দীর্ঘ নয় বছরের অপেক্ষা কাটিয়ে অবশেষে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতল নিউজিল্যান্ড। রোববার ডানেডিনে ষষ্ঠ ম্যাচে সফরকারী লংকানদের ১২০ রানে হারিয়ে ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে সাত ম্যাচের সিরিজ জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা।

সর্বশেষ ২০০৫ সালে দেশের মাটিতে লংকানদের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছিল নিউজিল্যান্ড।

সিরিজে ঠিকে থাকতে এ ম্যাচে জয় ছাড়া অন্য কোনো পথ খোলা ছিল না লংকানদের। অন্যদিকে এ ম্যাচ জিতলে সিরিজ নিশ্চিত কিউইদের। এমন সমীকরণে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় নিউজিল্যান্ড।

ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলেই নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালাম শূন্য হাতে ফিরে গেলে শুরুতেই বড় ধরনের ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় জুটিতে ৫৯ রান সংগ্রহ করে দলকে সামনের দিকে টেনে নিয়ে যান মার্টিন গাপটিল ও কেন উইলিয়ামসন।

ব্যক্তিগত ২৮ রানে গাপটিল বিদায় নিলে দলকে বড় রানের ভিত গড়ে দেন উইলিয়ামসন ও রস টেইলর। দু’জনই তৈরি করেন সেঞ্চুরির সম্ভাবনা। কিন্তু নার্ভাস-নাইনটিতে সাজঘরে ফিরে গেছেন তারা। উইলিয়ামসন ৯৫ বলে ৯৭ এবং টেইলর ১০২ বলে ৯৬ রান করে আউট হন। আর তৃতীয় উইকেটে এই দুই ব্যাটসম্যান দলকে উপহার দেন ১১৭ রান।

পাঁচ নম্বরে ব্যাটিং-এ নেমে ৫টি চার ও ১টি ছক্কায় ২৮ বলে ৪০ রান করেন কোরি অ্যান্ডারসন। এতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ৩১৫ রান সংগ্রহ করে নিউজিল্যান্ড।

জয়ের জন্য ৩১৬ রানের বড় লক্ষ্যে ছুটতে গিয়ে উদ্বোধনী জুটিতে ৫৬ রান করলেও মাত্র ৫ রানের ব্যবধানে দুই ওপেনারকে হারিয়ে চাপে পড়ে যায় শ্রীলংকা। লাহিরু থিরিমান্নে ২৯ ও তিলকারত্নে দিলশান ২১ রান করে ফিরেন।

এরপর দলকে একাই সামনের দিকে টেনে নিয়ে গেছেন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান কুমার সাঙ্গাকারা। এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে শুধু সর্তীথদের যাওয়া-আসার চিত্রই দেখেছেন। বিপরীতে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৯৩তম হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৬৬ বলে ৮১ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরেন সাঙ্গাকারা। তার বিদায়ের পর ৬ রান সংগ্রহ করতেই দলীয় ১৯৫ রানে অলআউট হয়ে যায় শ্রীলংকা।

ওয়েলিংটনে আগামী ২৯ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের সপ্তম ও শেষ ম্যাচ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

নিউজিল্যান্ড : ৩১৫/৮, ৫০ ওভার (উইলিয়ামসন ৯৭, টেইলর ৯৬, প্রসাদ ২/৫৯)।

শ্রীলংকা : ১৯৫/১০, ৪০.৩ ওভার (সাঙ্গাকারা ৮১, থিরিমান্নে ২৯, এন্ডারসন ৪/৫২)।

ফল : নিউজিল্যান্ড ১২০ রানে জয়ী।

সিরিজ : সাত ম্যাচের সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে নিউজিল্যান্ড।

জেডআই