টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম রাউন্ডে 'বি' গ্রুপের লড়াই শুরু হয়েছে নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে। আর সেই নাটকীয়তার মধ্য দিয়েই শেষ হয়েছে গ্রুপ পর্বের লড়াই। প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে সুপার-১০ পর্বে খেলার স্বপ্ন দেখেছিল আয়ারল্যান্ড। নেদারল্যান্ডসকে হারানোর পর শেষ ম্যাচে আরব আমিরাতের বিপক্ষে বড় জয় পেয়ে পরের রাউন্ডে খেলার স্বপ্ন দেখে জিম্বাবুয়ে। কিন্তু সব জল্পনা-কল্পনার ইতি টেনে বড় দলগুলোর সঙ্গে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে নেদারল্যান্ডস।
শুক্রবার দিনের প্রথম ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ১৩.৪ ওভারে ৫ উইকেটের জয় তুলে নেয় জিম্বাবুয়ে। দ্বিতীয় ম্যাচে হারলেই টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ে যেত আয়ারল্যান্ড। তাই সুপার-১০ পর্বে খেলতে ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে নেদারল্যান্ডসকে ১৯০ রানের টার্গেট দেয় তারা। কিন্তু ১৩.৫ ওভারেই ৬ উইকেট হাতে থাকতেই ১৯৩ রান সংগ্রহ করে ডাচরা।
এই জয়ের ফলে 'বি' গ্রুপে আয়ারল্যান্ড, জিম্বাবুয়ের সমান চার পয়েন্ট অর্জন করে নেদারল্যান্ডস। তবে রান রেটে এগিয়ে থেকে শীর্ষ স্থান দখল করে ডাচরা। ফলে পরের রাউন্ডে খেলাও নিশ্চিত করে দলটি।
এদিন টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং বেছে নেন ডাচ দলনেতা পিটার বোরেন। বল হাতে সফল হতে পারেননি তারা। প্রথম দুই ম্যাচে জয় পাওয়া আয়ার‌ল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা ঝড়ো ব্যাটিং করে বড় স্কোর সংগ্রহ করেন।
ওপেনার পোর্টারফিল্ড ৩২ বলে ৪৭ রান করে দলের ভিত গড়ে দিয়ে যান। আরেক ওপেনার স্টার্লিং (৭) ও ওয়ানডাউনে নামা জয়সি (২৮) সমান তালে লড়তে পারেননি। কিন্তু পয়েন্টার ও কেভিন ও'ব্রেইন গড়ে তোলেন ১০১ রানের জুটি। শেষ পর্যন্ত টিকে থেকে ৩৮ বলে ৫৭ রান করেন পয়েন্টার। শেষ বলে আউট হওয়ার আগে ১৬ বলে ৪২ রান করেন কেভিন।
জবাবে শুরু থেকেই মারমুখী ছিলেন নেদারল্যান্ডসের উদ্বোধনী জুটির বোরেন ও মাইবার্গ। প্রথম দুই ওভারেই ৩৪ রান নেন তারা। ষষ্ট ওভারের শেষ বলে এই জুটি পতন হওয়ার আগে ৯১ রান সংগ্রহ করে।
১৫ বলে ৩১ রান করা বোরেন আউট হলেও হাফ-সেঞ্চুরি করেন মাইবার্গ। তিনি যেন ছক্কা ছাড়া ব্যাটই করতে পারেননি। তবে আটটি ছক্কার রেকর্ড গড়ার আগে ২৩ বলে ৬৩ রান করে সাজঘরে ফিরে যান এই ব্যাটসম্যান।
তবে ঝড় থামেনি। ১৫ বলে একটি চার ও ৬টি ছক্কায় ৪৫ রান করেন টিম কুপার। তিনি আউট হলেও ২২ বলে ৪০ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন বারেসি। তার সঙ্গে ৫ বলে ৯ রান নিয়ে খেলা শেষ করেন বেন কুপার। এই ম্যাচে মোট ৩০টি ছক্কার মধ্যে নেদারল্যান্ডসের ব্যাটসম্যানরাই হাঁকিয়েছেন ১৯টি।