বিভিন্ন অভিযোগে নিষিদ্ধ হওয়া ক্রিকেটারদের ভুল শুধরিয়ে দ্রুতই খেলায় ফিরিয়ে আনতে দুর্নীতি আইনে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। দীর্ঘদিন নিষিদ্ধ থাকা ক্রিকেটাররা যাতে দ্রুত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরতে পারে সে জন্য আইসিসির দুর্নীতি বিরোধী আইনের সংস্কার আগামী জুন মাস থেকে কার্যকর করা হবে।
আইসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডেভ রিচার্ডসন বলেন, ‘দুর্নীতি বিরোধী আইনে কয়েকটি পরিবর্তন আনার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে এবং পরিবর্তনের মধ্যে একটি হলো নিষিদ্ধ থাকা খেলোয়াড়দের কিভাবে খেলায় ফিরিয়ে আনা যায়।
‘সুতরাং কোন খেলোয়াড় যদি ৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয় সে যাতে কিছুটা আগেই ঘরোয়া কিংবা ক্লাব ক্রিকেট খেলতে পারে। অর্থাৎ তার ৫ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যাতে সে পুনরায় বাকি ক্যারিয়ার শুরু করতে পারে। পরিবর্তিত আইনে এমনটাই বলা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কোন খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত মামলার কথা বিবেচনা করে এমনটা করা হয়নি। সুতরাং এখন কিংবা ভবিষ্যতে যারা নিষিদ্ধ হবে তাদের কথা বিবেচনা করে নীতিগতভাবে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’
আইসিসির এমন সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের নিষিদ্ধ হওয়া তিন খেলোয়াড় মোহাম্মদ আমির, সালমান বাট এবং মোহাম্মদ আসিফের জন্য সু-সংবাদ বয়ে আনবে। ২০১০ সালে পাকিস্তান দলের ইংল্যান্ড সফরে লর্ডস টেস্টে স্পট ফিক্সিং করে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় আইসিসির একটি ট্রাইব্যুনাল এদের বিভিন্ন মেয়াদে নিষিদ্ধাদেশ দেয়। ট্রাইব্যুনাল এদের মধ্যে বাটকে ১০ বছর, আসিফকে ৭ বছর এবং আমিরকে ৫ বছরের জন্য সকল প্রকার ক্রিকেটে নিষিদ্ধ করে।
দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সময় ১৮ বছর বয়সী আমির প্রথমে ট্রাইব্যুনালে দোষ অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে লন্ডনের ক্রাউন কোর্টে নিজের দোষ স্বীকার করেন। যদি ২০১৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর আমেরের নিষিদ্ধাদেশের সময় শেষ হবে। কিন্তু সে যাতে ক্রিকেটে ফিরতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সকল সুবিধা সম্বলিত অনুশীলন করতে পারে সেজন্য আইসিসিকে চেস্ট করছে পিসিবি।
২০১৩ সালে লন্ডনে অনুষ্ঠিত আইসিসির বার্ষিক সাধারণ সভায় পাঁচ সদস্যের উপ-কমিটির সামনে পিসিবি এ প্রস্তাব দেয়। অবশ্য পিসিবির অনুরোধে ইতিবাচক সাড়া দেয় আইসিসি।