চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জাব্বারের বলি খেলায় ১০৬তম আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন কক্সবাজার জেলার দিদার বলি। এ নিয়ে টানা ১২বারের মত বিজয়ী হন তিনি।

শনিবার চট্টগ্রামের লালদীঘির মাঠে জব্বারের বলি খেলায় দিদার বলি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অলি বলিকে পরাজিত করে টানা ১২ বছরের বিজয়ের ধারা অক্ষুন্ন রাখতে সক্ষম হন।

এর আগে দিদার বলি বলি খেলার ১৩টি আসরে অংশ নিয়ে ১১ বার চ্যাম্পিয়ন হন। গত বছর বলি খেলার ১০৫ তম আসরেও দিদার বলি চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন।

বিজয়ী হওয়ার পর দিদার বলির হাতে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি ও নগদ ১৫ হাজার টাকার পুরস্কার তুলে দেন বলি খেলার প্রধান অতিথি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি।

বাংলাদেশে বলি খেলার প্রচলন চট্টগ্রাম থেকেই। সেই ১৯০৯ সাল থেকে আবদুল জব্বারের বলি খেলার সূচনা। চট্টগ্রামে এই খেলা ও বৈশাখী মেলা চট্টগ্রামের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও অহঙ্কারে পরিণত হয়েছে বহু আগেই।

বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় লোকজ উৎসব হিসেবে পরিণত হয়েছে চট্টগ্রামের জব্বারের বলি খেলা। তারই ধারাবাহিকতায় শনিবার চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘীর মাঠে বসে বলিখেলার ১০৬ তম আসর। জব্বারের বলি খেলায় একের পর এক প্রতিদ্বন্দ্বীকে কুপোকাত করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন কক্সবাজারের রামু উপজেলার দিদার বলি।

দিদার বলি যেনো চট্টগ্রামে জব্বারের বলি খেলার অপ্রতিরোধ্য বলি। ১৪ বছর ধরে বলি খেলায় অংশ নেয়া শুরু করেছেন দিদার বলি। এর মধ্যে টানা ১২ বারই চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন দিদার বলি।

সারাদেশ থেকে শক্তিমান কুস্তিগিররাই লালদিঘীর মাঠে বলি খেলায় অংশ নিতে আসে। কিন্তু গত ১২ বছর ধরে এমন কোনো বলি বা পালোয়ানকে পাওয়া যায়নি যে দিদার বলিকে হারাতে পারে। জব্বারের বলি খেলায় লালদীঘি মাঠে অনুষ্ঠিত এই খেলায় রানার্স আপ হওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অলি বলিকে মাত্র ৩ মিনিটে কুপোকাত করেছেন অপ্রতিরোধ্য দিদার বলি।

পুরো বাংলাদেশে যেনো এমন কেউ নেই যে দিদার বলিকে হারাতে পারে। সারাদেশ থেকে চট্টগ্রামের জব্বারের বলি খেলায় অংশ নিতে আসে শক্তিমান কুস্তিগিররা। এর মধ্যে কুস্তি প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক পাওয়া কুস্তিগিরও থাকেন একাধিক। কিন্তু সবাই দিদার বলির কাছে যেনো অসহায়। এক ঝটকায় দিদার বলির কাছে কুপকাত হয় সব পালোয়ান।

টানা ১২ বছর ধরে জব্বারের বলি খেলার চ্যাম্পিয়ন দিদার বলি রাইজিং বিডিকে বলেন, ‘আমি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্যই লালদিঘীর মাঠে আসি। বছরের একদিন এই বলি খেলার জন্য আমি পুরো বছর ধরে প্রতিদিন নিজেকে প্রস্তুত করি। বলি খেলার জন্য আমি সাধনা করি। নিজের শরীরের শক্তি সামর্থ ধরে ধরে রাখতে খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে সব কিছুই আমার নিয়ন্ত্রিত।’

দিদার বলি বলেন, ‘আমি চাই আমার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হউক। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য আমার সঙ্গে লড়াই করুক। কিন্তু এমন কোনো বলি লালদিঘীর মাঠে আসছে না যে আমার সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারে।’

মাত্র ৩ মিনিটে প্রতিদ্বন্দ্বিকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মধ্যে তেমন একটা আনন্দ পাননি বলে জানান দিদার।

তিনি বলেন, ‘আমার প্রতিদ্বন্দ্বী অলি বলি কিছুটা সময় টিকে থাকতে পারলে দর্শকরাও আনন্দ পেতো। আমিও লড়াই করে তৃপ্তি পেতাম। কিন্তু আমার প্রথম কৌশলেই অলি বলি কুপোকাত হওয়ায় হাজার হাজার দর্শক বলি খেলার ফাইনালের চুড়ান্ত আনন্দ উপভোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।’

দিদার বলি বললেন, ‘আমি এমন করেই আমার জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে চাই।’

প্রতিযোগিতায় রানার্সআপ অলি বলিকে দেওয়া হয় ১০ হাজার টাকা নগদ পুরস্কার এবং রানার্স আপ ক্রেস্ট।

এমকে