জাদুকরের জাদুর কাঠিতে একটুও মরচে পড়েনি। প্রায় দুই মাস ছিলেন মাঠের বাইরে। এত দিন মাঠের বাইরে থাকলে ছন্দ ফিরে আনতেই সময় লেগে যায়। মানিয়ে নিতেও বেগ পেতে হয়।

কিন্তু পরশু শুরু থেকে প্রথম একাদশে খেলা লিওনেল মেসিকে দেখে একবারও মনে হলো না, এই মানুষটা দীর্ঘ একটা সময় বলের সঙ্গে অনিবার্য বিরহে ছিলেন।

মেসি মাঠে ফিরতে পেরে খুশি, খুশি তাঁর ভক্তরাও। তবে সবচেয়ে খুশি বোধ হয় ফুটবল নামের চর্মগোলকটাই, জাদুকরের পায়ের স্পর্শ যে পাচ্ছে আবার!

পরশু চ্যাম্পিয়নস লিগে রোমার বিপক্ষে শুরু থেকেই এতটাই দুর্দান্ত ছিলেন, দশ মিনিটের মাথাতেই হ্যাটট্রিক হয়ে যেতে পারত! হ্যাটট্রিক পেতে পারতেন পরেও। তাঁর নামের পাশে জোড়া গোল, লুইস সুয়ারেজেরও তা-ই।

চ্যাম্পিয়নস লিগের মতো টুর্নামেন্টে হ্যাটট্রিক গর্বের ব্যাপার, সেটিও রোমার মতো প্রতিপক্ষের সঙ্গে। কিন্তু সুয়ারেজ আর মেসি দুজনই চরম নিঃস্বার্থতার পরিচয় দিয়ে পেনাল্টি নিতে দিলেন নেইমারকে। পুরো ম্যাচে মেসি-সুয়ারেজের গোলের কারিগর হয়ে যে ছিলেন নেইমার, কিন্তু তখনো গোল পাননি!

ন্যু ক্যাম্পে রোমাকে নিয়ে রীতিমতো খেলেছে বার্সেলোনা। দুই মাস পরে ম্যাচের প্রথম থেকেই মাঠে ছিল ‘এমএসএন’। পেনাল্টির সময় বাকি দুজনের ত্যাগের মানসিকতা বুঝিয়ে দিল, তাঁরা একই বৃন্তে তিনটি কুসুম।

আর এই ত্রিমূর্তির আক্রমণেই ছত্রভঙ্গ হয়ে গেছে রোমা। ম্যাচ শেষে মেসি অবশ্য নিজের দুটো গোলের চেয়ে বড় করে দেখলেন পুরো সময় ধরে খেলতে পারাটাকেই, ‘পুরো ৯০ মিনিট খেলতে পেরে ভালো লাগছে। ম্যাচের ফলেও আমি খুব খুশি।’

এরপরই বার্সেলোনার অবিশ্বাস্য ফর্ম নিয়ে কথা বলেছেন মেসি। দুই ম্যাচে বার্সা করল দশ গোল। রিয়াল মাদ্রিদকে সপ্তাহের শুরুতেই যেভাবে হারিয়েছে বার্সেলোনা, তার রেশই যেন কাল ন্যু ক্যাম্পেও টেনে এনেছিল বার্সা।

মেসি জানিয়ে দিলেন, এখনই তৃপ্ত হওয়ার সুযোগ নেই, ‘বর্তমানে যেভাবে খেলছি, তাতে সবাই বেশ আনন্দিত। কিন্তু এখনো বহু দূর যেতে হবে আমাদের। আমরা এই ধারা ধরে রাখার চেষ্টা করব।

প্রশংসা শুনতে ভালোই লাগে, কিন্তু আমি কেবল দলকে সাহায্য করে যেতে চাই। আশা করি মৌসুমের শেষে আমাদের লক্ষ্য পূরণ হবে। আমরা এখন ভালো অবস্থানে আছি, যত দিন সম্ভব এটা চালিয়ে যেতে চাই।’

নিজে দুই গোল করার পাশাপাশি জেরার্ড পিকেকে একটি করিয়েছেনও। অফ সাইডে একটি গোল বাতিল না হলে হ্যাটট্রিকটাও হতো। এরপরও সুযোগ পেয়েছিলেন সেই পেনাল্টি থেকে।

নেইমার আবার গোল করতে ব্যর্থ হয়েছেন পেনাল্টি থেকে। কিন্তু সেই প্রসঙ্গ টানতেই মেসি বললেন, ‘নেইমারেরই পেনাল্টি নেওয়ার কথা ছিল, সে জন্যই সে পেনাল্টি নিয়েছে।’

এই না হলে মেসি!

এমকে