ভারতীয় ব্যাটসম্যান ভিরাট কোহলি বিরাট কিছু করবেন সেটা তার ব্যাটিং স্টাইল দেখেই বুঝা যায়। ইতোমধ্যেই সাবেকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। সর্বশেষ সে তালিকায় যুক্ত হলেন পাকিস্তান লিজেন্ড জহির আব্বাস।
আব্বাসের মতে, গ্রেট খেলোয়াড় হওয়ার পথেই হাঁটছেন ভারতের প্রধান ব্যাটসম্যান কোহলি। তার মতে কোহলি একদিন সকল রেকর্ড ভাঙ্গবে। রোববার দলের অনুশীলন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বর্তমানে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের ব্যাটিং পরামর্শকের দায়িত্ব পালন করা আব্বাস বলেন, "ভিরাট কোহলি এমন একজন ব্যাটসম্যান যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সকল রেকর্ড ভঙ্গ করবে। ভারতীয় দলের পরিবর্তনকালীন সময় শেষ হয়ে গেছে এখন তাদের থিতু হতে হবে।"
তিনি আরো বলেন, "পাকিস্তান দলেও মেধাবী ব্যাটসম্যান রয়েছে। তবে আমরা পুনর্গঠিত হওয়ার প্রক্রিয়ায় আছি।"
সাবেক পাকিস্তানি অধিনায়ক দলের তরুণ ওপেনার আহমেদ শেহজাদের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
আব্বাস বলেন, "আহমেদ শেহজাদ একজন মেধাবী ব্যাটসম্যান এবং পরিপক্ক হয়ে ভবিষ্যতে একজন ভাল ব্যাটসম্যানে পরিণত হবেন।"
টি-২০ বিশ্বকাপে আগামী ২১ মার্চ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফেরায় ভারতীয় দল একটি শক্তিশালী ইউনিটে পরিণত হয়েছে বলে স্বীকার করেন আব্বাস।
ক্যারিয়ারে ৭৮ টেস্ট খেলা ৬৭ বছর বয়সী আব্বাস বলেন, "এশিয়া কাপে ধোনি দলে ছিলেন না এখন ফিরেছেন। সুতরাং এটা ভারতীয় দলকে অবশ্যই শক্তিশালী করবে। কিন্তু আমরা ভারতীয় একটি শক্তিশালী দলকে হারিয়েছিলাম। অনেকেই মনে করেন রান তাড়া করতে পাকিস্তান দল ভাল নয়। কিন্তু তারা কি করতে পারে এশিয়া কাপেই ছেলেরা সেটা প্রমাণ করে দিয়েছে। আমরা দুটি বড় রান (ভারত ও বাংলাদেশের বিপক্ষে) তাড়া করেই জিতেছি।"
আব্বাসের মতে পাকিস্তান দলের এই মুহূর্তে বড় অর্জন তাদের আত্মবিশ্বাস।
৭০-৮০ দশকের নন্দিত এ খেলোয়াড় বলেন, "পাকিস্তানের তারুণ্য নির্ভর বর্তমান দলটির যে বিষয়টা আমাদের ভাল লাগে তা হলো তাদের আত্মবিশ্বাস। এমনকি অত্যন্ত টেনশনের সময়ও তারা বলে ‘জহির ভাই আমরা জিতব’। এ ধরনের মানসিকতা আমি পছন্দ করি।’
আব্বাস বলেন ক্রিকেটে এখন অনেক পরিবর্তন এসেছে এবং একজন খেলোয়াড়ের কৌশল ও এ্যাপ্রোচকে মেনে নিতে হবে।
ব্যাখ্যা করে আব্বাস বলেন,"আমার মনে আছে কয়েক বছর আগে আমি ও সানি (সুনিল গাভাস্কার) এক সঙ্গে বসে একটা ম্যাচ দেখছিলাম। একজন ব্যাটসম্যান একটা বল মারতে চেষ্টা করছিল, কিন্তু বলটি স্লিপের ওপর দিয়ে উড়ে গিয়ে বাউন্ডারি হয়ে গেল। সানি হাসছিলেন এবং বলেন আমাদের সময়ে এমনটা হলে যথাযথ শট না খেলতে পারার কারণে শাস্তি হিসাবে আমাদের কোচরা মাঠে পাঁচ চক্কর দেওয়াতেন। কিন্তু এখনকার দিনে বাউন্ডারির পর বাউন্ডারি, দর্শকরা এটা দেখতে পছন্দ করে। শেষ কথা হলো দর্শকরা এটা এবং টি-২০ ক্রিকেট দেখতে ভালবাসে।"
সবশেষে তিনি বলেন, "এখনকার দিনে টি-২০ আছে, কিন্তু আমাদের সময়ে আমরা খুব স্বল্পসংখ্যক সীমিত ওভারের ম্যাচ খেলার সুযোগ পেতাম। ব্যাটিং কৌশলে অনেক পরিবর্তন এসেছে। তবে সময়ের সাথে সব কিছুরই পরিবর্তন হয়। এ বাস্তবতা আমি মেনে নিয়েছি। আমাদের দিন অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে এবং এখন দিন তরুণ প্রজন্মের।" সূত্র: এএফপি
[b]ঢাকা, ১৭ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) //এমএ[/b]