বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের গতিতারকা তাসকিন আহমেদের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনার জন্য আগের দিনই রিভিউ করার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এমপি।

সোমবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার (আইসিসি) কাছে রিভিউ আবেদন করে বিসিবি। এমনটি নিশ্চিত করেন বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিজামুদ্দিন চৌধুরী সুজন।

বিসিবির এই প্রধান নির্বাহী বলেন, ‘তাসকিনের বোলিং অ্যাকশনের ব্যাপারে আজকে আমরা আইসিসিকে নোটিসের রিভিউ করার আবেদন পাঠিয়েছি।’

তাসকিনের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার জন্য গত রবিবার আইসিসির চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) সাথে ফোনে কথা বলেছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। বিসিবি সভাপতিকে আইসিসি থেকে সেদিন আশ্বস্ত করা হয়, তারা এই বিষয়টি নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছেন। সেদিনের মিটিং শেষে আইসিসি থেকে কোনো সুসংবাদ এসেছে কিনা জানতে চাইলে বিসিবির সিইও বলেন, ‘আইসিসি থেকে আমরা এখনও কোনো সবুজ সংকেত পাইনি। আমরা রিভিউ আবেদন পাঠিয়েছি। এখন যতদ্রুত সম্ভব শুনানি হবে।’

যদিও বাংলাদেশ আশা করছে, দ্রুতই তাসকিনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হবে। এমনকি বোর্ড সভাপতি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এই বিশ্বকাপেই খেলে ফেলতে পারেন তাসকিন। কিন্তু সুজন বলেন, ‘এটার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময় বেধে দেয়া নেই। এমনও হতে পারে আগামীকালও (আজ) হতে পারে। আরো কয়েকদিন পরেও শুনানি হতে পারে। আমরা আশা করছি দু’একদিনের মধ্যে শুনানি হবে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যেই বিষয়টির সমাধান হবে।’

উল্লেখ্য, গত ৯ মার্চ ধর্মশালায় নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচে এই দু জন বোলারের অ্যাকশন সন্দেহজনক বলে রায় দেন ম্যাচের কর্মকর্তারা। তাদের রিপোর্টের পর আরাফাত সানি ১২ মার্চ ও তাসকিন ১৫ মার্চ নিকটস্থ চেন্নাইয়ের শ্রী রামচন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরিতে অ্যাকশনের পরীক্ষা দেন। ১৯ মার্চ বিকাল বেলা সবাইকে চমকে দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানালো, অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের দায়ে বাংলাদেশের দুই বোলার আরাফাত সানি ও তাসকিন আহমেদকে সব ধরনের বোলিং থেকে নিষিদ্ধ করেছে তারা। আইসিসি বলেছেন, চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় আরাফাত সানির প্রায় সব ডেলিভারি বৈধ সীমার ওপরে বলে দেখা গেছে। তাসকিনের ক্ষেত্রে কিছু কিছু ডেলিভারি অবৈধ বলে জানিয়েছে আইসিসি।

কিন্তু আইসিসির এই রায়ে বিসিবি বিস্ময় প্রকাশ করে কয়েকটি পয়েন্টে। তাসকিনের বিরুদ্ধে প্রাথমিক রিপোর্টে তার কোনো নির্দিষ্ট ধরনের ডেলিভারি বা ডেলিভারিগুলো সন্দেহজনক, তা উল্লেখ করেননি আম্পায়াররা। ফলে এই রিপোর্ট পরবর্তী পরীক্ষায় পাঠানোর জন্য যথেষ্ট ছিলো না। তাসকিন আহমেদের নিয়মিত বল (স্টক ডেলিভারি) ও ইয়র্কারকে বৈধ বলেছে আইসিসি। কেবল অবৈধ বাউন্সার। ফলে তাকে নিষিদ্ধ করা সম্ভব না। এমন ক্ষেত্রে বাউন্সারের ক্ষেত্রে সতর্ক করে দিয়ে বল করতে দেয়ার বিধান আছে।

তাসকিনকে ৯টি বল বাউন্সার করতে বলা হয়েছে; যার মধ্যে ৩টি অবৈধ অ্যাকশনে। অভিযোগের ওই ম্যাচে তাসকিন কোনো বাউন্সার করেননি। তাই পরীক্ষাগারে এই বল তাকে করতে বলা যাবে না। তাসকিন ৯টি বল করেছেন ৩ মিনিটের মধ্যে। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে প্রতি ওভারে সর্বোচ্চ একটি বাউন্সার করা সম্ভব।

এআই