অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে বাংলাদেশের দেওয়া ২২৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১৭ ওভার শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ২ উইকেটে ৯৯ রান। কেচি কার্টি (২০) ও শিমরন হেটমায়ার (২২) রান নিয়ে ব্যাট করছেন। ফিরে গেছেন টেভিন ইমলাখ (১৪) ও গিডরন পোপ ৩৮। দুটি উইকেটই নিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।

এর আগে মিরাজের ৬০ রানের কার্যকরী ইনিংসে শেষ বলে অলআউট হওয়ার আগে ২২৬ রান করে বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কুয়াশায় ঢাকা ছিল মিরপুরের শের-ই-বাংলা স্টেডিয়াম। এর মাঝেই সবাইকে কিছুটা অবাক করে দিয়ে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।

ম্যাচের আগে থেকেই বলা হচ্ছিল, ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেস আক্রমণ সামলানোই হবে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ব্যাটিংয়ে নেমে সেই চ্যালেঞ্জ নিতে বাংলাদেশের উদ্বোধনী দুই ব্যাটসম্যান ব্যর্থই বলা যায়।

ইনিংসের প্রথম ওভারেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের সবচেয়ে গতিময় বোলার আলজারি জোসেপের একটি বাউন্সার বল পুল করতে গিয়েছিলেন পিনাক ঘোষ, কিন্তু ব্যাটে-বলে এক করতে পারেননি। বল সোজা আঘাত হানে পিনাকের হেলমেটে। মাঠে ফিজিরও থেকে সেবা-শুশ্রূষাও নিতে হয় তাকে।

পরের ওভারেই আরেক পেসার চেমার হোল্ডারের শর্ট বলে শট খেলতে গিয়ে থার্ডম্যানে ক্যাচ দেন পিনাক। এদিন রানের খাতাই খুলতে পারেননি এই বাঁহাতি। ভালো করতে পারেননি তার উদ্বোধনী জুটির সঙ্গী সাইফ হাসানও। দলীয় ২৭ রানে জোসেপের বলে স্কয়ার লেগে গুলিকে ক্যাচ দেন সাইফ (১০)।

শুরুতেই উদ্বোধনী দুই ব্যাটসম্যানকে হারানোর পর তৃতীয় উইকেট জুটিতে জয়রাজ শেখ ও নাজমুল হোসেন শান্ত মিলে প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলেন।

কিন্তু ৩১ রানের বেশি স্থায়ী হয়নি এ জুটিও। আরেক পেসার রায়ান জনের বলে শিমরন হেটমায়ারকে ক্যাচ দেন শান্ত। এদিন শান্তর ব্যাট থেকে আসে ১১ রান।

৫৮ রানেই ৩ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর জাকির হাসানকে নিয়ে প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন জয়রাজ। ধীরগতিতে রান তুললেও দুজন দলকে একটু একটু করে এগিয়ে নিচ্ছিলেন।

কিন্তু দলীয় ৮৮ রানে পেসার শামার স্প্রিঙ্গারের একটি স্লোয়ার বল জয়রাজের ব্যাটে লেগে স্টাম্প ভেঙে দেয়, বোল্ড। ৫৪ বলে ৫টি চারের সাহায্যে ৩৫ রান করেন জয়রাজ।

কোয়ার্টার ফাইনালে নেপালের বিপক্ষে ২১২ রান তাড়া করতে নেমে ৯৮ রানে ৪ উইকেট হারানো দলের হাল ধরে দারুণ জয় এনে দিয়েছিলেন জাকির হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজ জুটি।

আজ সেমিফাইনালে ৮৮ রানেই ৪ উইকেট হারানোর পর জুটি বাঁধেন এই দুজন। কিন্তু এদিন আগে ব্যাটিং করতে নামা দলের বিপর্যয়ে হাল ধরতে পারেনি এ জুটি। জাকিরের বিদায়ে ২৫ রানের জুটি ভেঙে যায়। হোল্ডারের বলে বোল্ড হন জাকির (২৪)।

১১৩ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে তখন ভীষণ বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। তবে ষষ্ঠ উইকেটে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন মিরাজ। এই দুজনের ব্যাটে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ

সাইফউদ্দিনের সঙ্গে ৮৫ রানের জুটি গড়ে ফেরার সময় ৬০ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলেন মিরাজ। তার ৭৪ বলের ইনিংসে ছিল ৭টি চারের মার।

মিরাজের বিদায়ের পরের বলে অবশ্য সাইফউদ্দিনও বিদায় নেন। তার ব্যাট থেকে আসে মূল্যবান ৩৬ রান। দুটি উইকেটই নেন কেমো পল।

এরপর মোসাব্বেক হোসেনের ১৪ ও মেহেদী হাসান রানার ১০ রান শেষ বলে অলআউট হওয়ার আগে বাংলাদেশকে ২২৬ রানের লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেয়।

বৈশ্বিক কোনো টুর্নামেন্টে এবারই প্রথম সেমিফাইনাল খেলছে বাংলাদেশ। আগের ম্যাচের একাদশ থেকে বাংলাদেশ দলে একটি পরিবর্তন এসেছে।

বাঁহাতি স্পিনার আরিফুল ইসলাম জনির পরিবর্তে বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো সুযোগ পেয়েছেন মোসাব্বেক হোসেন সান।

পরিসংখ্যান বলছে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের যুবাদের বিপক্ষে আজ বাংলাদেশই ফেবারিট। সাম্প্রতিক সাফল্য আর ঘরের মাঠের সুবিধা-সব দিক দিয়েই এগিয়ে আছেন মেহেদীরা।

যুব ওয়ানডেতে এখন পর্যন্ত ১৭ বার মুখোমুখি হয়ে ১২ বার জিতেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯। যুব বিশ্বকাপের পরিসংখ্যানেও এগিয়ে বাংলাদেশই। তিনবার মুখোমুখি হয়ে দুবার জিতেছে বাংলাদেশ। তা ছাড়া বিশ্বকাপের আগে তিন ম্যাচের সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশ করে মেহেদীর দল।

এমকে