জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে আজ জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে নামছে বাংলাদেশ। ম্যাচ জিতলেই সিরিজ জয়। এই সমীকরণকে সামনে রেখে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল আজ মাঠে নামবে। অনুপ্রেরণা দিচ্ছে এই মাঠে নিজেদের রেকর্ডও। সাগরিকায় কখনোই কোনো ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে হারাতে পারেনি জিম্বাবুয়ে।
প্রতিপক্ষকে নিয়ে চিন্তার পাশাপাশি ম্যাচের আগে মাশরাফিকে চিন্তা করতে হচ্ছে শিশির নিয়েও। অক্টোবরের সন্ধ্যায় সাগরিকার এই মাঠে অনুমিতভাবেই হানা দেবে শিশির। সেক্ষেত্রে পরে বোলিং করাটা হবে বেশ কঠিন এক কাজ। চট্টগ্রামের ব্যাটিংবান্ধব উইকেটে বড় রান তোলা কঠিন নয় খুব একটা। কিন্তু শিশিরের সুবিধা নিয়ে সেই রান তাড়া করে ফেলাটাও যে সম্ভব, সেটাও বেশ ভালোভাবেই জানা আছে মাশরাফির। টস নিয়ে তাই কিছুটা চিন্তিত ওয়ানডে দলপতি।
আগের ম্যাচে ইমরুল কায়েস ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের ১২৭ রানের সপ্তম উইকেট জুটি বাংলাদেশকে এনে দিয়েছিল ২৭১ রানের সংগ্রহ। তবে এই ম্যাচে নিশ্চয়ই বড় সংগ্রহ পেতে সপ্তম উইকেট পর্যন্ত অপেক্ষা করে থাকবে না দল। এশিয়া কাপ ফাইনালে সেঞ্চুরি করে আসা ওপেনার লিটন দাস গত ম্যাচে ছিলেন ব্যর্থ। রান পাননি অভিষিক্ত ফজলে রাব্বিও। টপ অর্ডারের ব্যর্থতার ষোলোকলা পূরণ করেছে মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের রান না পাওয়া। শুধু এই সিরিজের প্রথম ম্যাচেই নয়, টপ অর্ডার বাংলাদেশের দুশ্চিন্তার কারণ এই বছরের শুরু থেকেই। ব্যতিক্রম অবশ্য এশিয়া কাপের ফাইনাল। তবে সেই ম্যাচে দুই ওপেনারের এনে দেওয়া দারুণ শুরু এরপর স্রেফ খেলো হয়ে গেছে পরের ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায়। নিজেদের ব্যাটিংয়ে, বিশেষ করে টপ অর্ডারে তাই কিছুটা উন্নতি নিশ্চিতভাবেই আশা করবে বাংলাদেশ।
জিম্বাবুয়ের জন্য ম্যাচটা ‘ডু অর ডাই’। টপ অর্ডার নিয়ে দুশ্চিন্তাটা কম নয় তাদেরও। সেক্ষেত্রে ওপরের দিকে ব্যাটিং শক্তি বাড়াতে পিটার মুরের জায়গায় দলে দেখা যেতে পারে তারিসাই মুসাকান্দাকে। খেলতে পারেন দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার এলটন চিগুম্বুরাও।
দলের খবর:
বাংলাদেশ : সব ঠিক থাকলে উইনিং কম্বিনেশন ধরে রাখার পক্ষে বাংলাদেশ। ফজলে রাব্বী প্রথম ম্যাচে ব্যর্থ হলেও আরেকটি সুযোগ তিনি পাচ্ছেন। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা আগের দিন তেমনটাই বলেছেন। তবে শিশির এম্যাচে প্রভাব ফেলতে পারে। শেষ মুহূর্তে বাংলাদেশের একাদশ ভাবনাতেও যা প্রভাব রাখতে পারে।
জিম্বাবুয়ে : প্রথম ম্যাচের একাদশে সুযোগ পাননি সলোমন মিরে। এম্যাচেও তার বাইরে থাকার সম্ভাবনাই বেশি। মাসাকাদজার সঙ্গে ওপেন করবেন কেপাস জুয়াও। অফ ফর্মে থাকা এল্টন চিগুম্বুরাকেও হয়তো দর্শক হয়ে থাকতে হবে।
সম্ভাব্য একাদশ:
বাংলাদেশ: লিটন দাস, ইমরুল কায়েস, ফজলে রাব্বী, মুশফিকুর রহীম (উইকেটরক্ষক), মোহাম্মদ মিথুন, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মাশরাফি বিন মুর্তজা, নাজমুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান।
জিম্বাবুয়ে: হ্যামিল্টন মাসাকাদজা, কেপাস জুয়াও, ক্রেইগ আরভিন, ব্রেন্ডন টেইলর, সিকান্দার রাজা, শেন উইলিয়ামস, পিটার মুর/তারিসাই মুসাকান্দা, ডোনাল্ড তিরিপানো, ব্রেন্ডন মাভুতা, কাইল জার্ভিস, তেন্দাই চাটারা।
উইকেট এবং কন্ডিশন:
জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের উইকেট বরাবরই ব্যাটিং বান্ধব। দিবা-রাত্রির সাত ম্যাচের মধ্যে পরে ব্যাট করা দল জিতেছে চারটিতে। এদিন চট্টগ্রামের আবহাওয়া শুষ্ক হতে পারে। তবে শিশির একটা ফ্যাক্টর হবে।
এসএম





