ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় দিনটি বাংলাদেশের সবচেয়ে ব্যর্থ দিনের একটি। বল হাতে সাফল্য না পাওয়া দলটি ব্যাট হাতেও চরমভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় দিনের শেষ বিকালে ব্যাট করতে নেমে ২৭.৫ ওভার ব্যাট করে ১০৭ রান সংগ্রহ করতেই হারিয়েছে ৫টি উইকেট।

খুলনা টেস্টে নিজেদের প্রথম ইনিংসের মতো এবারও দিনের এক বল বাকি থাকতে একটি উইকেট হারাল বাংলাদেশ। সেবার শক্ত অবস্থানে থাকলেও এবার চরম বিপদে স্বাগতিকরা।

প্রথম দিনের ৩২৩ রানে তিন উইকেট নিয়ে খেলা শুরু করা পাকিস্তান আযহার আলীর প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিতে ৮ উইকেটে ৫৫৭ রান সংগ্রহ করে নিজেদের প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে।

জবাবে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশের তামিম ও ইমরুল। আগের ম্যাচে তামিমের ডাবল সেঞ্চুরি ও ইমরুলের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে বেকায়দা পড়েছিল পাক বোলাররা।

এদিন ইনিংসের উদ্বোধনী ওভারের জুনায়েদ খানের চতুর্থ বলেই তামিমকে এলবিডব্লিউ আউট দেন আম্পায়ার পল রেইফেল। রিভিউ নিলে দেখা যায়, একেবারে সামান্যই লেগ স্টাম্পে লাগত বলটি। তবে জীবন ফিরে পায়নি তামিম।

নবম ওভারে আবার আঘাত হানেন জুনায়েদ। এবার মুমিনুল হককে উইকেটরক্ষক সরফরাজ আহমেদের ক্যাচে পরিণত করেন তিনি।

১৮তম ওভারে ৩২ রান করা ইমরুল কায়েসকে সরাসরি বোল্ড করে দেন পাকিস্তানের ইয়াসির শাহ।

২১তম ওভারে ওয়াহাব রিয়াজের চতুর্থ বলে সোজা আকাশের দিকে ক্যাচ তুলে দেন মাহমুদুল্লাহ। সেটা লুফে নিয়ে ২৮ রান করা এই ব্যাটসম্যানকে বিদায় করে দেন আযহার আলী।

সাকিব ও মুশফিক দিনটি পার করার চেষ্টা করেন। কিন্তু মুশফিককে এলিবডব্লিউ আউট দেন আম্পায়ার। ব্যাট বল লাগায় রিভিউ নিয়ে প্রাণ ফিরে পান তিনি।

তবে শেষ রক্ষা হয়নি। দিনের শেষ ওভারের পঞ্চম বলে ইয়াসির শাহ বোল্ড করে দেন ১২ রান করা মুশফিককে।

পাকিস্তানের বোলার জুনায়েদ খান ও ইয়াসির শাহ দুটি করে উইকেট পান। একটি উইকেট পান ওয়াহাব রিয়াজ।

ব্যক্তিগত ১৪ রান নিয়ে তৃতীয় দিনে ব্যাট করতে নামবেন সাকিব।

এর আগে আযহার আলীর ২২৬, ইউনিস খানে ১৪৮ ও আসাদ শফিকের ১০৭ রানের সুবাদে বড় স্কোর দাড় করায় পাকিস্তান।

বাংলাদেশের বোলার তাইজুল ইসলাম তিনটি, শুভাগত হোম ও মোহাম্মদ শহীদ দুটি করে ও সাকিব আল হাসান একটি উইকেট পান।

প্রথম টেস্টটি ড্র হওয়ায় এই ম্যাচটিতে জয়ী দলই সিরিজ জিতবে। আর এ ম্যাচটি ড্র হলে সিরিজটি ভাগাভাগি করে নিতে হবে।

জেডআই