বিশ্বকাপ শেষ হলেও শেষ হয়নি আমাদের ক্রিকেট ভাবনা। ক্রিকেটীঁয় রেশ নিয়ে কাটছে এখনো আমাদের দিন-রাত। বিষয়টা মাথায় রেখেই কিছু সাজেশন্স তৈরি করেছেন শাহাদাত ফাহিম চাকরিটি পাওয়ার জন্য কত জোড়া জুতা আপনি ক্ষয় করেছেন তার হিসাব করতে গেলে একজনকে চাকরিতে নিয়োগ দিতে হবে।

কিন্তু তাকে বেতন দেয়ার মতো মোটা অঙ্কের টাকা না থাকায় সেটি আর করতে পারছেন না। তাই ক্ষয়ে যাওয়া জুতার হিসাবও আর করা হলো না।

কিন্তু এই হিসাবটি নিজেই করতে পারছেন যে, আপনার যোগ্যতা রয়েছে অন্য অনেকের চেয়ে ভালো। তার প্রমাণ হচ্ছে আপনার সার্টিফিকেটের অত্যধিক ওজন, যা দেখে কর্তৃপক্ষ আপনাকে ‘এত দিন কোথায় ছিলেন’ টাইপের কিছু বলার জন্য প্রস্তুত হয়ে গেছে।

কিন্তু মুখে আর বলা হয়নি। নিয়োগ লেটার হাতে পাওয়ার অপেক্ষা করছেন আপনি। এই অপেক্ষাটি তারাই আপনাকে করতে প্ররোচনা করেছে। তাই খুশিতে আপনিও মিষ্টির দোকানের আশপাশে আনাগোনা করছেন দৃষ্টিকটুভাবে।

এরই মধ্যে হঠাৎই শুনতে পেলেন আপনার কাক্সিত ওই পদে অন্য একজনকে নিয়োগ দেয়া হয়ে গেছে। কিন্তু তার কারণটি আপনি আজ পর্যন্ত জানতে পারেলন না। এটিকে আপনি এত দিন ব্যাডলাক বলেছেন। কিন্তু এখন এটি বললে হবে না। সময়ের প্রয়োজনে এটিকে এখন বলতে হবে কটবিহাইন্ড।

‘বদলে ফেলুন নিজেকে’ এ ধরনের কান কথায় আপনি বিশ্বাস না করে ‘সব কিছু বদলানো যায় না’ এই গুজবটিকেই বেশি বিশ্বাস করতে পছন্দ করেন। তাই মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কেউ যদি আপনাকে কোটি টাকাও ঘুষ দেন তবু বিন্দুমাত্র বদল করবেন না নিজেকে।

এই বিশ্বাসের কারণে আপনি বিয়ের আগে বিভিন্ন জায়গায়, নানা তরিকার আউড়াতের সাথে, যে হারে টাংকি মেরেছেন ঠিক সেই হারেই টাংকি মেরে যাচ্ছেন এখনো। এসব মূল্যবান টাংকির কারণে নিজের স্ত্রীকে মোটেও সময় দেয়ার টাইম পান না। এতে স্ত্রী মাইন্ডগত কারণে খুবই নাখোশ।

আর এই নাখোশের কারণে ঘরে কোনো লবণের বাটি জীবিত রাখতে পারেন না। কারণ এই টাংকিগত কারণে ওনার যখনই মেজাজ চড়াও হয় আপনার ওপর তখন পয়লা দফাতেই হাতে তুলে নেন লবণের বাটি। তার পর আপনার নাকের বারান্দা বরাবর যে দৃষ্টিনন্দনভাবে ছুড়ে মারেন তাতে বাটি চুরমার না হয়ে উপায় থাকে না।

অতঃপর তুলে নেন বেলন, ঝাড়– আথবা হাতের নাগালে যা পান তাই। যেগুলো দিয়ে আপনার হালুয়া ভালোভাবেই টাইট করেন। এটিকে আগে পুরুষ নির্যাতন বলেছেন। এখন বলতেই হবে চার-ছক্কা।

সবাই জানেন আপনি প্রেম কাকে বলে তা জানেনই না। কিন্তু আপনি জানেন প্রেম ছাড়া আর কিছুই জানে না। এর কারণ হচ্ছে আপনি যে তলে তলে মিস প্রেমিকা আক্তারের প্রেমে ডুবে গড়াগড়ি খেয়ে নাকের আগায় নিঃশ্বাস রেখেছেন তা অত্যন্ত গোপন কায়দায়। এ দিকে চোরের শ’খানেক দিন আর গৃহস্থের যে অন্তত এক আধ দিন তা আপনার জানাই ছিল না।

যে কারণে খেলেন হাতেনাতে ধরা। ধরা খাওয়ার পর সবাই এটিও জানল যে, প্রেমিকা আক্তারকে না পেলে ঘুষ দিলেও আপনি বাঁচবেন না। অবস্থা এমন যে, তাকে পেলে মউত এলেও আপনি মরবেন না! এটি যে, শুধু আপনার একারই হালত তা মোটেও নয়। প্রেমিকা আক্তারের অবস্থা এর চেয়েও ডেনজারাস। উনি দৈনিক একটি করে ছাগল মানত করেন শুধু আপনাকে পাওয়ার জন্য। এটি আপনার ডাবল কড়া বিশ্বাস।

ঠিক এ অবস্থার মধ্যেই উনি রিড্যাবল কড়া সানাই বাজিয়ে বিয়ে করলেন আরেকজনকে। এতে আপনার অবস্থা যেমনই হোক না কেন, বিয়ের রাত থেকে ওনার অবস্থা হচ্ছে বায়োডাটা দিলেও আপনাকে চিনতে পারছেন না ওনি। এটিকে আগে ছ্যাঁকা বলেছেন। এখন বলুন কিন বোল্ড আউট।

গতকালও আপনার হাতে যে এন্ড্রয়েড-আইওএস মোবাইল ফোনটি সবাই দেখেছে, তা ছিল আপনার লাইফের সবচেয়ে প্রিয়বস্তুর একটি। এটি আপনার এতই প্রিয় বস্তু ছিল যে, কথা বলার পর কান থেকে নামিয়ে সরাসরি পকেটে রেখে দিতেন না। ভালোবাসার চোখে এটির দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে তৃপ্তির একটি আনমনা ভেটকি দিতেন। তার পর বুকের ওপর আবৃত জামার সবচেয়ে পরিষ্কার অংশে আলত করে মুছে নিতেন।

অথচ কান থেকে কিছুই লাগেনি মোবাইলে। তবুও মুছতেন বারবার। অতঃপর যতনে রাখতেন পকেটে। আপনার এই কাণ্ড যারা আড় চোখে দেখার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন, তারা ঘণ্টাখানেক হেসে তলপেট ব্যথা করেছেন। পরে আবার তলপেট ব্যথানাশক ওষুধ খেয়েছেন। এই মোবাইল সাথে করে আপনি অত্যধিক সতর্কতার সাথে লোকাল বাসে বাড়ি ফিরছেন।

অথচ রওনা করার আগেই আপনাকে বলে দেয়া হয়েছে সিএজি অথবা টিকিট সিস্টেম সিটিং সার্ভিসে আসার জন্য। কিন্তু আপনি মারাত্মক রকমের কিপ্টুস গুণে গুণান্বিত হওয়ার কারণে সে কথা শুনলেন না। ফলে আপনার মোবাইল নিয়ে গেল পকেটমার। এটিকে মোবাইল খোয়ানো বলা অফ রেখে আপাতত বলুন হিটআউট।

ইআর