বোলিং অ্যাকশন সন্দেহজনক হওয়ায় আইসিসি এক বছরের জন্য পাকিস্তানী অফ-স্পিনার সাঈদ আজমলকে নিষিদ্ধ করার পর ক্রিকেট বিশ্বে চলছে আলোচনা-সমালোচনা, চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণও।

সেই বিশ্লেষণে এবার যোগ দিলেন পাকিস্তানের সাবেক বোলিং কোচ ও বায়োমেকানিকস বিশেষজ্ঞ ড্যারিল ফস্টার। আজমলের এমন নিষেধাজ্ঞায় হতাশ ফস্টার বলেন, ‘আমি চমকে যাইনি। তবে আমি হতাশ আজমলকে নিষিদ্ধ করায়। আইসিসি সন্দেহজনক বোলিং ইস্যু নিয়ে বোলারদের উপর ঝাপিয়ে পড়েছে।’

বোলারদের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে চিন্তাটা হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে আইসিসির। গেল কয়েক মাসে বোলারদের উপর বড় বড় চোখে নিজেদের দৃষ্টি অব্যাহত রেখেছে ক্রিকেটের প্রধান সংস্থা আর সেই দৃষ্টিতে বেশ কিছু ত্রুটি দেখতে পেরেছে আইসিসি। আন্তর্জাতিক অনেক বোলারের বোলিং অ্যাকশনই সন্দেহজনক। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে সতর্ক করে দিয়ে তাদের পরীক্ষাগারে রেখেছে আইসিসি।

তবে সর্বশেষ নিষিদ্ধ করা হয়েছে ওয়ানডে ক্রিকেটে বিশ্বের সেরা বোলার পাকিস্তানের সাঈদ আজমলকে। বিশ্বকাপের আগে আজমলের এমন নিষেধাজ্ঞায় সাবেক খেলোয়াড় ও বিশেষজ্ঞরা অবাক এবং চিন্তিত। সেই তালিকায় আছেন পাকিস্তানের সাবেক বোলিং কোচ ও বায়োমেকানিকস বিশেষজ্ঞ ফস্টারও। তিনি বলেন, ‘আমি চমকে যাইনি। তবে আমি হতাশ আজমলকে নিষিদ্ধ করায়। আইসিসি সন্দেহজনক বোলিং ইস্যু নিয়ে বোলারদের উপর ঝাপিয়ে পড়েছে।’

বায়োমেকানিকস বিশেষজ্ঞ হওয়ায় বোলিং সমস্যা নিয়ে এর আগে শ্রীলংকার সাবেক স্পিন কিং মুত্তিয়া মুরালিধরনের সাথে কাজ করেছেন ফস্টার। মুরালিধরনের বোলিং অ্যাকশনে খুব বেশি সমস্যা লক্ষ্য করেননি তিনি। তাই মুরালিধরনের উদাহরন টেনে এনে আজমলের ব্যাপারে ফস্টার বলেন, ‘বিশ্বমানের অনেক স্পিনারকে নিয়ে কাজ করেছি আমি। তাতে খুব বেশি সমস্যা খুঁজে পাইনি। তবে আইসিসি কোন নিয়মে বোলারদের সমস্যা দেখছে, তা বুঝতে পারছি না। আর এমন চলতে থাকলে তো ক্রিকেট থেকে অনেক মেধাবি খেলোয়াড় হারিয়ে যাবে।’

২০০১ সালে পাকিস্তান দলের বোলিং কোচ হিসেবে কাজ করেছিলেন ফস্টার। তাই খুব কাছ থেকে দেখেছেন পাকিস্তানের বোলিং বিভাগের খুঁটি-নাটি। আর সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি মনে করেন, ‘ক্রিকেটে ঐ বিভাগে (স্পিন) তাদের যথেষ্ট অভিজ্ঞ লোক আছে এবং যদি আজমলের সংশোধনের প্রয়োজন হয় তবে নিজ দেশেই তারা তা করতে পারবে আমি আমার বিশ্বাস।’

ফস্টারের পাশাপাশি আজমলকে প্রয়োজনীয় উপদেশ দিতে ভুল করেননি পাকিস্তানের সাবেক পেসার শোয়েব আখতারও। তিনি বলেন, ‘আমি আজমলকে বলবো, শুধুমাত্র নিষেধাজ্ঞা নয় সব বিষয় নিয়ে আইসিসিকে চ্যালেঞ্জ করা উচিত তার। এছাড়া পিসিবি থেকে সহায়তা করা উচিত আজমলকে।’

আজমল নিষিদ্ধ হলেও এখনো আইসিসি রয়েছেন বাংলাদেশের সোহাগ গাজী, শ্রীলংকার সাচ্চিত্রা সেনানায়েকে, নিউজিল্যান্ডের কেন উইলিয়ামসন ও জিম্বাবুয়ের প্রসপেয়ার উৎসেয়া। আইসিসির সর্বশেষ সন্দেহের তালিকায় যুক্ত হয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফররত বাংলাদেশী পেসার আল-আমিন হোসেন।

ঢাকা, ১১ সেপ্টেম্বর,টাইমনিউজবিডি.কম, এআর