অসম্ভব এক কাণ্ড! ছোখ ছানাবড়া হওয়ার মতো স্কোরকার্ড। ক্রিকেটে মাত্র ৪ বলে ৯২ রান! এটাও কি সম্ভব? হ্যা, এটাই সম্ভব হলো বাংলাদেশে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আয়োজিত দ্বিতীয় বিভাগের সুপার লীগের একটি ম্যাচে এমন অদ্ভুত ঘটনা ঘটলো।
আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত পছন্দ না হলে মাঠে অনেক রকম প্রতিক্রিয়া দেখান ক্রিকেটাররা। কেউ নিজের যুক্তি তুলে ধরেন, কেউ আবার গালাগাল করে জরিমানা গুনেন, আবার আম্পায়ারের দিকে ব্যাট হাতে তেড়ে যাওয়ার ঘটনাও আছে। কিন্তু বাংলাদেশে ঘটল অভিনব ঘটনা।
ঢাকা ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় ডিভিশনে অনূর্ধ্ব-১৯ বিভাগের একটি ম্যাচে আম্পায়ারকে শায়েস্তা করতে ৪ বলে ৯২ রান দিয়ে অদ্ভুত কাণ্ড ঘটালেন লালমাটিয়া ক্লাবের বোলার সুজন মাহমুদ।
সিটি ক্লাব ক্রিকেট গ্রাউন্ড মাঠে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচটিতে দুই প্রতিপক্ষ দল অক্সিওম ও লালমাটিয়া। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে লালমাটিয়া ১৪ ওভারে ৮৮ রানে অলআউট হয়। ওই ইনিংসের সময় অনেক এলবিডব্লিউ , রানআউটে আম্পায়ার প্রতিপক্ষের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছে বলে মনে করেন লালমাটিয়ার খেলোয়াড়রা। এরপর ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে এই অবিশাস্য কাণ্ড ঘটান বোলার সুজন মাহমুদ। আম্পায়ারের ওপর রেগে গিয়েই তিনি ৪ বলে ৯২ রান দেওয়ার 'কীর্তি' গড়েন! যাতে ব্যাটসম্যানের তেমন কোনো অবদান ছিলনা। কারণ ক্রমাগত ওয়াইড আর নো বল করেছেন তিনি! এরফলে ১০ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় অক্সিওম ক্রিকেট ক্লাব।
সুজনের প্রথম ওভারে করা ৪ টি বৈধ ডেলিভারিতে রান ওঠে ১২। ৮০ রান আসে অতিরিক্ত। এর মধ্যে ১৩ টি ওয়াইড বলে আসে ৬৫ রান। তিনটি নো বলে আসে ১৫ রান। এত ওয়াইড-নো বলের সংকেত দিতে দিতে বেচারা আম্পায়ারের হাত ব্যথা হয়ে যায়।
১ ঘণ্টা ৩৪ মিনিটের মধ্যেই পুরো ম্যাচটি শেষ হয়ে যায়। অক্সিওম এর দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের একজন ১২ অন্যজন শুন্য রানে অপরাজিত থাকেন।
জানা গেছে, টসের সময় লালমাটিয়ার অধিনায়ককে কয়েন দেখার অনুমতি দেননি আম্পায়ার। কোনো রকম আলাপ-আলোচনা না করেই তিনি লালমাটিয়াকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। এরই অভিনব প্রতিবাদে এমন কাণ্ড করেছেন ওই বোলার।
পরে এক বিবৃতিতে লালমাটিয়া ক্লাবের সাধারণ সচিব আদনান রহমান রিপন বলেন, আমাদের অধিনায়ককে টস করার সময় কয়েন দেখতে দেওয়া হয়নি। প্রথমে বল করতে চেয়েছিলাম আমরা। তবে আমাদের জোর করে ব্যাট করতে বাধ্য করা হয়। কিশোর ক্রিকেটাররা তারপর এ রকম ভাবেই প্রতিবাদ জানানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
এমই





