বল হাতে আবারও জ্বলে উঠলেন সাকিব আল হাসান। আগুন ঝরালেন তাসকিন আহমেদ। দারুণ বোলিং করলেন সাকলাইন সজিবও। এই ত্রয়ীর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ভিক্টোরিয়াকে হারিয়ে শিরোপা লড়াইয়ে ভালোভাবেই টিকে থাকল আবাহনী।

দুই দলের জন্যই ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ভিক্টোরিয়াকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে আবাহনী। তিন বোলারের ত্রিমুখী আক্রমণে দিশেহারা ভিক্টোরিয়া গুটিয়ে যায় ১৩৯ রানেই। আবাহনীর জিততে নেয়নি ৩০ ওভারও।

ভিক্টোরিয়ার মিডল অর্ডারে খানিকটা প্রতিরোধ গড়া সোহরাওয়ার্দী শুভ মাঠ ছাড়েন তাসকিনের বাউন্সারে আঘাত পেয়ে। মাথার পেছনের দিকে ঘাড়ের কাছে লাগে বল। হাসপাতালে নেওয়ার পর আপাতত বিপদমুক্ত এই অলরাউন্ডার।

তাসকিন এদিন শুরু থেকেই বল করছেন তুমুল গতিতে। ফজলে মাহমুদ রাব্বিকে ফিরিয়ে প্রথম আঘাতও হানেন তরুণ ফাস্ট বোলারই। এরপর দুর্দান্ত এক স্পেলে ভিক্টোরিয়ার মেরুদণ্ড ভেঙে দেন সাকিব।

লিগের সর্বোচ্চ রান স্কোরার আব্দুল মজিদকে বোল্ড করে সাকিবের শুরু। স্পিনের বিপক্ষে দক্ষ দুই ব্যাটসম্যান মুমিনুল ও আল আমিন এদিনও খেলছিলেন দারুণ। কিন্তু শিকারও হয়েছেন স্পিনেই।

সাকিবের বলে সুইপ মাটিতে রাখতে পারেননি মুমিনুল, মিড উইকেটে ক্যাচ নিয়েছেন মোসাদ্দেক (২১ বলে ২৩)। নাদিফ চৌধুরী শুরু করেছিলেন সাকিবকে লং অন দিয়ে চার মেরে। সাকিবের পরের ওভারে ধরা পড়েছেন সেই লং অনেই। ৬ ওভারের টানা স্পেলে সাকিবের ৩ উইকেট।

সাকলাইন বল হাতে নিয়ে প্রথম ওভারেই ফিরিয়েছেন আল আমিনকে। এবারের লিগের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ৬০০ রান স্পর্শ করেছেন তরুণ এই ব্যাটসম্যান। কিন্তু বড় করতে পারেননি ইনিংস। সাকলাইনের জোরের ওপর করা বল একটু নিচু হয়ে এসেছিল, পেছনে খেলে বোল্ড হয়েছেন ১৭ রানে।

ভিক্টোরিয়া তখন ৫ উইকেটে ৮৬। দলকে উদ্ধারের চেষ্টা করছিলেন সোহরাওয়ার্দী, তাসকিনের বলে তাকে মাঠ ছাড়তে হয় দুর্ভাগ্যজনকভাবে। ভড়কে না গিয়ে আগ্রাসি বোলিং চালিয়ে গেছেন তাসকিন। তিনি ও সাকলাইন আরও দুটি করে উইকেট নিয়ে গুড়িয়ে দিয়েছেন ভিক্টোরিয়াকে।

রান তাড়ায় আবাহনীকে ৫১ রানের উদ্বোধনী জুটি এনে দেন তামিম ইকবাল ও লিটন দাস। ৩৫ বলে ৩৩ রান করে তামিমের বিদায়ের পর উইকেট হারিয়েছে তারা নিয়মিতই। কিন্তু লক্ষ্য এত ছোট ছিল যে বিপাকে পড়তে হয়নি।

তিনে নেমে চতুরঙ্গা ডি সিলভার জোরের ওপর করা বলে স্টাম্পড হয়েছেন সাকিব। আগে ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান দিনেশ কার্তিক এদিনও খেলেছেন ভালো। চতুরঙ্গাকে টানা দু বলে চার-ছক্কায় এই ভারতীয় ব্যাটসম্যানই শেষ করেছেন ম্যাচ।

১৩ ম্যাচে আবাহনীর পয়েন্ট ১৮, ঝুলে আছে তাদের স্থগিত ম্যাচের ভাগ্য। ১৪ ম্যাচে ২০ পয়েন্টে শীর্ষে লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জ, ভিক্টোরিয়ার ১৭।

ভিক্টোরিয়ার প্রথম চার উইকেটের তিনটিই নিয়ে ম্যান অব দা ম্যাচ সাকিব। আগের ম্যাচে নিয়েছিলেন ৫ উইকেট। লিগে ৬ ম্যাচ খেলেই তার উইকেট ১৬টি, গড় ৯.৯৩!

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ভিক্টোরিয়া: ৩৬.২ ওভারে ১৩৯ (মজিদ ১৬, ফজলে রাব্বি ৮, মুমিনুল ২৩, আল আমিন ১৭, নাদিফ ৯, শুভ (রিটায়ার্ট হার্ট) ২১, চতুরঙ্গা ১২, ধিমান ১৫, এনামুল ১১, মাহবুবুল ২, কামরুল রাব্বি ১; তাসকিন ৩/৩০, আবুল হাসান ০/৪১, সাকিব ৩/২৮, মোসাদ্দেক ০/১৪, সাকলাইন ৩/১৩, তাপস ০/১২)।

আবাহনী: ২৯.২ ওভারে ১৪০/৪ (তামিম ৩৩, লিটন ১৮, সাকিব ৯, শান্ত ২২, কার্তিক ৩২*, মোসাদ্দেক ১৮*; কামরুল রাব্বি ০/৩৭, মাহবুবুল ০/১১, আল আমিন ০/২৯, চতুরঙ্গা ২/৩১, এনামুল ২/৩২)।

ফল: আবাহনী ৬ উইকেটে জয়ী।

ম্যান অব দা ম্যাচ: সাকিব আল হাসান।

এফএফ