টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর আগে প্রথম আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলংকা, ওযেস্ট ইন্ডিজ, আয়ারল্যান্ডের সাথে একই কাতারে বসে বাংলাদেশের অধিনায়ক সালমা খাতুন অন্যদের সাথেই সুর মিলিয়ে বলেছিলেন টুর্নামেন্টে আমাদের লক্ষ্য সেমিফাইনালে খেলা। কিন্তু অভিজ্ঞতার অভাবেই হোক বা যেকোন অজানা কারণ সেখানে থাকুক না কেন প্রথমবারের মত বিশ্বকাপের মত সর্বোচ্চ আসরে খেলার পরে এটুকু অন্তত সালমা উপলব্ধি করে থাকবেন যে বিশ্বকাপে খেলা এবং দ্বিপাক্ষিক কিংবা ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলার মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে।
আসরের প্রথম তিনটি ম্যাচে বড় ব্যবধানে পরাজয় অন্তত সেটাই প্রমাণ করে। আগামীকাল মঙ্গলবার শ্রীলংকার বিপক্ষে সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়ামে গ্রুপের শেষ ম্যাচে খেলতে নামছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। শ্রীলংকাও প্রথম তিন ম্যাচে শুধুমাত্র ভারতকে পরাজিত করে গ্রুপে বাংলাদেশের ওপরে চতুর্থ স্থানে রয়েছে। টুর্নামেন্টে সবক’টি ম্যাচেই ছিল স্বাগতিকদের ব্যাটিং ব্যর্থতা। সবক’টি ম্যাচেই আগে ব্যাটিং থেকে প্রতিপক্ষের করা ১০০ রানের বেশি লক্ষ্যের জবাবে বাংলাদেশের ইনিংস ৭৯, ৫৮ ও ৭২ রানেই শেষ। যদিও প্রতিপক্ষগুলো ছিল মহিলাদের বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম পরাশক্তি ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড এবং ভারত। আর তাই টুর্নামেন্ট খেলার আগে সালমার সেমিফাইনালের লক্ষ্যের বিষয়টি মাঠের লড়াইয়ের সাথে কোনভাবেই খাপ খায়নি।
দলের এই ব্যাটিং ব্যর্থতায় টানা তিন ম্যাচে পরাজিত হবার পরে দলের পেসার জাহানারা আলমতো অকপটেই স্বীকার করেছেন, ‘কিছুই বলার নেই। প্রতি ম্যাচের আগে নিজেদের গেম প্ল্যান থাকে, কিন্তু কোনদিনই সেই পরিকল্পনা মত আমরা খেলতে পারছি না। শক্তির কোন ঘাটতি এখানে আছে বলে আমরা মনে করি না। অনুশীলনে তো আমরা ভালই করি। কিন্তু আমার মনে হয় কৌশলগত কোন সমস্যা আমাদের রয়েছে। সেগুলো কাটিয়ে ওঠাই এখন মূল লক্ষ্য। শ্রীলংকার বিপক্ষে জয়ের লক্ষ্যেই আমরা মাঠে নামবো।’
যদিও বাংলাদেশের কন্ডিশনে উপমহাদেশের দেশগুলোর ভাল করার সুযোগ ছিল যা মোটেই কাজে লাগাতে পারেনি ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা কিংবা বাংলাদেশ। কালকের ম্যাচকে সামনে রেখে শেষ একটি সুযোগ রয়েছে লংকানদের সামনে। গ্রুপের শেষ ম্যাচটি তাদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ এমন প্রশ্নের উত্তরে শ্রীলংকার অধিনায়ক শশীকলা সিরিবার্ধানে বলেছেন, ‘এটা আমাদের জন্য আরেকটি সুযোগ। বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে উন্নতির মাধ্যমে আমরা সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতে চাই।’
তার এই মন্তব্যে অন্তত একটি বিষয় স্পষ্ট যে বিশ্ব আসরে নিজেদের মেলে ধরার জন্য যেকোন একটি ম্যাচেই জয় তাদের জন্য অত্যন্ত জরুরী। রোববার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পরাজিত হবার ম্যাচটি ছিল তাদের জন্য টানা দ্বিতীয় পরাজয় এবং এর ফলে সেমিফাইনালের দরজা বন্ধ হয়ে গেল। একই সাথে এবারের আসরেও সেমিফাইনালে উপমহাদেশের কোন দেশের অংশগ্রহণ করা হলো না। গত দু’টি ম্যাচে তারা মাত্র ৮৪ ও ৮৫ রান করতে সক্ষম হয়েছে যা সাধারণত তাদের ব্যাটিংয়ের সাথে মানায় না। যদিও সাম্প্রতীক ফর্ম বিচারে তাদের অধিনায়ক শশীকলাই ছিলেন তাদের টপ স্কোরার। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৯ উইকেটে দলীয় ৮৫ রানের মধ্যে শশীকলার রান ছিল ৩৮। বল হাতেও লংকানরা নিজেদের মেলে ধরতে পারছে না। এখানেও তাদের সর্বাধিক সফল বোলার শশীকলাই। তিন ম্যাচে তিনি চার উইকেট দখল করেছেন। প্রতি ওভারে গড়ে ছয় রানেরও কম রান দিয়েছেন। অবশ্য বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও চিত্রটা প্রায় একই। এখন পর্যন্ত দলের সবচেয়ে সফল বোলার অধিনায়ক সালমা। উইকেটের পাশাপাশি প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের আটকে রাখতেও সমান সফল হয়েছে স্বাগতিক এই অল রাউন্ডার।
তবে শশীকলার মতে সাম্প্রতীক ফর্ম নিয়ে তারাও বেশ আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। এখন সময় এসেছে দলের অন্য সকলের পারফর্ম করার। আমরা একই ভুল প্রত্যেক ম্যাচেই করতে পারি না। একটি ভাল দল হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হলে অন্তত পাঁচ-ছয়জন খেলোয়াড়কে ভাল খেলতে হবে। যা মোটেই হচ্ছে না। আশা করছি টুর্নামেন্টের শেষটা ভাল করতে পারবো।
লংকান অধিনায়কের এই আশাবাদ বাস্তবে রূপান্তরিত হলে তা স্বাগতিকদের জন্য হবে বেদনার। কারণ স্বাগতিক হিসেবে অন্তত একটি জয়ের আশা স্বাগতিক দর্শকরা করতেই পারে। আর সেটা করতে হলে শুধুমাত্র সালমা নয় শশীকলার কথার রেশ ধরেই বলতে হয় অন্তত পাঁচ-ছয়জন খেলোয়াড়কে নিজেদের দায়িত্বটুকু পালন করতে হবে।
খেলা
গ্রুপের শেষ ম্যাচে অন্তত একটি জয় চায় বাংলাদেশ
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর আগে প্রথম আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলংকা, ওযেস্ট ইন্ডিজ, আয়ারল্যান্ডের সাথে একই কাতারে বসে বাংলাদেশের অধিনায়ক সালমা খাতুন





