স্কটল্যান্ডের করা ৩১৮ রান তাড়া করে ছয় উইকেটে জয় পেল বাংলাদেশ। এর ফলে শুধু বিশ্বকাপেই নয়; একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও সর্বোচ্চ স্কোর তাড়া করে নিজেদের জয়ের রেকর্ড গড়ল বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার নিউজিল্যান্ডের নেলসনে স্যাক্সটন ওভালে ৩১৮ রানের জবাবে ১৪ বল হাতে থাকতে ছয় উইকেটের জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।
এর আগে ২০০৯ সালে জিম্বাবুয়ের দেয়া ৩১২ রান তাড়া করে চার উইকেটে জয় পেয়েছিল টাইগাররা। এতদিন সেটিই ছিল তাদের সর্বোচ্চ স্কোর তাড়া করে জয়ের রেকর্ড।
সেই ম্যাচের সঙ্গে এ ম্যাচের বেশ কিছু মিল রয়েছে। সেদিন জিম্বাবুয়ের চার্লস কভেন্ট্রি ১৯৪ রান করে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর গড়ার রেকর্ড গড়েছিলেন। জবাবে তামিমের ১৫৪ রানের ইনিংসে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ।
এবার স্কটল্যান্ডের ওপেনার কোয়েটজার সহযোগী কোনো দেশের খেলোয়াড় হিসেবে সর্বোচ্চ স্কোরের রেকর্ড গড়লেন (১৫৬)। এই ম্যাচেও তামিমের ৯৫ রানের ইনিংসে ভর করে জয় পেলে বাংলাদেশ। এটি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর। এর আগে ২০০৭ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আশরাফুলের ৮৭ রান ছিল সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর।
এদিন জবাবে ব্যাট করতে নেমে মাত্র দুই রান উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দাবায়ের বলে ম্যাথু ক্রসের তালুবন্দী হন সৌম্য।
গত ম্যাচে রানের খাতা খোলার আগে সাজঘরে ফিরে যাওয়া তামিম ব্যাট হাতে ভালই জবাব দিচ্ছেন। তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে যাচ্ছেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। উভয়ই হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন।
লেইন ওয়ার্ডলর বলে মাহমুদুল্লাহ বোল্ড হলে ভেঙে যায় তাদের ১৩৯ রানের জুটি। মাঠ ছাড়ার আগে ৬২ বলে ছয়টি চার ও একটি ছক্কায় ৬২ রান করেন মাহমুদুল্লাহ।
তামিম ধীরে ধীরে সেঞ্চুরির দিকে এগিয়ে যান। সেই ২০১৩ সালের ২৩ মার্চ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেঞ্চুরির পর দীর্ঘ দিন ওয়ানডেতে তিন অঙ্কের ঘরের স্কোর করতে পারেননি। এবার সেঞ্চুরির খরা ঘুঁচানোর স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু সেঞ্চুরি থেকে পাঁচ রান দূরে আউট হয়ে যান।
জশ দাবায়ের বলে আম্পয়ার তাকে আউট দিলেও রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। নো বলও হয়নি, ক্যাচও উঠেনি। শেষ পর্যন্ত এলবিডব্লিউ আউট হন তিনি। মাঠ ছাড়ার আগে ১০০ বলে ৯টি চার ও একটি ছক্কায় ৯৫ রান করেন তিনি।
মুশফিক দলের হাল ধরে অর্ধ-শতক পূর্ণ করেন। আলাসদার ইভান্সের বলে ম্যাকলিউডের তালুবন্দী হওয়ার আগে ৪২ বলে ৬০ রান করেন তিনি।
পরে সাকিব আল হাসান ও সাব্বির রহমান দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন। দলের জয়ের জন্য এক রান দরকার হলেও বাউন্ডারি হাঁকিয়ে নিজের হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন সাকিব। ৪১ বলে ৫২ রান করেন তিনি। তার সঙ্গে ৪০ বলে ৪২ রান করে অপরাজিত থাকেন সাব্বির।
এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩১৮ রান সংগ্রহ করে স্কটল্যান্ড।
ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ছিলেন স্কটল্যান্ডের ওপেনার কোয়েটজার। নাসিরের শিকারে পরিণত হওয়ার আগে ১৫৬ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন তিনি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে স্কটল্যান্ডের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে শতক করেন এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান।
বিশ্বকাপে সহযোগী দেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে দেড়শ’ করার কৃতিত্ব দেখান কোয়েটজার। তার ১৩৪ বলের ইনিংসটি ১৭টি চার ও ৪টি ছক্কা সমৃদ্ধ।
৩৮ রানে দুই উইকেট হারানোর স্কটল্যান্ডকে বড় স্কোরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন মাচান (৩৫)।
তারপর ওপেনার কোয়েটজারের সঙ্গে ৩৮ বলে ৩৯ রানের ইনিংস খেলেন মমসেন।
শেষ দিকে ম্যাথু ক্রসের সঙ্গে অ্যান্ডি বেরিংটনের ৩৯ রানের জুটিতে তিনশ’ রান পার হয় স্কটল্যান্ডের সংগ্রহ। ১৬ বলে ২৬ রান করা তাসকিনের বলে মুশফিকুর রহিমের গ্লাভসবন্দি হন বেরিংটন। ২০ রান করা ক্রসও তাসকিনের শিকারে পরিণত হন।
সাত ওভারে ৪৩ রান তিয়ে তিন উইকেট শিকারী তাসকিন বাংলাদেশর সেরা বোলার।
জেডআই





