সাল ২০০৩। ইনজামাম-উল হকের দল পাকিস্তানকে টেস্টে হারানোর বড় সুযোগ পেয়েও সেটা কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। পাকিস্তানের মুলতানে হওয়া সেই ম্যাচে এক উইকেটে হার সাদা পোশাকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ‘ট্র্যাজেডি’ হয়ে আছে।

মুলতানের সেই স্মৃতিকে সঙ্গে নিয়ে দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবারও সাদা পোশাকে পাকিস্তানের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে আজ শুক্রবার স্বাগতিকদের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। রাওয়ালপিন্ডিতে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টায়।

সেই ২০০০ সালের নভেম্বরে সাদা পোশাকে বাংলাদেশের অভিষেক হয়েছে। দল হিসেবে দীর্ঘ ১৯ বছরেও এ ফরম্যাটে গুছিয়ে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক সময়ে এ ফরম্যাটে টাইগারদের অবস্থা আরো করুণ। গত এক বছরে টেস্টে কোনো জয় নেই। ২০১৯ সালে পাঁচ টেস্টের সবকটিতে হেরেছে তারা। সবশেষ জয় এসেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২০১৮ সালের নভেম্বরে। এরপর এখন পর্যন্ত জয়হীন।

ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া বাংলাদেশের এবারের পরীক্ষা পাকিস্তানের বিপক্ষে। হতাশা ভুলে সাদা পোশাকে জয় দিয়ে রাঙানোর স্বপ্ন লাল-সবুজদের চোখে। যেমনটা গতকাল বৃহস্পতিবার জানিয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মুমিনুল হক।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘দেখুন একসময় না একসময় এই হারের বৃত্তটা তো ভাঙতেই হবে। ইনশাআল্লাহ এটা ভাঙতে আমরা সবাই প্রস্তুত। খুব ভালো প্রস্তুতি নিয়েছে সবাই। ওই হিসেবে চিন্তা করলে, আমরা আশাবাদী ম্যাচটি নিয়ে। আশা করি, এখানে আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারব।’

এ ছাড়া বিদেশের মাটিতে ভালো করার প্রত্যয়ের কথা শুনিয়ে অধিনায়ক বলেন, ‘চেষ্টা করছি এই জিনিসটি (বিদেশের মাটিতে জয়) এখান থেকে শুরু করার জন্য। সব মিলিয়ে আমরা ভালো ফোকাসে আছি। আশা করছি, আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারব। আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। আমার মনে হয়, কন্ডিশনটা অনেক ভালো আছে। একটু ঠান্ডা আছে। ওই হিসেবে চিন্তা করলে আমরা ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পারব।’

অন্যদিকে বাংলাদেশকে সহজভাবে নিচ্ছে না পাকিস্তানও। সেটা নিজ মুখেই স্বীকার করলেন অধিনায়ক আজহার আলী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ খুব শক্ত প্রতিপক্ষ হতে পারে। চমকে দিতে পারে। তাদেরকে সহজভাবে নিচ্ছি না আমরা। তাদের দলে ম্যাচ জেতানো ক্রিকেটার রয়েছে। অবশ্যই তাদের দলে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার নেই। কিন্তু আমি যেমনটা আগেই বলেছি, স্বাগতিক হিসেবে আমরা একটু এগিয়ে থাকতে পারি, কিন্তু মাঠের বাইরে থেকে কিছু জেতা যায় না। আমাদের সেটা মাঠে করে দেখাতে হবে।’

সীমিত ওভারের ক্রিকেটে পাকিস্তানের সঙ্গে ব্যবধান কমিয়ে আনছে বাংলাদেশ। তবে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ থেকে অনেক এগিয়ে পাকিস্তান। দুই দলের ১০ টেস্টের নয়টিতেই জিতেছে দলটি। ড্র হয়েছে একটি ম্যাচ। এ ছাড়া দলে নেই অন্যতম সেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। নেই নির্ভরযোগ্য ব্যাটম্যান মুশফিকুর রহিমও। সেইসঙ্গে টানা ব্যর্থতার হতাশা তো আছেই। সবমিলিয়ে পাকিস্তানকে ফেভারিট মেনেই আজ মাঠে নামবে বাংলাদেশ। তবে মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের প্রমাণ করতে পারে কি না, সেটাই দেখার।

রাওয়ালপিন্ডিতে ৭-১১ ফেব্রুয়ারি হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট। ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ২২ মার্চ পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) আয়োজন করবে পিসিবি। পিএসএল শেষ হওয়ার পর এপ্রিলে তৃতীয় দফায় পাকিস্তান সফরে যাবে বাংলাদেশ। ৩ এপ্রিল করাচিতে খেলবে একমাত্র ওয়ানডে ম্যাচ। এরপর ৫-৯ এপ্রিল করাচিতে দ্বিতীয় টেস্টে নামবে টাইগাররা।

প্রথম টেস্টের বাংলাদেশ দল : মুমিনুল হক (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, মাহমুদউল্লাহ, মোহাম্মদ মিঠুন, লিটন দাস, তাইজুল ইসলাম, নাঈম হাসান, এবাদত হোসেন, আবু জায়েদ রাহি, আল-আমিন হোসেন ও রুবেল হোসেন।

এমআর