ভারতের ব্যাটিং ঈশ্বর শচীন টেন্ডুলকার আইসিসি বিশ্বকাপ-২০১৫ এর শুভেচ্ছা দূত হিসেবে প্রথম কলাম লিখেছেন। ১৯৯২ সাল থেকে ২০১১ পর্যন্ত দুই দশকে ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ গ্রহণ করা এই তারকা নিজের বিশ্বকাপ ক্যারিয়ার সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এই কলামে।
এখানে তিনি নিজের শৈশব কাল থেকে বর্তমানে আইসিসি দূত হওয়া পর্যন্ত নিজের ক্রিকেট জীবনের খুঁটি-নাটি সংক্ষেপে তুলে ধরেছেন।
ভারত যখন ১৯৮৩ বিশ্বকাপ জেতে, তখন দেশের সবার মতো বেশ আনন্দ উচ্ছ্বাস করেছেন ১০ বছর বয়সী শচীন।
১৯৮৭ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হয় ভারত ও পাকিস্তান। দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপে বল বয় হিসেবে মাঠে স্টেডিয়ামে ছিলেন তিনি। নিজ দলের ক্রিকেটারদের খেলা দেশে নিজের মুগ্ধ হওয়ার কথা জানিয়েছেন টেন্ডুলকার।
চার বছর পর বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অভিষেক হয় শচীনের। তার দল যেমন বিশ্বকাপের নক আউট পর্ব নিশ্চিত করতে পারেনি, তেমনি তিনিও উল্লেখযোগ্য কোনো অবদান রাখতে পারেননি। ১০ ওভার বল করে কোনো উইকেট পাননি। আর ব্যাট হাতে মাত্র ৩৫ রান করেছেন তিনি।
১৯৯৬ বিশ্বকাপের আয়োজন করে ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। এবার বিশ্বকাপের প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পান শচীন।
১৯৯৯ বিশ্বকাপটি নিজের জীবনের একটি কঠিন টুর্নামেন্ট আখ্যায়িত করেন টেন্ডুলকার। কারণ টুর্নামেন্টে চলাকালে তার বাবা পৃথিবী ছেড়ে চলে যান।
ইতোমধ্যে তিনটি বিশ্বকাপ খেললেও ট্রফির সন্ধান পাননি শচীন। ২০০৩ সালে তার চতুর্থ বিশ্বকাপে স্বপ্ন পূরণের দরজায় পৌঁছান তিনি। নিজের ক্যারিয়ারের এক উজ্জ্বল সময় কাটান তখন। ১১ ম্যাচ খেলে ৬৭৩ রান করেন এই ব্যাটসম্যান। যা কোনো একক টুর্নামেন্টে কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ স্কোর। ফাইনালে খেলেছিল ভারত। কিন্তু শিরোপা জেতা হয়নি তার দলের। রানার্স-আপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়। তবে টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতেছেন সেঞ্চুরির সেঞ্চুরি করা শচীন।
২০০৭ বিশ্বকাপকে সবচেয়ে বেশি ভুলে যাওয়ার মতো বিশ্বকাপ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন শচীন। কারণ ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে দ্রুতই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় ভারত।
২০১১ বিশ্বকাপের আয়োজক ছিল বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কা। এটিই শচীনের শেষ বিশ্বকাপ। তবে দেশের মাটিতে এবার ঠিকই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে এই ক্রিকেটারের। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। এটা নিজের ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ পয়েন্ট বলে জানিয়েছেন তিনি।
২০১৫ বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র দেড় মাস বাকি। এবার খেলোয়াড় হিসেবে না, দূত হিসেবে বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়েছেন শচীন।
জেডআই





