পিছু হটলেন ‘বাঁচাও ফুটবল’ কমিটির কর্ণধাররা। বাফুফের সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে বিনা-প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী।
এই কমিটির শীর্ষ তিন প্রার্থীসহ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) আসন্ন নির্বাচনে ৯ জন প্রার্থী ১১টি পদ থেকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
তাই আগামী ৩০ এপ্রিলের নির্বাচনী দৌড়ে টিকে থাকলেন মোট ৪৯ জন প্রার্থী। যদিও চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা বৃহস্পতিবার ঘোষণা করবে নির্বাচন পরিচালনার জন্য গঠিত কমিশন।
বাফুফের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার আভাস মিলছিল সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে।
তবে বুধবার এই পদের প্রতিদ্বন্দ্বী তিন প্রার্থী শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের প্রেসিডেন্ট মনজুর কাদের, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লা্বের ডাইরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূঁইয়া ও আওয়ামী লীগের ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক দেওয়ান শফিউল আরেফীন টুটুল মনোয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন।
তাই বর্তমান সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এই পদে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। বাকি পদগুলোতে আগামী ৩০এপ্রিল হবে নির্বাচন। ১৩৪ ভোটার যেখানে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
লোকমান ভূঁইয়া সিনিয়র সহ-সভাপতি পদের পাশাপাশি সহ-সভাপতি পদেও মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। আর টুটুল সিনিয়র সহ-সভাপতি পদ ছাড়াও সদস্য পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। এই দুজনই উভয় পদ থেকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন।
গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ছিল। কাদের-লোকমান-টুটুল ছাড়াও এদিন আরো ছয় প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। তারা সবাই আগামী নির্বাচনে সদস্য পদে লড়তে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন।
আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের সভাপতি এবং ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের (দক্ষিণ) স্থানীয় কাউন্সিলর মুমিনুল হক সাঈদ সদস্য পদে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করলেও সহ-সভাপতি পদে নির্বাচন করবেন।
সাঈদ অবশ্য শুরুতে কাদেরের প্যানেল ‘বাঁচাও ফুটবল’ কমিটির সঙ্গে বিভিন্ন সভা-সমিতিতে থাকলেও বুধবার নিজেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী বলে ঘোষণা করেছেন। এখন আর কোনো প্রার্থীর নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো সুযোগ নেই বলেও জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ।
নির্বাচন নিয়ে সমঝোতার গল্পও বাতাসে ভাসছে। দুই প্যানেল থেকে দুজন করে মোট চারজন সহ-সভাপতি নাকি ঠিক হয়ে গেছে।
সহ-সভাপতি পদে সালাউদ্দিন প্যানেল থেকে কাজী নাবিল আহমেদ এমপি ও সামশুল হক চৌধুরী এমপি এবং কাদেরের প্যানেল থেকে আশরাফ উদ্দিন আহমেদ চুন্নু ও নজিব আহমেদের নাম শোনা গেছে।
অবশ্য সমঝোতার বিষয়টিকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন বাফুফে সভাপতি কাজী মো. সালাহউদ্দিন ও সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী।
তবে দুই প্যানেলে যদি সমঝোতা হয়েও থাকে তাহলেও সহ-সভাপতি পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা স্বতন্ত্র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান এবং মুমিনুল হক সাঈদ তাদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেননি।
প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেননি দুই প্যানেলের পরিচিত মুখ বর্তমান সহ-সভাপতি বাদল রায়, মহিউদ্দিন আহমেদ মহি, খুরশিদ আলম বাবুলও।
নির্বাচনের সমঝোতার কথা উড়িয়ে দিয়ে কাজী সালাহউদ্দিন বলেছেন, ‘নির্বাচনে আমার প্যানেল কাজ শুরু করে দিয়েছে। পূর্ণ প্যানেলই আমরা নির্বাচনে থাকছি। আমার ওপর কারো কোনো চাপ নেই।’
উচ্চ মহলের চাপের কথা আলোচনায় থাকলে ফিফা থেকে এ নিয়ে আপত্তি তুলতে পারে, তাই কি বিষয়টি স্বীকার করা হচ্ছে না? এমন প্রশ্ন করা হলে জবাবে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘যেহেতু কোনো চাপই নেই, সেহেতু ফিফার বিষয়টি আলোচনায় আসার প্রশ্নই ওঠে না।’
নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি জানিয়ে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি। প্রয়োজন হলে আলোচনা করব।’ \
এদিকে সালাম মুর্শেদীর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্বাচিত হওয়াকে নিজ প্যানেলের জয় বলেও উল্লেখ করেছেন কাজী সালাহউদ্দিন।
নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত একমাত্র প্রার্থী আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, ‘আমরা নির্বাচনী ময়দানে আছি, ঐক্যবদ্ধ আছি। আমাকে কেউ পদ ছেড়ে দেয়নি। সমঝোতার বিষয়টি সম্পূর্ণ গুজব।’
এসএম





