ক্লাস ইয়ান হান্টেলারের পেনাল্টি গোলে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে নেদারল্যান্ডস। খেলার ইনজুরি টাইমে ডিবক্সের ভেতরে রোবেনকে ফাউল করেন মেক্সিকোর অধিনায়ক মারকুয়েজ। আর তখনই মেক্সিকানদের হৃদয় ভেঙে দিয়ে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান।
পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে নিতে ভুল করেন নি হল্যান্ডের স্ট্রাইকার হান্টেলার। তার পেনাল্টি গোলে মেক্সিকানদের হতাশায় ডুবিয়ে জয় পায় নেদারল্যান্ডস। এভাবে একেবারে শেষ মুহর্তে ২-১ ব্যবধানের হার নিয়ে মেক্সিকোকে মাঠ ছাড়তে হবে এ যেন এক অবিশ্বাস্য ঘটনা।
হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের খেলায় শেষ ১০ মিনিটের মধ্যে এমন অভাবনীয় ঘটনায় মেক্সিকান শিবিরে যেন নেমে আসে হতাশার কালো মেঘ। মাঠে উপস্থিত লাখো দর্শকের পাশাপাশি পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি খেলাপ্রেমী মানুষ যেন আরও একবার চাক্ষুস প্রত্যক্ষ করলো খেলায় হারজিত নিয়ন্ত্রনের দ্বায়িত্বতা বিধাতা একেবারেই নিজ হাতে নিয়ন্ত্রন করেছেন।
এর আগে জয়ের সুভাস পেতে থাকা মেক্সিকানদের হতাশ করে খেলায় ফিরে আসে নেদারল্যান্ডস। ৮৮ মিনিটে ডিবক্সের বাইরে থেকে দূরপাল্লার শটে নেদারল্যান্ডসকে সমতা এনে দেন ওয়েসলি স্নেইডার।
গোলশূন্য প্রমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই জিওভান্নি দস সান্তোসের গোলে এগিয়ে মেক্সিকো। ম্যাচের ৪৮ মিনিটে শূন্যের বল বুক দিয়ে রিসিভ করে ৩০ গজ দূর থেকে দর্শনীয় শটে গোণ করেন দস সান্তোস। তার এ গোলে ১-০ তে পিছিয়ে ডাচরা।
ম্যাচের ৬৯ মিনিটে ডিলে ব্লাইন্ডকে পেছন থেকে ট্যাকল করায় রেফারি প্রথম হলুদ কার্ড দেখান মেক্সিকান খেলোয়াড় পল অ্যাগুইলারকে। ৭৩ মিনিটে ওচোয়া আবারও রোবেনের শট আটকে দিয়ে ডাচদের গোলবঞ্চিত করেন। আরিয়েন রোবেন ডিফেন্ডারদের পরাস্ত করে ডিবক্সের ভেতরে ঢুকে শট করেন মেক্সিকোর গোলবারে। কিন্তু গোলবারে দৃঢ়তার প্রতীক গুইলার্মো ওচোয়া দলকে রক্ষা করেন।
একের পর এক ডাচ আক্রমণ সামলাতে ব্যতিব্যস্ত মেক্সিকোর জন্য আশীর্বাদ হয়ে ৭৭ মিনিটের দ্বিতয়ি ‘কুলিং ব্রেক’। ম্যাচের ৩ মিনিটে মেক্সিকোর উইং ব্যাক মিগুয়েল লাউনের করা খেলার প্রথম শট হল্যান্ডের গোলবারের উপর দিয়ে চলে যায়।
এরপর ৪ মিনিটেই পাল্টা আক্রমণে যায় ডাচরা। বাম পাশ থেকে স্নেইডারের মেক্সিকোর ডিবক্সের ভেতরে বল ডেলিভারি দিলে তা ধরতে পারেননি স্ট্রাইকার ফন পার্সি। খেলার মাত্র ৯ মিনিটে নাইজেল ডি জং ইনজুরি আক্রান্ত হলে তার বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেন ডাচ ডিফেন্ডান ব্রুনো মার্টিন্স ইন্ডি।
ম্যাচের ১৭ মিনিটে মেক্সিকোকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পান মিগুয়েল হেরেরা। ডস সান্তোসের পাস ডি বক্সের ভেতরে পেয়ে বাম পায়ের দারুণ শট করেন হেরেরা, তার শট হল্যান্ডের বামপাশের গোলবার ঘেঁষে চলে যায়।
২৪ মিনিটে ৩৫ গজ দূর থেকে সালসিদোর জোরালো শট ছাপিয়ে পড়ে দলকে গোল হজম করা থেকে আটকে দেন ডাচ গোলরক্ষক সিলেসেন। খেলার ২৭ মিনিটে মেক্সিকোর গোলবার মুখে প্রথম শট করার সুযোগ পায় নেদারল্যান্ডস। স্টেফান ডি ভ্রিজের কাছ থেকে বল পেয়ে ফন পার্সির শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
ম্যাচের প্রথম ৩০ মিনিট পর্যন্ত বল পজেশন দুদলের প্রায় সমান হলেও হল্যান্ডকে মেক্সিকোর আক্রমণ সামলাতে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। ম্যাচের ৩৭ মিনিট পর্যন্ত সময়ে নেদারল্যান্ডসের গোলবার মুখে মেক্সিকোর নেওয়া ৫টি শটের ৩টি অনশট হয়েছে। অন্যদিকে মেক্সিকোর গোলবার উদ্দেশ্যে ডাচদের নেওয়া একটি মাত্র শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
ঢাকা, ৩০ জুন(টাইমনিউজবিডি.কম)//এনএস //কেবি





