লুক রনকি ও সৌম্য সরকারের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ৮ ওভার শেষে চিটাগং ভাইকিংসের রান ১ উইকেটে ৮০। ১৮০ প্লাস কিংবা ২০০ ছুঁই ছুঁই রান তখন সময়ের ব্যাপারই মনে হচ্ছিল। কিন্তু ইনিংসের শেষ ধাপে খেই হারিয়ে ফেলে চিটাগং।

শুরুর হতাশা কাটিয়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বোলাররাও দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। ফলে কুমিল্লাকে সর্বসাকূল্যে ১৪৪ রানের লক্ষ্য দিতে সক্ষম হয় বন্দর নগরীর দলটি।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। দারুণ শুরুর পর তালগোল পাকিয়ে ফেলা চিটাগং ভাইকিংস নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৪৩ রানে আটকে যায়। প্রথম ৮ ওভারে ৮০ রান করা দলটি শেষ ১২ ওভারে করে মাত্র ৬৩ রান।

চিটাগংয়ের হয়ে রনকি ২১ বলে চারটি চার ও তিনটি ছক্কায় সর্বোচ্চ ৪০ রান করেন। সৌম্য খেলেন ৩৩ বলে ৩৮ রানের ইনিংস। এছাড়া দিলশান মুনারাবিরা করেন ২১ রান। সিকান্দার রাজা ১৩ বলে ১৮ রান করলেও এনামুল হক বিজয় (৩), মিসবাহ-উল-হক (৬), লুইস রিকি (৯) ব্যাট হাতে ব্যর্থতার পরিচয় দেন।

কুমিল্লার সফলতম বোলার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ৪ ওভারের স্পেলে ২৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন তিনি। এছাড়া ডোয়াইন ব্রাভো দুটি এবং আল-আমিন ও মোহাম্মদ নবীন নেন একটি করে উইকেট। আফগান স্পিনার মোহাম্মদ রশিদ কোনো উইকেট না পেলেও ৪ ওভারে দেন মাত্র ২১ রান।

উদ্বোধনী জুটিতে রনকি ও সৌম্য মিলে ৩৫ বলে ৬৩ রানের ঝোড়ো জুটি গড়লে মজবুত ভিত পায় চিটাগং ভাইকিংস। এরপর সৌম্য ও মুনারাবিরার জুটিতে বড় সংগ্রহের পথে হাঁটতে থাকে বন্দরনগরীর দলটি। তবে এরপরই ছন্দপতন ঘটে দলটির।

দ্বাদশ ওভারের পঞ্চম বলে মুনারাবিরার আউট হওয়ার মধ্য দিয়ে চিটাগংয়ের পতনের শুরু। ১৪তম ওভারের তৃতীয় বলে ফিরে যান দারুণ খেলতে থাকা সৌম্যও। সাইফউদ্দিনের বলে বোল্ড হন এই বাঁহাতি ওপেনার।

পরপর দুই উইকেট তুলে নিয়ে অনেকটাই উজ্জীবিত হয়ে ওঠে কুমিল্লা। আল-আমিন, ব্রাভো ও রশিদদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শেষদিকে রান তুলতে হিমশিম খেতে থাকে চিটাগং। ফলে ১৫০ রানের আগেই আটকে যায় দলটি।

নিজেদের প্রথম ম্যাচে সিলেট সিক্সার্সের কাছে হেরে যায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। অন্যদিকে বিপিএলের পঞ্চম আসরে চিটাগংয়ের এটাই প্রথম ম্যাচ।

এমএ