দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও ব্যাট হাতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। ফলে ৩১ রানের ব্যবধানে পরাজয়ের সঙ্গে ২-০তে সিরিজও হেরেছে তারা।
মঙ্গলবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে মাত্র ৪ উইকেট হারিয়ে ১৬৯ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাবে ১৩৮ রান সংগ্রহ করে ৪ বল হাতে থাকতে অল আউট হয়ে যায় বাংলাদেশ।
ব্যাট হাতে শুরুতে আশার আলো দেখালেও শেষ পর্যন্ত ছন্দ ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। ছন্দ পতন শুরু হয় ষষ্ঠ ওভারে পারনেলের পঞ্চম শেষ বলে উইসির হাতে তামিমের ক্যাচ আউট দিয়ে। তামিম (১৩) বিদায় নিলে ভেঙে যায় ৪৬ রানের উদ্বোধনী জুটি। পরে কেউ আর আশা জাগানিয়ে জুটি গড়তে পারেনি।
সপ্তম ওভারে ইডি লেইর পঞ্চম বলটি সামনে এগিয়ে মারতে গিয়ে উইকেটরক্ষক ডি ককের হাতে স্টাম্পিংয়ের শিকার হন সৌম্য। মাঠ ছাড়ার আগে ২১ বলে ৬টি চার ও একটি ছক্কায় ৩৭ রান করেন তিনি।
১১তম ওভারে ফাঙ্গিসোর প্রথম বলে রুশোর হাতে সাকিব (৮) আউট হওয়ার পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
১২তম ওভারে ইডি লেই চতুর্থ ও পঞ্চম বলে দুটি উইকেট শিকার করেন। সাব্বিরের (১) পর বিদায় নেন মুশফিক (১৯)। পরের ওভারে রানের খাতা খোলার আগে সাজঘরে ফেরেন নাসির।
শেষের দিকে রনি তালুকদারের ২২ বলে ২১ রান ও মাশরাফির ৮ বলে ১৭ রানই ছিল উল্লেখ করা মতো স্কোর।
দক্ষিণ আফ্রিকার বোলার অ্যাবোট, লেই ও ফাঙ্গিসো তিনটি করে উইকেট পান। বাকি উইকেটটি শিকার করেন পারনেল।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকে বাংলাদেশের বোলারদের উপর খড়গহস্ত ছিল প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানরা। উদ্বোধনী জুটির ডি কক ও ডি ভিলিয়ার্স একের পর এক বল বাউন্ডারি আর ওভার বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে রানের পাহাড় গড়ার দিকে এগিয়ে যান। মাত্র ৬ ওভারে দলীয় রান হাফ-সেঞ্চুরি পার করে। সমান তালে ব্যাট করে ১০ ওভারে সেঞ্চুরির কাছাকাছি নিয়ে যান তারা।
কিন্তু এই জুটিকে সেঞ্চুরি পূর্ণ করতে দিলেন না আরাফাত সানি। ১১তম ওভারের তার তৃতীয় বলে ডি কক ক্যাচ তুলে দিলে সেটা লুফে নিতে ভুল করেননি সাব্বির রহমান। এতে ভেঙে যায় প্রোটিয়াদের ৯৫ রানের উদ্বোধনী জুটি। মাঠ ছাড়ার আগে ৩১ বলে চারটি চার ও দুটি ছক্কায় ৪৪ রান করেন ডি কক।
১২তম ওভারে জোড়া আঘাত হানেন নাসির হোসাইন। দ্বিতীয় বলে ডুমিনি (৬) ক্যাচ আউট হন সাকিবের হাতে। পরের বলে মুশফিকের তালুবন্দী হন ডি ভিলিয়ার্স। ৩৪ বলে ছয়টি চারে ৪০ রান করেন উদ্বোধনী জুটির এই ব্যাটসম্যান।
১৮তম ওভারে মুস্তাফিজের চতুর্থ বলে মুশফিকের হাতে ক্যাচ আউট হন ডু প্লেসিস। মাঠ চাড়ার আগে ১৭ বলে ১৬ রান করেছেন তিনি।
মাঝখানে উইকেট হারিয়ে রানের গতি কমে গেলেও শেষ দুই ওভারে বোলারদেরকে বেধড়ক পিটিয়েছেন মিলার ও রিলি রুশো। ১৯তম ও ২০তম ওভারে যথাক্রমে ১৯ রান ও ১৩ রান নিয়েছেন তারা। মিলার ২৮ বলে ৩০ রান ও রুশো ৬ বলে ১৯ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন।
জেডআই





