মেসি ও রোনাল্ডো রেকর্ডের প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন দুজন দুজনার। কিন্তু এবার মেসির আগেই লা লিগার সর্বোচ্চ হ্যাটট্রিকের রেকর্ড ছুঁলেন রোনালদো। দুজনের সামনেই কিছুদিন ধরে হাতছানি দিচ্ছিল দুটো রেকর্ড। দুটোই লা লিগার ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দুই রেকর্ড, ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হওয়ার রেকর্ড।
সর্বশেষ ম্যাচে এক গোল করলেও লিওনেল মেসি হ্যাটট্রিক করার সহজ সুযোগ হেলায় হারিয়েছেন বলা যায়। ফলে রোনাল্ডোর আগে রেকর্ডটা ছোঁয়া হলো না মেসির। মেসির না পারলেও রোনালদোর রেকর্ডে নিজের নাম লিখিয়েছেন। গত রাতে কোনো ভুল ছাড়াই ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো টানা চার ম্যাচে তৃতীয় হ্যাটট্রিক তুলে নিয়েছেন।
বিলবাও কিংবদন্তি জারারই আরেকটি রেকর্ড ছুঁলেন রোনালদো। লা লিগার সর্বোচ্চ হ্যাটট্রিকের রেকর্ড। এতদিন ২২টি হ্যাটট্রিক নিয়ে সবার ওপরে ছিলেন জারা আর আলফ্রেডো ডি স্টেফানো। রিয়াল মাদ্রিদে নিজের মাত্র ষষ্ঠ মৌসুমের শুরুতেই সেই রেকর্ড ছুঁলেন রোনালদো। পরশু দুটো গোল ওভাবে হাতছাড়া না করলে সেটি হতো লিগে মেসির ২০তম হ্যাটট্রিক।
অবশ্য মেসির এখন রেকর্ডটা লা লিগার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার। ২৪৯টি গোল মেসির। ২৫১টি গোল নিয়ে সামনে আছেন তেলমো জারা।
জারারই দল বিলবাওয়ের বিপক্ষে কাল ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটে প্রথম গোলটি করেন রোনালদো। পরের দুটো গোল পেতে অবশ্য অনেক অপেক্ষা করতে হয়েছে। দ্বিতীয় গোলটি এসেছে দ্বিতীয়ার্ধের দশম মিনিটে। তৃতীয়টি একেবারে ম্যাচের শেষ দিকে। এর মাঝে করিম বেনজেমার জোড়া গোলে বিলবাওকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে রিয়াল।
মৌসুমের শুরুতে পরপর দুই ম্যাচে হেরে হোঁচট খাওয়া রিয়াল এখন অপ্রতিরোধ্য গতিতে ছুটছে। রোনালদোর মতোই। সব প্রতিযোগিতা মিলে টানা ছয় ম্যাচে জিতেছে তারা। এই সময়টায় গোল করেছে ২৭টি! অবশ্যই বেশির ভাগই রোনালদোর সৌজন্যে। এই মৌসুমের শুরুতেই এরই মধ্যে ১৭ গোল হয়ে গেল রোনালদোর। আরও একটি ব্যালন ডি’অর যেন এখনই হাতছানি দিচ্ছে তাঁকে।
লিগের ছয় ম্যাচে রোনালদোর গোল ১৩টি। লা লিগার ২০ দলের ১৮টিই এর চেয়ে কম গোল করেছে এখন পর্যন্ত! টানা আট ম্যাচ ধরে গোল পেলেন রোনালদো। ১৫ দিনের ব্যবধানে পেলেন তিনটি হ্যাটট্রিক। এই গতিতে ছুটতে থাকলে লা লিগার ইতিহাসে দ্রুততম সময়ে ২০০তম গোলের মালিক হয়ে যাবেন। ১৭১ ম্যাচে রোনালদোর গোল ১৯০টি।
এই জয় দিয়ে পয়েন্ট টেবিলের চার নম্বরেই শুধু উঠে আসেনি, বার্সেলোনার সঙ্গে পয়েন্টের ব্যবধানটা চারে নামিয়ে এনেছে রিয়াল। এ মাসের শেষে এল ক্লাসিকোতে সেই ব্যবধানটি আরও কমিয়ে ফেলার সুযোগ পাবে কার্লো আনচেলত্তির দল। অবশ্য তার আগে দুদল খেলবে আরও একটি করে ম্যাচ। সেই ম্যাচে জোড়া গোল পেলে তো কথাই নেই।
জেইউ





