বিপিএলের পঞ্চম আসরের প্রথম ম্যাচে ঢাকা ডায়নামাইটসকে ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে উড়িয়ে দেয় সিলেট সিক্সার্স। ফিরতি লেগে যেন সেই হারের বদলা নেয়ার পণ নিয়ে মাঠে নেমেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। শনিবার দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ঢাকাকে সর্বসাকূল্যে ১০২ রানের লক্ষ্যমাত্রা দিতে সক্ষম হয়েছে সিলেট।
মিরপুরের শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে টসে জিতে সিলেটকে ব্যাটিংয়ে পাঠান ঢাকার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। শহিদ আফ্রিদি, সুনিল নারিন ও আবু হায়দারের বোলিং তোপে পড়ে বড় ধরনের লজ্জার মুখেই পড়তে যাচ্ছিল সিলেট। তবে শেষ উইকেটে তাইজুল ইসলাম এবং আবুল হাসানের দারুণ ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৯ উইকেট হারিয়ে ১০১ রান করতে সক্ষম হয় দলটি।
সিলেটের হয়ে আবুল হাসান ২৬ বলে ৩টি চার ও একটি ছক্কার সাহায্যে সর্বোচ্চ ৩০ রান করেন। তাইজুল করেন ২০ বলে ১৬ রান। দানুসকা গুনাথিলাকা ১৫ এবং নাসির হোসেন ১০ রান করলেও আর সবার নামের পাশেই মোবাইলের ডিজিট। উপুল থারাঙ্গা (১), সাব্বির রহমান (১), রস হুইটলি (৬), নুরুল হাসান সোহানরা (৮) ব্যাট হাতে চরম ব্যর্থ হলে হারের শঙ্কার মুখে পড়ে সিলেট।
বিপিএলের এবারের আসরে প্রথমবারের মতো মাঠে নামা আফ্রিদি ৪ ওভারের স্পেলে ১২ রান দিয়ে সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট নেন। এছাড়া নারিন তিনটি ও আবু হায়দার নেন দুটি উইকেট।
টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে আবু হায়দারের করা দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলে ইনফর্ম ব্যাটসম্যান থারাঙ্গা উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরে গেলেই সিলেটের পতনের শুরু। নারিনের করা ইনিংসের তৃতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলে স্লিপে ডেলপোর্টকে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান সাব্বির।
পরের ওভারে গুনালিথাকাকে ডেলপোর্টের হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন আবু হায়দার। সিলেটের রান তখন ৩ উইকেটে ১৯।ঘুরে দাঁড়ানোর আগেই ইনিংসের পঞ্চম ওভারের পঞ্চম বলে হুইটলি ক্যাচ আউট হয়ে ফিরে গেলে ব্যাকফুটে চলে যায় সিলেট। এরপরই শুরু হয় আফ্রিদি-ম্যাজিক।
ইনিংসের ষষ্ঠ এবং ব্যক্তিগত প্রথম ওভারের শেষ বলে নাসির হোসেনকে স্লিপে ক্যামেরন ডেলপোর্টের হাতে ক্যাচ দিয়ে বাধ্য করেন আফ্রিদি। নিজের দ্বিতীয় ওভারে কোনো উইকেট না পেলেও শেষ দুই ওভারে বিধ্বংসী রূপে ধরা দেন ঢাকার পাকিস্তানি রিক্রুট। দুই ওভারে তিন রান দিয়ে তুলে নেন আরো তিন উইকেট।
আফ্রিদির করা দশম ওভারের তৃতীয় বলে সাকিব আল হাসানের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন ভানিদু। নিজের শেষ ওভারে দুই উইকেট নেন আফ্রিদি। ইনিংসের দ্বাদশ ওভারের দ্বিতীয় বলে টিম ব্রেসনানকে আউট করে ঢাকার দর্শকদের আনন্দে ভাসান তিনি।
ওভারের শেষ বলে নুরুল হাসান সোহানকে ডেলপোর্টের হাতে ক্যাচ দিয়ে বাধ্য করেন আফ্রিদি। সবমিলিয়ে বিপিএলের পঞ্চম আসরের প্রথম ম্যাচকে রাঙিয়ে দিলেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক।
পরের ওভারে সিলেটকে ফের ধাক্কা দেন নারিন। এই ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান স্পিনারের করা ১৩তম ওভারের শেষ বলে বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়ের পথ ধরেন মোহাম্মদ শরীফ।
দশ উইকেটে আবুল হাসান ও তাইজুল ইসলাম মিলে রানের জুটি গড়ে দলকে বড় লজ্জা থেকে উদ্ধার করেন। এই দুজন ৪২ বলে ৪৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়লে ১০০ রানের কোটা পার করে সিলেট।
নিজেদের প্রথম চার ম্যাচের তিনটিতে জিতে আপাতত টেবিলের শীর্ষে রয়েছে সিলেট সিক্সার্স। অন্যদিকে দুই ম্যাচে একটি করে জয় ও পরাজয় সঙ্গী হয়েছে ঢাকার।
এমএ





