একাদশ এশিয়া কাপে গ্রুপ পর্বে জয়ের দেখা পায়নি শ্রীলংকা। এবার যেন শিরোপাটি জয় করতেই বাংলাদেশে এসেছিল লংকানরা। এশিয়া কাপের আগে টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে সিরিজে স্বাগতিকদেরকে হোয়াইট ওয়াশ করে আত্মবিশ্বাসটি বাড়িয়ে নিয়েছিল তারা। সেটা আরো তুঙ্গে উঠে যায় গ্রুপ পর্বে পাকিস্তানের পর ভারতকেও হারিয়ে। বাকিরা পাত্তাই পায়নি ম্যাথুসদের কাছে। জয়ের ধারাটি বজায় রেখেছে ফাইনাল ম্যাচেও। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটিতে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তানকে পাঁচ উইকেটে হারিয়ে এশিয়ার রাজত্ব হাতে নিয়েছে শ্রীলংকা।
শনিবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৬০ রান সংগ্রহ করে টসজয়ী পাকিস্তান। জবাবে ২২ বল হাতে থাকতেই ৫ উইকেটের জয় তুলে নেয় শ্রীলংকা। ফলে এই নিয়ে পঞ্চমবারের মতো এশিয়া কাপের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে তারা। আর একমাত্র ভারতই পাঁচবার ট্রফি জয়ে করেছে।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কোনো উইকেট না হারিয়েই পাওয়ার প্লে পার করে লংকানরা। তবে ১১তম ওভারে সাঈদ আজমলের প্রথম বলেই স্টাম্পিংয়ের শিকার হন ওপেনার কুসল পেরেরা। এই ব্যাটসম্যান ৩৭ বলে ৪২ রান করে আউট হলে ভরসার পাত্র কুমার সাঙ্গাকারা মাঠে এসেই এলবিডব্লিউ'র ফাঁদে পড়েন। তৃতীয় বলটিও ছিল দুর্দান্ত। অফ স্টাম্পের বলটি মাহেলা পা দিয়ে ফিরালেও সেটি বেশ উঁচু হওয়ায় হ্যাটট্রিক বঞ্চিত হন আজমল।
মাহেলাকে নিয়ে শক্তিশালী জুটি গড়ে তোলেন ওপেনিং জুটির লাহিরু থিরিমান্নে। তাদের ১৫৬ রানের জুটিতে জয়ের বন্দরের কাছাকাছি পৌঁছে যান তারা। জয়াবর্ধনে ৭৫ রান করে মোহাম্মদ তালহার বলে শারজীল খানের তালুবন্দী হলেও সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন থিরিমান্নে। ক্যারিয়ারের তৃতীয় ওয়ানডে সেঞ্চুরির পর তিনিই মাঠে বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারেননি। ১০১ রান করে সাঈদ আজমরের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরে যান।
হার না মানা ১৬ রান নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস। তার সঙ্গে ৬ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন চতুরঙ্গ ডি সিলভা। পাকিস্তানের বোলার সাঈদ আজমল সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট পান।
এর আগে টস জিতে শুরুতে ব্যাট করতে নামলেও লংকানদের বোলিং ট্রামকার্ড লাসিথ মালিঙ্গার কাছে শুরুতেই ব্যর্থতার পরিচয় দেয় পাকিস্তান। মাত্র ১৮ রান সংগ্রহ করতেই তিন উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় তারা। তবে ফাওয়াদ আলমের সেঞ্চুরিতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ২৬০ রান সংগ্রহ করে গত আসরের চ্যাম্পিয়ন দলটি।
ধীর লয়ে চলা নীতিতে বিশ্বাসী মিজবাহ ৯৮ বলে তিনটি চার ও দুটি ছক্কায় মাত্র ৬৫ রান করে আউট হন। ৩৬.৪ ওভারে তিনি মাঠ থেকে বিদায় নিলে ফাওয়াদের সঙ্গে তার ১২২ রানের জুটি শেষ হয়।
দলনেতা চলে গেলেও খেলা শেষ করেই মাঠ থেকে বিদায় নেন ফাওয়াদ। শেষ বল পর্যন্ত টিকে থেকে ১৩৪ বলে আটটি চার ও তিনটি ছক্কায় ১১৪ রান করেন তিনি। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে দুই বল হাতে থাকতে সাজঘরে ফিরে যাওয়া উমর আকমল ৪২ বলে ৫৯ রান করে দলে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। পাকিস্তানের পাঁচটি উইকেটই শিকার করেন লংকান বোলার লাসিথ মালিঙ্গা।