স্প্রিঙ্গারের একটি স্লোয়ার বল জয়রাজের ব্যাটে লেগে স্টাম্প ভেঙে দেয়, বোল্ড। ৫৪ বলে ৫টি চারের সাহায্যে ৩৫ রান করেন জয়রাজ।
বৈশ্বিক কোনো টুর্নামেন্টে এবারই প্রথম সেমিফাইনাল খেলছে বাংলাদেশ। আগের ম্যাচের একাদশ থেকে বাংলাদেশ দলে একটি পরিবর্তন এসেছে। বাঁহাতি স্পিনার আরিফুল ইসলাম জনির পরিবর্তে বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো সুযোগ পেয়েছেন মোসাব্বেক হোসেন সান।
পরিসংখ্যান বলছে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের যুবাদের বিপক্ষে আজ বাংলাদেশই ফেবারিট। সাম্প্রতিক সাফল্য আর ঘরের মাঠের সুবিধা-সব দিক দিয়েই এগিয়ে আছেন মেহেদীরা।
যুব ওয়ানডেতে এখন পর্যন্ত ১৭ বার মুখোমুখি হয়ে ১২ বার জিতেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯। যুব বিশ্বকাপের পরিসংখ্যানেও এগিয়ে বাংলাদেশই। তিনবার মুখোমুখি হয়ে দুবার জিতেছে বাংলাদেশ। তা ছাড়া বিশ্বকাপের আগে তিন ম্যাচের সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশ করে মেহেদীর দল।
এমকে





