আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৪৫ রানে হেরে গেলো বাংলাদেশ।
প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৬৭ করে আফগানিস্তান। আফগানদের দেয়া ১৬৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ১২২ রানে অলআউট হয় টাইগাররা।
বাজে বোলিংয়ের পর ব্যাটিংয়েও অনুজ্জ্বল বাংলাদেশ। তাতে বড় হার দিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু করল বাংলাদেশ।
তামিম ইকবালের গোল্ডেন ডাকে শুরু থেকেই উল্টো পথে যায় বাংলাদেশ। লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে কিছুটা সময়ের জন্য ম্যাচে ফেরে তারা। মাঝখানে লড়াই করেন মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু দলের পরাজয় এড়ানোর জন্য তা যথেষ্ট ছিল না।
নিজের প্রথম দুই বলে দুই উইকেট নেওয়া রশিদ শেষটায় গড়ে দিলেন ব্যবধান। তিনি আক্রমণে আসার পর যেন বদলে গেল আফগানদের বোলিং। বাংলাদেশ শেষ ৫ উইকেট হারাল মাত্র ১৪ রানে।
১৩ রানে ৩ উইকেট নিয়ে আফগানিস্তানের সেরা বোলার লেগ স্পিনার রশিদ। পেসার শাপুর জাদরান ৩ উইকেট নেন ৪০ রানে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: (লক্ষ্য ১৬৮) ১৯ ওভারে ১২২ (তামিম ০, লিটন ৩০, সাকিব ১৫, মুশফিক ১৭, মাহমুদউল্লাহ ২৯, সাব্বির ০, মোসাদ্দেক ১৪, হাসান ৫, নাজমুল ৪*, রুবেল ০, আবু জায়েদ ১; মুজিব ১/২০, শাপুর ৩/৪০, নবি ২/২১, করিম ১/২৭, রশিদ ৩/১৩)
ফল: আফগানিস্তান ৪৫ রানে জয়ী
১৬৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ
৮ উইকেটে ১৬৭ রানে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ইনিংসে থেমেছে আফগানিস্তান। ১০ ওভার পর্যন্ত ম্যাচটা ছিল সমানে-সমান। কিন্তু ২ ওভারের মধ্যে হঠাৎ করেই চালকের আসনে চলে এল বাংলাদেশ।
দ্বাদশ ওভারের শেষ বল থেকে চৌদ্দতম ওভারের পঞ্চম বল, এই ১২ বলে মাত্র ৫ রান করেছে আফগানিস্তান। এর মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে বসল দলটি। ১ উইকেটে ৮৬ রান থেকে হঠাৎ করেই ৯১/৪-এ রূপ নিল স্বাগতিক দল।
শুরুটা করেছেন সাকিব। তাঁকে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে শর্ট থার্ডম্যানে ধরা পড়লেন মোহাম্মদ (৩৭ বলে ৪০ রান)। আর ১৪তম ওভারে মাহমুদউল্লাহকে হাঁকাতে গিয়ে প্রথমে ফিরলেন নাজীবউল্লাহ জাদরান (২)। ২ বল বিরতিতে শূন্য হাতে ফিরলেন মোহাম্মদ নবী (০)। তখন পরিষ্কার ফেবারিট মনে হচ্ছিল বাংলাদেশকেই।
১৭তম ওভারের প্রথম বলে লং অনে শামিউল্লাহ শেনওয়ারির ক্যাচটা ধরতে পারলেন না মাহমুদউল্লাহ। রুবেলের বলে সে বলটা চার হয়ে গেল। সেটাই ম্যাচের রূপ আরেকবার বদলে দিল। পরের ওভারে আবু জায়েদকে নিয়ে রীতিমতো খেললেন শেনওয়ারি।
শেষ বলে ভুল এক শটে আউট হওয়ার আগেই দুই চার ও দুই ছক্কায় ২০ রান তুলে ফেলেছেন জায়েদের তৃতীয় ওভার থেকে। ৯ বলে ৮ রানে জীবন পাওয়া শেনওয়ারি শেষ পর্যন্ত আউট হলেন ১৮ বলে ৩৬ রান করে।
১৯তম ওভারে রুবেল দিলেন ১৩ রান। ২০তম ওভারের প্রথম দুই বলেই ছক্কা মারলেন সফিকউল্লাহ। তৃতীয় বলে বোল্ড যখন আউট হয়েছেন এই ব্যাটসম্যান, ততক্ষণে তিন শ স্ট্রাইক রেট হয়ে গেছে তাঁর (৮ বলে ২৪ রান, ১ চার ও ৩ ছক্কা)। শেষ ওভারেও ১৯ রান তুলেছে আফগানিস্তান। এক ওভারে মাত্র ১ রান দিয়ে উইকেট পাওয়ার পরো আরেক ওভার করানো হয়নি মাহমুদউল্লাহকে।
এর আগে দল নির্বাচনেই চমকে দিয়েছে বাংলাদেশ। একদম শেষ মুহূর্তে ডাক পাওয়া পেসার আবুল হাসান আছেন দলে। অবশ্য এমন চমকও খুব কাজে আসেনি। দুই ওপেনার উসমান গনি ও মোহাম্মদ শেহজাদ অনায়াসে কাটিয়ে দিয়েছেন পাওয়ার প্লে। ৬ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৪৪ রান তুলেছিল আফগানিস্তান। পঞ্চাশ ছুঁয়েছে ৭ম ওভারেই।
বাংলাদেশকে প্রথম সুখবর এনে দিয়েছিলেন রুবেল হোসেন। ৯ম ওভারে রুবেলের তৃতীয় বলে বোল্ড হয়েছেন গনি। ৬২ রানে প্রথম উইকেট হারানো আফগানিস্তান শেষ পর্যন্ত লড়াকু স্কোর গড়েছে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
আফগানিস্তান: ২০ ওভারে ১৬৭/৮ (শাহজাদ ৪০, গনি ২৬, আসগর ২৫, নাজিবুল্লাহ ২, নবি ০, সামিউল্লাহ ৩৬, শফিকুল্লাহ ২৪, রশিদ ৬*, করিম ০, মুজিব ০*;জায়েদ ১/৪২, নাজমুল ০/২৪, রুবেল ১/৩২, সাকিব ১/১৯, হাসান ২/৪০, মোসাদ্দেক ০/৩, মাহমুদউল্লাহ ২/১)
বাংলাদেশ দল: তামিম ইকবাল, লিটন দাস, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, আবুল হাসান রাজু, আবু জায়েদ রাহী, রুবেল হোসেন ও নাজমুল ইসলাম অপু।
আফগানিস্তান দল: মোহাম্মদ শাহজাদ, আসগর স্টানিকজাই (অধিনায়ক), উসমান গনি, মোহাম্মদ নবী, নজিবুল্লাহ জাদরান, শফিকউল্লাহ, রশিদ খান, মুজিব উর রহমান, সামিউল্লাহ সেনওয়ারি, করিম জানাত ও দৌলত জাদরান।
এমবি





