অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত জাতীয় সংসদে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জন্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অনুন্নয়ন ও উন্নয়ন ব্যয় মিলিয়ে সর্বমোট ৭৯৫ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছেন।
এর মধ্যে উন্নয়ন খাতে ৩০৫ কোটি টাকা এবং অনুন্নয়ন খাতে ৪৯০ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। এবারের বাজেটে এই মন্ত্রণালয়ের রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৫১৬ কোটি ৮২ লাখ ১০ হাজার টাকা।
২০১৩-১৪ অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটে উন্নয়ন খাতের পরিমাণ ছিল ৩১৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকা এবং অনুন্নয়ন খাতের পরিমাণ ছিল ৫১৬ কোটি ৩৪ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে গত অর্থ বছরে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সংশোধিত বাজেট এর পরিমান ছিল ৮৩০ কোটি ৩২ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। অর্থাৎ এবারের প্রস্তাবিত বাজেট গত বছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ৩৫ কোটি ৩২ লাখ ৩৭ হাজার টাকা কম। ওই অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেট ছিল ৭০৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।
এবারের বাজেটে সমাজকল্যাণ, যুব প্রশিক্ষণ ও যুব পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপন ও যুব উন্নয়ন খাতে চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে ১৯৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। যা ব্যয় করা হবে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে। আর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মাধ্যমে ক্রীড়ার বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য বাজেট রাখা হয়েছে ৬৯ কোটি ২০ লাখ টাকা। এছাড়া বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রকল্প খাতে বাজেট ধরা হয়েছে ৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের জন্য প্রস্তাবকৃত অর্থ ব্যয়ের খাতগুলো হচ্ছে পুরাতন যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর অসমাপ্ত কাজ সমাপ্তকরণ প্রকল্পের জন্য ২৮ কোটি ৮ লাখ টাকা, ১১টি জেলায় নতুন করে যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন বাবদ ৮১ কোটি ৮ লাখ টাকা, কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ‘উপজেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদারকরণ প্রকল্পের জন্য ২৫ কোটি টাকা এবং উত্তরবঙ্গের ৭টি জেলায় বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি’ বিষয়ক প্রকল্পের জন্য ৪৯ কোটি ২০ লাখ টাকা, সুবিধাবঞ্চিত যুব কিশোর-কিশোরীদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের জন্য ৫ কোটি ৯৫ লাখ টাকা, যুবকদের জন্য বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ ও স্বাস্থ্য পরিচর্যা কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের জন্য ৪ কোটি ২৪ লাখ টাকা।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) জন্য প্রস্তাবকৃত অর্থ ব্যয়ের খাতগুলো হচ্ছে সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়ামে উন্নীতকরণের লক্ষ্যে ১২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, দেশের বিদ্যমান জেলা স্টেডিয়ামসমূহের সংষ্কার ও উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ৫৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, চুয়াডাঙ্গা ও হবিগঞ্জে দুটি নতুন জেলা স্টেডিয়ামসহ ময়মনসিংহ, নাটোর, টাঙ্গাইল ও ফরিদগঞ্জে এবং খুলনা ও রাজশাহী মহিলা ক্রীড়া কমপ্লে¬ক্স-এর অধিকতর উন্নয়ন খাতে ৬৯ কোটি ২০ লাখ টাকা।
বিকেএসপির জন্য প্রস্তাবকৃত খাতগুলো হচ্ছে বিকেএসপিতে বিদ্যমান ক্রীড়া সুবিধাবলীর অধিকতর উন্নয়ন ও তৃণমুল পর্যায়ে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ ও নিবিড় প্রশিক্ষণ প্রকল্পের জন্য ১ কোটি ২৮ লাখ টাকা এবং সেখানে বিদ্যমান হকি টার্ফ প্রতিস্থাপন ও স্থাপনাসমূহের উন্নয়ন ও সংস্কার প্রকল্পের জন্য ৩ কোটি ৩১ লাখ টাকা।
অর্থমন্ত্রী বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত বাজেট বক্তৃতায় বলেন, আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন ও ক্রীড়া ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আমাদের সাফল্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হয়েছে। ২০১১ বিশ্বকাপ ক্রিকেট আয়োজনের ধারবাহিকতায় এবার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই সফলভাবে এশিয়া কাপ ও আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন করেছি। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ভবিষ্যতেও এই ধরনের বড় বড় টুর্নামেন্ট আয়োজনের মাধ্যমে ক্রীড়ামনস্ক সুস্থ জাতি গঠনের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখার জন্য খেলোয়াড়দের মানোন্নয়নে বিশেষ মনোযোগ এবং দক্ষ প্রশিক্ষক নিয়োগ দেবার বিষয় সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী আলোকপাত করেন। এ ছাড়া তিনি আরো বলেন, সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় খেলাধুলা প্রসারে বিভিন্ন জেলায় খেলাধুলার সরঞ্জাম প্রদান, মাঠ সংষ্কার ও স্টেডিয়াম সংষ্কার ও নির্মানের কাজ চলমান থাকবে। একইসাথে ক্রীড়া সংগঠনগুলোতে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেবার ইঙ্গিত দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। উপজেলা পর্যায়ে খেলার মাঠ নির্দিষ্ট করার কাজে হাত দেয়া হবে, তবে তার মতে ব্যয়বহুল স্টেডিয়াম নির্মাণ পরিহার করতে হবে। এ জন্য তিনি ৫০ কোটি টাকার একটি থোক বরাদ্দের প্রস্তাব করেন। সূত্র:বাসস
ঢাকা, ৫জুন (টাইমনিউজবিডি) //জেডআই
খেলা
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের জন্য ৭৯৫ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত জাতীয় সংসদে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জন্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অনুন্নয়ন ও উন্নয়ন ব্যয় মিলিয়ে সর্বমোট ৭৯৫ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছেন।





