বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে লড়াই করে হারল বাংলাদেশ।
শুক্রবার হ্যামিলটনের সেডন পার্কে বাংলাদেশের ২৮৮ রানের জবাবে সাত বল হাতে থাকতে তিন উইকেটে জয় তুলে নেয় নিউজিল্যান্ড।
আগের ম্যাচে বাংলাদেশকে জয় এনে দেয়া রুবেল হোসাইনকে শেষ দিকে বল না দিয়ে বল করেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।
শেষ দুই ওভারে কিউইদের দরকার ছিল ১১ রান। ৪৯তম ওভারে রুবেলকে বল না দিয়ে বল করেন সাকিব। তার ওভারের এক বল হাতে থাকতেই জয় তুলে নেয় নিউজিল্যান্ড।
এদিনও বল হাতে দুর্দন্ত ছিলেন রুবেল হোসাইন। আট ওভারে মাত্র ৪০ রান দেন। তার দুই ওভার বাকি থাকলেও তার হাতে বল তুলে দেননি এ ম্যাচের জন্য অধিনায়কের দায়িত্ব পাওয়া সাকিব।
৮.৫ ওভারে চার উইকেট শিকারী সাকিব মোট ৫৫ রান দিয়েছেন। শেষ দিকে তার বলে ছক্কায় হাঁকিয়ে ম্যাচটি নিজেদের করে নেয় ব্লাক ক্যাপসরা।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে মারমুখী ব্যাটিং শুরু করে নিউজিল্যান্ড। কিন্তু পঞ্চম ওভারে সাকিব আল হাসানের বলে সৌম্য সরকারের হাতে ক্যাচ আউট হন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম (৮)।
একই ওভারের পঞ্চম বলে তামিম ইকবালের তালুবন্দী হয়ে সাজঘরে ফিরে যান ওয়ানডাউনে মাঠে নামা কেন উইলিয়ামসন (১)।
রস টেইলরকে সঙ্গে নিয়ে দলের হাল ধরেন গাপটিল। ধীরে ধীরে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এই ওপেনার। সাকিবের বলে গাপটিল আউট হলে ভেঙে যায় তাদের ১৩১ রানের জুটি।
রুবেল হোসাইনের হাতে ক্যাচ আউট হওয়ার আগে ১০০ বলে ১১টি চার ও ২টি ছক্কায় ১০৫ রান করেন গাপটিল।
এরপর ইলিয়ট ও কোরি অ্যান্ডারসন দলকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যান। উভয়ই করেন ৩৯ রান করে।
এর আগে মাহমুদুল্লাহর সেঞ্চুরিতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে সাত উইকেটের বিনিময় ২৮৮ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ।
টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। তবে বরাবরের মতোই উদ্বোধনী জুটির ব্যাটসম্যানরা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।
দলীয় চার রানে ট্রেন্ট বোল্টের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরে যান ইমরুল কায়েস। ১৯ বলে মাত্র ২ রান করেছেন এনামুলের পরিবর্তে বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়া এই ব্যাটসম্যান।
২৭ রানে মাঠ থেকে বিদায় নেন ওপেনার তামিম ইকবাল। ইনিংসের দশম ওভারে বোল্টের বলেই দ্বিতীয় স্লিপে কোরি অ্যান্ডারসনের হাতে ক্যাচ ক্যাচ তুলে দেন তিনি। মাঠ থেকে বিদায় নেয়ার আগে ২৭ বলে জমা করেন ১৩ রান।
আগের ম্যাচের মতো এ ম্যাচেও দলের হাল ধরেন সৌম্য সরকার ও মাহমুদুল্লাহ। তাদের জুটি থেকে আসে ৯০ রান। হাফ-সেঞ্চুরির পর ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে ভেট্টরির তালুবন্দী হন সৌম্য। ৫৮ বলে ৭টি চারে ৫১ রান করেন তিনি।
সাকিব ক্রিজে এসে দ্রুতই রানের চাকা ঘুরাতে শুরু করেন। কিন্তু বেশি দূর যেতে পারেননি। কোরি অ্যান্ডারসনের বলে উইকেটরক্ষক লুক রঞ্চির তালুবন্দী হন তিনি। ১৮ বলে ২৩ রান করেন এই অল রাউন্ডার।
মুশফিক এসে ১৫ রান করে সেই অ্যান্ডারসনের বলে রঞ্চির হাতে ক্যাচ আউট হন।
এরপর মাহমুদুল্লাহকে যোগ্য সঙ্গ দেন সাব্বির রহমান। দেখতে দেখতে বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মাহমুদুল্লাহ। ১২০ বলে দুটি চার ও তিনটি ছক্কায় ১০০ রান পূর্ণ করেন এই অল রাউন্ডার।
সাব্বিরও ঝড়ো ব্যাটিং করেন। ইলিয়টের বলে ম্যাককালাম দুর্দান্ত এক ক্যাচ ধরলে বিদায় নেন তিনি। মাঠ ছাড়ার আগে টি-টোয়েন্টি স্টাইলে ব্যাট করা সাব্বির ২৩ বলে ৫টি চার ও ২টি ছক্কায় ৪০ রান করেন।
নাসির ৭ বলে ১১ রান করে বিদায় নিলেও মাহমুদুল্লাহ অপরাজিত থাকেন। আগের ম্যাচে ১০৩ রান করা এই ব্যাটসম্যান এদিন ১২৮ রান করেন। ১২৩ বলে ১২টি চার ও ৩টি ছক্কায় এই স্কোর করেন।
এক বল হাতে থাকেত ক্রিজে নামা রুবেল হোসাইন কোনো বল মোকাবিলা করার সুযোগ পাননি।
নিউজিল্যান্ডের বোলার অ্যান্ডারসন, ইলিয়ট ও বোল্ট দুটি করে উইকেট পান।
জেডআই





