এশিয়ান ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আয়োজন এশিয়া কাপ শুরু হচ্ছে আগামীকাল মঙ্গলবার। এবারের আসরে স্বাগতিক বাংলাদেশ ও প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করা আফগানিস্তানসহ মোট পাঁচটি দল অংশগ্রহণ করছে। আর উদ্বোধনী দিনে মুখোমুখি হবে গত আসরের চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান ও শ্রীলংকা। ফতুল্লাহর খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে বেলা ২টায় খেলাটি শুরু হবে।
এশিয়া কাপের আগে মাঠের ভিতরের চেয়ে বাইরের সমস্যায় জড়িয়ে পড়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। তবে প্রশাসনিক সমস্যা যাই থাকুক না কেন, দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলংকার বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজ জয়ী পাকিস্তান বেশ ভালো অবস্থায় আছে। অভিজ্ঞ ও তারুণ্যের মিশ্রণে গড়া দলটি বেশ আত্মবিশ্বাসী। মিসবাহ উল হকের নেতৃত্বাধীন বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দলটি শিরোপা অক্ষুণ্ন রাখতে বদ্ধপরিকর। দলটি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তবে পেস ও স্পিন উভয় প্রকার বোলিংয়েই শক্তিশালী একটি দল। ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ খ্যাত পাকিস্তান যে কোনো কিছুই করতে পারে। এ পর্যন্ত দু’বার শিরোপা জয় করেছে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন এ দলটি।
এদিকে অভিজ্ঞ মাহেলা জয়াবর্ধনে ও সাঙ্গাকারা থাকায় বেশ শক্তিশালী দলেই পরিণত হয়েছে চারবারের চ্যাম্পিয়ন শ্রীলংকা। দিনেশ চান্ডিমাল, কুশল পেরেরা, আশান প্রিয়াঞ্জন ও লাহিরু থিরিমান্নের মতো দক্ষ খেলোয়াড়ও রয়েছে দলটিতে। আর গত এক মাস যাবৎ স্বাগতিক বাংলাদেশের বিরুদ্ধে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-২০ সিরিজ জয় করেছে। বোলিং আক্রমণের নেতৃত্বে থাকা লাসিথ মালিঙ্গার সঙ্গে অধিনায়ক অলরাউন্ডার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ ও থিসারা পেরেরা মূল শক্তি হিসাবে দলকে এগিয়ে নেবেন।
এশিয়া কাপে শুধু উপরের দুই দলের চেয়ে নয়; সবার চেয়েই বেশি সফল ভারত। সর্বশেষ ২০১০ সালসহ মোট পাঁচবার শিরোপা জিতেছে দলটি। ইনজুরির কারণে নিয়মিত অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি অংশ নিতে না পারলেও ভারতের মতো প্রায় একই কন্ডিশনের কারণে তারুণ্য নির্ভর দলটির ভালো করার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে। বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলি দলের নেতৃত্ব দেবেন। গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরেও তিনি ভাল করেছেন। এছাড়াও রোহিত শর্মা, চেতেশ্বর পুজারার মতো অনেক ভাল ব্যাটসম্যানতো রয়েছেই।
স্বাগতিক বাংলাদেশ কাগজে কলমের হিসাবে এখনো তুলনামূলক দুর্বল দল। লংকানদের বিপক্ষে সদ্য শেষ হওয়া সিরিজে দলটি খুব ভালো কিছু করতে না পারলেও কিছুদিন আগেই নিজ মাঠে নিউজিল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়েছে। গত আসরে ভারত, শ্রীলংকাকে হারিয়ে ফাইনালে মাত্র ২ রানে পাকিস্তানের কাছে পরাজিত হয়ে রানার্স আপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। নিজেদের সেরাটা খেলতে পারলে যে কোন দলকে হারানোর ক্ষমতা রাখে স্বাগতিকরা।
তবে ইনজুরির কারণে দলে নেই ওপেনার তামিম ইকবাল। সাসপেনশনের কারণে প্রথম ২ ম্যাচ খেলতে পারছেন না বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানও। তবে অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হক, সোহাগ গাজী, এনামুল হক বিজয় ও আরাফাত সানির মতো খেলোয়াড় থাকায় যে কোনো অঘটন তারা ঘটাতে সক্ষম। স্পিন নির্ভর বোলিং আক্রমণ নিয়ে ইতোপূর্বে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন সকল দলের বিপক্ষেই জয় ছিনিয়ে এনেছে। তাছাড়া হোম গ্রাউন্ডের বাড়তি সুবিধাতো থাকছেই।
এদিকে বিশ্ব ক্রিকেটে ইতোমধ্যেই সবার নজর কেড়েছে দলটি আফগানিস্তান। যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশটি অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের শক্ত অবস্থান গড়ে নিয়েছে। প্রথমবারের মতো অংশ নিচ্ছে এশিয়া কাপে। অবশ্যই ইতোমধ্যে টি-২০ ও ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে দলটি। টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর বিপক্ষে আফগানদের বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে।
প্রতিপক্ষ হিসাবে তারা খুব শক্তিশালী না হলেও মোহাম্মদ নবী, মোহাম্মদ শাহজাদ, নওরোজ মঙ্গল, শাপুর জারদান ও দৌলত জারদানের মতো ভালো খেলোয়াড় দলটিতে রয়েছে। তাছাড়া বেশ কয়েক জন খেলোয়াড় ইতোপূর্বে বিপিএল এবং ঢাকা লিগে খেলেছেন। টি-২০ বিশ্বকাপের আগে এ টুর্নামেন্ট হবে দলটির আদর্শ প্রস্তুতি।