একাডেমি মাঠের কাছাকাছি নেমে এল হেলিকপ্টারটি। রশি বেয়ে একে একে নেমে এলেন চারজন প্যারা কমান্ডো। একটু পর আরেকটি হেলিকপ্টার। নামলেন আরও চার প্যারা কমান্ডো। আরও সেনাসদস্যকে সঙ্গে নিয়ে অস্ত্রসহ তাঁরা ঢুকে পড়লেন শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের মূল মাঠে। ফাঁকা গুলি ছুড়ে, পজিশন নিতে নিতে দুই ভাগ হয়ে ঢুকে পড়লেন দুই ড্রেসিংরুমে।

না, ভয়ের কিছু নেই। বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড সিরিজকে সামনে রেখে এ ছিল বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, সেনাবাহিনীর অ্যাভিয়েশন উইং এবং এক নম্বর প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়নের যৌথ নিরাপত্তা-মহড়া মাত্র। খেলা চলার সময় মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে নিরাপত্তাজনিত কোনো সমস্যা তৈরি হলে কীভাবে খেলোয়াড়দের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হবে, মহড়াতে সেটিই উপস্থাপন করা হয়েছে। মহড়ার শেষ দৃশ্য ছিল এমন—কমান্ডোরা ড্রেসিংরুম থেকে ‘ডামি’ খেলোয়াড়দের হেলিকপ্টারে তুলে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাচ্ছেন। এর আগে ‘ডামি’ জিম্মি উদ্ধারের আরও একটি মহড়া হয়েছে একাডেমি মাঠে।

68e3501d2a72b061303295416f32849c-01

২০১১ বিশ্বকাপ বা অন্য বড় আসরের আগেও মিরপুরে এ রকম মহড়া হয়েছে। তবে আজ থেকে শুরু ইংল্যান্ড সিরিজে নিরাপত্তার বিষয়টি বহুল আলোচিত বলেই কালকের মহড়া নিয়ে কৌতূহল ছিল। মাঠে থেকে পুরো মহড়াটি দেখে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের নিরাপত্তা কর্মকর্তা রেগ ডিকাসন দারুণ খুশি, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অন্যান্য ইউনিটের একটি নিরাপত্তা প্রদর্শনী দেখলাম আমরা। আপনাদের সুন্দর এই দেশটি ভ্রমণে মহড়াটি আমাদের দারুণ আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।’

ইংল্যান্ড দলের জন্য নেওয়া নিরাপত্তাব্যবস্থার প্রশংসা করে ডিকাসন বলেছেন, ‘বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত যে নিরাপত্তা আমরা দেখেছি, তা এককথায় অসাধারণ।’ দুপুরে সিরিজ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে প্রায় একই প্রশংসা ইংল্যান্ড অধিনায়ক জস বাটলারের কণ্ঠেও, ‘এখানকার মানুষ হয়তো আমাদের যাওয়া-আসার কারণে সৃষ্ট ট্রাফিক জ্যামে ভুগছেন। অবশ্য আমাদের জন্য এতে খুবই ভালো হয়েছে। আমাদের দেওয়া নিরাপত্তাও অসাধারণ।’

b5779878f66bb0284707a0998423c6e7-02মহড়ায় অংশ নেওয়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এক নম্বর প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল এম এম ইমরুল হাসানের কথা শুনে নিরাপত্তা নিয়ে আরও বেশি আশাবাদী হয়ে উঠতে পারে ইংল্যান্ড দল। মহড়া শেষে তিনি আশ্বস্ত করেছেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিশেষ করে এক নম্বর প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়ন খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা দিতে সব সময় প্রস্তুত। সরকার যখনই আমাদের কোনো দায়িত্ব দেয়, আমরা সেটা পালনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করি।’

নিরাপত্তা জাল আরও নিশ্ছিদ্র করতে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে নতুন করে বসানো হয়েছে প্রায় ২২০টি সিসি ক্যামেরা। একশ দশটির মতো ক্যামেরা লাগানো হবে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামেও।

এমবিএইচ