আরও ১০-১৫টা রান কি হতে পারত? এই প্রশ্ন হাহাকারে রূপ নিয়ে ম্যাচের শেষে না উঠলেই ভালো! বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ দক্ষিণ আফ্রিকাকে দিল ৩৩১ রানের লক্ষ্য।

প্রথম ম্যাচ বাজেভাবে হেরে শুরু করা প্রোটিয়াদের এবার বলে চাপ দিয়ে ঠেসে ধরার পালা। বিশ্বকাপে এটিই বাংলাদেশের রেকর্ড স্কোর।

অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের গত বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩২২ রান ছিল এতদিনের সর্বোচ্চ। ২০১৫ সালে নেলসনে স্কটিশরা করেছিল ৩১৮ রান, এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে জয় নিশ্চিত করা বাংলাদেশ করেছিল ৩২২। রবিবার ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে নিজের প্রথম ম্যাচেই সেটা টপকে গিয়ে নতুন রেকর্ড গড়লো বাংলাদেশ।

টস হারলেই আগে ব্যাট করতে হবে সেটা সবারই জানা ছিলো। সম্ভবত আগে ব্যাটিংটা বাংলাদেশ দলও চায়নি। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার পেস বোলিংয়ের জুজু কাটাতে বেশি সময় লাগেনি। দুই ওপেনারের সাবলীল ব্যাটিংয়েই ভালো একটা ভিত্তি পেয়ে যায় বাংলাদেশ।

তামিম অবশ্য বেশিদূর যেতে পারেননি। দলীয় ৬০ রানের সময় ব্যক্তিগত ১৬ রানে ফেরেন তিনি। আন্দিলে ফেলুকাওয়ায়ুর বলে উইকেটের পেছনে ক্যাট দেন তামিম।

সৌম্য ছিলেন স্বরূপে। প্রোটিয়া পেসারদের তোপগুলো একের পর এক বাউন্ডারি ছাড়া করেছেন শৈল্পিক সব শটে। ৩০ বলে ৪২ রান করে তিনি শিকার হন ক্রিস মরিসের।

এরপর সাকিব আল হাসানের সঙ্গে জুটি বাঁধেন মুশফিকুর রহিম। প্রতি বলে বলে অভিজ্ঞতার ছাপ রেখে গেছে মুশি-সাকিব জুটি। তাদের ১৪২ রানের জুটি ভাঙে ৩৬তম ওভারে। ৮৪ বলে ৭৫ রানে ফেরেন সাকিব। লেগস্ট্যাম্প ছেড়ে সুইপ করতে গিয়ে ইমরান তাহিরকে উইকেট উপহার দেন সাকিব।

২১ বলে ২১ রান করে ইমরান তাহিরের দ্বিতীয় শিকার হন মিঠুন। দলীয় ২৫০ রানের সময় ব্যাক্তিগত ৭৮ রানে ফেরেন মুশফিক। এরপর রানের চাকা কিছুটা শ্লথ হয়ে যায়।

শেষ দিকে মাহমুদুল্লাহর সঙ্গে জুটি বেঁধে দলকে বড় সংগ্রহ পাইয়ে দেন মোসাদ্দেক। দুজনের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৩৩০ রান তোলে বাংলাদেশ। মোসাদ্দেক ২৬ রানে ফিরলেও মাহমুদুল্লাহ অপরাজিত থাকেন ৪৬ রানে।

বাংলাদেশ ৩৩০/৬ (৫০)
তামিম ১৬ (২৯)
সৌম্য ৪২ (৩০)
সাকিব ৭৫ (৮৪)
মুশফিক ৭৮ (৮০)
মোহম্মাদ মিঠুন ২১ (২১)
মাহমুদুল্লাহ ৪৬ (৩৩)
মোসাদ্দেক ২৬ (২০)
মিরাজ ৫ (৩)

বোলার:
লুঙ্গি এনগিদি ৪-০-৩৪-০
কেগিসো রাবাদা ১০-০-৫৭-০
আন্দিলে ফেলুকাওয়ায়ু ১০-১-৫২-২
ক্রিস মরিস ১০-০-৭৩-২
এইডিন মারক্রাম ৫-০-৩৮-০
ইমরান তাহির ১০-০-৫৭-২
জেপি ডুমিনি ১-০-১০-০