সুপার লিগে হার দিয়ে শুরু করা মোহামেডান পরের ম্যাচে বিধ্বস্ত হয় আবাহনীর কাছে। এবার নাসির হোসেনের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে প্রাইম দোলেশ্বরের কাছে হেরে শিরোপা স্বপ্ন ভেঙে গেল দলটির।

৭ উইকেটের জয়ে শিরোপা লড়াইয়ে নিজেদের টিকিয়ে রেখেছে দোলেশ্বর।

একটা সময় প্রিমিয়ার লিগে শীর্ষে থাকা মোহামেডানের সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিবর্ণ হয়েছে। কোনো ম্যাচে বোলাররা, কোনো ম্যাচে ব্যাটসম্যানরা ডুবিয়েছেন দলকে। শনিবারের ম্যাচে দায়টা ব্যাটসম্যানদের।

ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দিতে পারেননি মুশফিকুর রহিম-নাঈম ইসলামরা। ব্যাটিং ব্যর্থতায় এক ওভার বাকি থাকতেই ২১৩ রানে অলআউট হয়ে যায় মোহামেডান।

আসা যাওয়ার মিছিলে ব্যতিক্রম কেবল সৈকত আলী ও আরিফুল হক। দলের একমাত্র অর্ধশতক আসে তিন নম্বরে নামা সৈকতের (৫১) ব্যাট থেকে। আরিফুল ফিরেন ৪৮ রান করে। তাদের জন্যই দুইশ’ পার হয় মোহামেডানের সংগ্রহ।

সৈকত-আরিফুল ছাড়াও মোহামেডানের আরও ছয় জন ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কে যান, তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ আগের ম্যাচে নেতৃত্ব ছেড়ে দেওয়া মুশফিকের ২০।

দলটির ইনিংসের কোনো অর্ধশত রানের জুটি নেই। সর্বোচ্চ ৪৮ রানের জুটি গড়ে উঠে মুশফিক ও সৈকতের মধ্যে তৃতীয় উইকেটে।

দোলেশ্বরের রেজাউল করিম, রাহাতুল ফেরদৌস, নাসির ও সানজামুল ইসলাম দুটি করে উইকেট নেন।

জবাবে দুই ওভার বাকি থাকতে তিন উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় দোলেশ্বর।

মাঝারি লক্ষ্য তাড়ায় দোলেশ্বরকে পথ দেখান রকিবুল হাসান। ইমতিয়াজ হোসেনের সঙ্গে ইনিংস উদ্বোধন করতে নামা এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান মাঠ ছাড়েন দলকে জিতিয়ে।

৩৫ রানে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। দলের সংগ্রহ শতরান ছাড়ানোর পর বিদায় নেন মন্থর ব্যাটিং করা রনি তালুকদার। ২৮ রান করতে ৬২ বল খেলেন তিনি। এমনিতে মারকুটে ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিত এই ডান হাতি ব্যাটসম্যানের ইনিংসে নেই কোনো চার-ছয়।

রকিবুলকে বেশিক্ষণ সঙ্গ দিতে পারেননি শচিন বেবি। তবে মোহামেডানকে চেপে ধরার কোনো সুযোগ দেননি নাসির। আক্রমণাত্মক সব শট খেলে দুই ওভার হাতে রেখেই দলকে জয় এনে দেন ‘দ্য ফিনিশার’।

অবিচ্ছিন্ন চতুর্থ উইকেটে রকিবুলের সঙ্গে ৭৯ রানের জুটিতে নাসিরের অবদান ৫২ রান। এই রান করতে তিনি খেলেন ৪০ বল, হাঁকান ৪টি চার ও দুটি ছক্কা। অলরাউন্ড নৈপুণ্যে তিনিই জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।

৮৬ রানে অপরাজিত থাকেন রকিবুল। তার ১২৭ বলের ইনিংসটি গড়া ৫টি চার ও একটি ছক্কায়।

এই জয়ে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে রয়েছে দোলেশ্বর। গত আসরের চ্যাম্পিয়ন প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে হারিয়ে ১৪ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জ।

ভিক্টোরিয়াকে (১৭) হারিয়ে দুই নম্বরে উঠে এসেছে আবাহনী (১৮)। আবাহনী ও দোলেশ্বর একটি করে ম্যাচ কম খেলেছে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

মোহামেডান: ৪৯ ওভারে ২১৩ (ইজাজ ১৫, হামিদুল ১৫, সৈকত ৫১, মুশফিক ২০, নাঈম ১৮, আরিফুল ৪৮, ফয়সাল ৪, নাজমুল ১৭, হাবিবুর ০, এনামুল জুনিয়র ১২*, শহিদুল ০; রেজাউল ২/২৩, রাহাতুল ২/৩২, নাসির ২/৩৮, সানজামুল ২/৫০, আল আমিন ১/৪০)

প্রাইম দোলেশ্বর: ৪৮ ওভারে ২১৪/৩ (ইমতিয়াজ ১৯, রকিবুল ৮৬*, রনি ২৮, শচিন ১৭, নাসির ৫২*; ফয়সাল ১/২৪, হাবিবুর ১/৩৯, এনামুল ১/৪৭)

ফল: প্রাইম দোলেশ্বর ৭ উইকেটে জয়ী

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: নাসির হোসেন।

এফএফ