চার বছর আগে সুইসরা চমকে দিয়েছিল স্পেনকে। এবার ডাচরা দিল হতভম্ব করে। চমক সামাল দিয়ে যদি চ্যাম্পিয়ন হওয়া যায়, তাহলে হতভম্ব ভাব সামলে নয় কেন! বাংলাদেশ সময় বৃহষ্পতিবার রাত একটায় চিলির বিপক্ষে মারাকানার লড়াইয়ে শুরু হচ্ছে ‘লা রোজা’দের সেই কক্ষপথে ফেরার অভিযান। ‘তিকি-তাকা’র মৃত্যুঘণ্টা সত্যি বেজে উঠেছে কিনা, সেই চূড়ান্ত পরীক্ষাটাও হয়তো হয়ে যাবে ফুটবল তীর্থে এই দ্বৈরথে।
২০১০ বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের কাছে হারের পর শান্ত-স্থির ছিলেন ভিসেন্তে দেল বস্কে। এবারও তাঁর সৌম্য চেহারার অভিব্যক্তিতে পরিবর্তন আসেনি কোন। ডাচদের কাছে ১-৫ গোলে হেরে যাওয়ার পর যেভাবে বেঞ্চে বসে থাকা শিষ্যদের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছিলেন, আস্থা না হারানোর প্রমাণ ছিল তাতে। এতটাই যে বিধ্বংসী হারের পর একাদশের খোলনলচে বদলে ফেলার ‘জনদাবি’তেও কর্ণপাত করছেন না বস্কে। হ্যাঁ, সময়ের প্রয়োজন মেনে পরিবর্তন হয়তো করবেন।
তবে সেটি দলের প্রয়োজনে বলেই জানিয়েছেন তিনি, ‘আমরা হয়তো একাদশে দুই-তিনটি পরিবর্তন করতে পারি। তবে এর অর্থ এমন নয়, কারো দিকে আঙ্গুল তুলে আমি দোষারোপ করছি। খেলোয়াড়দের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই, ওদের প্রতি আমার ভালোবাসা আছে। তবে দলের গুরুত্ব সব সময়ই ওই ভালোবাসার চেয়ে বেশি।’

পরিবর্তনের খড়গ নেমে আসার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি ছিল ইকের কাসিয়াসের উপর। সেরা সময় পিছু ফেলে আসা এই গোলরক্ষককে ভীষণ নড়বড়ে লেগেছে প্রথম ম্যাচে। তবে অধিনায়কের উপর আরো এক ম্যাচ হয়তো আস্থা রাখবেন কোচ। একাদশে বায়ার্ন মিউনিখে জাবি মার্তিনেসের ঢোকাটা প্রায় নিশ্চিত। সেটি সেন্ট্রাল ডিফেন্সে সের্হিয়ো রামোস অথবা জেরার্দ পিকের জায়গায় নাকি সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে জাবি আলোনসোর স্থানে, দেখার বিষয় সেটিই। তিকি-তাকা অর্কেস্ট্রার 'কন্ডাক্টর' জাভি হার্নান্দেসকেও হয়তো ছেড়ে দিতে হবে জায়গা। উত্তরসূরি হিসেবে যাকে দেখা হচ্ছে সবচেয়ে প্রতিশ্রুতিশীল হিসেবে, সেই কোকে নেবেন তার জায়গা।
স্পেনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে চিলির বিপক্ষে ভালো করার প্রত্যয় ঝরছে আতলেতিকো মাদ্রিদে খেলা এই মিডফিল্ডারের কণ্ঠে, ‘প্রথম ম্যাচের ফল আমাদের প্রত্যাশানুযায়ী হয়নি। তবে আমরা এখন দ্বিতীয় ম্যাচ খেলার জন্য মুখিয়ে আছি। চিলি কঠিন প্রতিপক্ষ। সেখানে আমাদের নিজেদের মতো খেলাটা হবে গুরুত্বপূর্ণ।’
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয় দিয়ে বিশ্বকাপটা ভালোভাবেই শুরু হয়েছে চিলির। চার বছর আগে স্পেনের গ্রুপেই ছিল তারা। বেশ ভালো খেলেও ম্যাচটি তারা হেরে যায় ১-২ গোলে। আর শুধু সেই ম্যাচ কেন, স্পেনের বিপক্ষে কখনোই তো জিততে পারেনি লাতিন আমেরিকার দলটি। ১০ বারের মুখোমুখিতে দুই ড্রই চিলির সবচেয়ে ভালো ফল। আর ২০০৮ সালে দেল বস্কের দায়িত্ব নেওয়ার পর কখনোই টানা দুই ম্যাচ হারেনি স্পেন। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচের ফল দুই রকম হতে পারে, তবে এসব রেকর্ড-পরিসংখ্যান সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, বৃহষ্পতিবারের লড়াইয়ে ফেভারিট বিশ্বচ্যাম্পিয়নরাই।
তবে ওই যে পা হড়কে বেকায়দায় আছে স্পেন, সেটিই চিলির আশার জায়গা। ফরোয়ার্ড এস্তাবেন পারেদেস সেটি মনে করিয়ে দিয়ে জয়ের জন্য ঝাঁপানোর লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন, ‘এই ম্যাচটি ওদের জন্য হবে জীবনমরণের ব্যাপার। আমাদের জন্যও ফাইনালতুল্য। কেননা এখানে জিতলে আমাদের নকআউট পর্ব নিশ্চিত হয়ে যাবে প্রায়। আমরা তাই ড্রয়ের কথা ভাবছি না। জয়ের জন্যই নামব মাঠে।’ স্পেন যেমন তাদের তিকি-তাকা দর্শনে আস্থা রাখছে, তেমনি চিলির খেলার ধরনও পাল্টাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তিনি, ‘আমরা প্রেসিং গেম নিয়েই কাজ করছি। প্রতিপক্ষকে আমাদের মতো কেউ প্রেস করে না। স্পেনের বিপক্ষেও তাই করব।’
ওই ‘প্রেসিং’ ফুটবলেই স্পেনকে বিশ্বকাপ থেকে ঠেলে বের করে দেওয়ার মিশন নিয়ে মারাকানায় নামবে চিলি। আর স্পেনের লক্ষ্য থাকবে তিকি-তাকার ছন্দে ফেরার, বিশ্বকাপের মঞ্চে জয়ের ধারায় প্রত্যাবর্তনের।
ঢাকা, ১৮ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই





