গত ১৮ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মত লা লিগার শিরোপা জয়ের খুব কাছাকাছি চলে এসেছে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ। শুক্রবার ঘরের মাঠ ভিসেন্টে ক্যালডেরনে এলচের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় তুলে নেবার পরে সেই সম্ভাবনা আরো জোরালো হয়েছে।
যদিও ম্যাচের প্রথমার্ধটা স্বাগতিকদের মোটেই ভাল কাটেনি। তার উপর বিরতির পরে ১০ মিনিটে ডেভিড ভিয়ার স্পট কিক এলচের গোলরক্ষক মানু হেরেরা আটকে দিলে দারুণ এক সুযোগ নষ্ট করে অ্যাথলেটিকো। শেষ পর্যন্ত ৭১ মিনিটে হোসে সোসার ক্রস থেকে মিরানডা হেডের সাহায্যে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। ম্যাচের ইনজুরি টাইমে দিয়েগো কস্তা অ্যাথলেটিকোর পক্ষে দ্বিতীয় পেনাল্টি থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করলে দলের জয় নিশ্চিত হয়। এই পেনাল্টিতে এলচের ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান সাপুনারুকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের কারণে মাঠের বাইরে চলে যেতে হয়।
এই জয়ে রিয়াল মাদ্রিদের থেকে সুষ্পষ্ট ছয় পয়েন্টে এগিয়ে গেল টেবিলের শীর্ষে থাকা অ্যাথলেটিকো। লস রোজিব্ল্যাঙ্কোসদের এখন মূল দায়িত্ব মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের প্রথম লেগে চেলসির বিপক্ষে ম্যাচে নিজেদের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। ম্যাচ শেষে অ্যাথলেটিকো বস দিয়েগো সিমন বলেছেন, ‘খেলোয়াড়রা দারুণ খেলেছে। এখন আমাদের মঙ্গলবারের ম্যাচের আগে নিজেদের পুরোপুরি প্রস্তুত করে তুলতে হবে। এটা ক্লাবের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ম্যাচ। বিশেষ করে ক্লাবের সমর্থক, ইতিহাস সবকিছুই ম্যাচটির ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছে।’
যদিও ম্যাচটিকে সামনে রেখে একটি বিষয় অ্যাথলেটিকোকে ভাবিয়ে তুলেছে। চুক্তি সংক্রান্ত জটিলতায় দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় গোলরক্ষক থিবাট কোরটোয়িসের উপস্থিতি নিয়ে সংশয় রয়েছে। শুক্রবারও এই বেলজিয়ান আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় দূর্দান্ত দুটি গোল আটকে দিয়ে দলকে রক্ষা করেছেন। জাভি মারকুয়েজ এবং সাপুনারুর দুটি প্রচেষ্টা গোলে পরিণত হলে ম্যাচের ভাগ্য হয়ত পাল্টে যেতে পারতো। যদিও সিমন আশাবাদী চুক্তি সমঝোতায় উয়েফার নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে কোরটোয়িস খেলার জন্য বিবেচিত হবেন। তবে এজন্য অবশ্য অ্যাথলেটিকোকে বাড়তি অর্থ গুণতে হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে ঘরের মাঠে তাদের যে পারফরমেন্স ছিল সেই তুলনায় গত ম্যাচে অ্যাথলেটিকো নিজেদের প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়। তবে বিরতির পরে আদ্রিয়ান লোপেজের স্থানে স্ট্রাইকিংয়ে রাওল গার্সিয়াকে নামানোর পরে পরিস্থিতি কিছুটা পরিবর্তিত হয়। মাঠে নেমেই তাৎক্ষণিকভাবে গার্সিয়া আক্রমণ চালিয়েছিলেন। গত সপ্তাহে গেতাফের বিপক্ষে কস্তার পেনাল্টি মিসের সাথে যেন পাল্লা দিয়ে কাল সেই একই ভুল করেন ভিয়া। এরপরপরই তার দেয়া একটি গোল অফ সাইডের কারনে বাতিল হয়ে যায়। একমাত্র গার্সিয়াই কিছুটা চাপ সৃষ্টি করে খেলতে থাকে। অবশেষে ৭১ মিনিটে গোলের দেখা পায় স্বাগতিক শিবির। সোসার কর্ণার থেকে অসাধারণ হেডে দলকে এগিয়ে দেন মিরানডা। ম্যাচ শেষের দুই মিনিট আগে দিয়েগো রিবার থ্রু বল থেকে কস্তা ব্যবধান দ্বিগুন করার দারুণ এক সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু হেরেরা পায়ের সাহায্যে সে যাত্রা কোনরকমে দলকে রক্ষা করেন। তবে ইনজুরি টাইমের প্রথম মিনিটে কস্তা স্পট কিক থেকে মৌসুমে নিজের ৩৫তম গোলই পূর্ণ করেননি অ্যাথলেটিকোর জয়ও নিশ্চিত করেছেন।
খেলা
শিরোপার আরো কাছে অ্যাথলেটিকো
গত ১৮ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মত লা লিগার শিরোপা জয়ের খুব কাছাকাছি চলে এসেছে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ। শুক্রবার ঘরের মাঠ ভিসেন্টে ক্যালডেরনে এলচের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় তুলে নেবার পরে সেই সম্ভাবনা আরো জোরালো হয়েছে।





