সর্বশেষ বিশ্বকাপই খেলেছিল রাশিয়া ২০০২ সালে! তাই যদি এবারও চূড়ান্ত পর্বে উঠতে না পারত রাশিয়া, তাহলে নিশ্চিতভাবেই উঠে যেত কথাটি- ‘স্বাগতিক না হলে ২০১৮ বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পেত না তারা’!
দাপটের সঙ্গে এবারের বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব পেরিয়েছে রাশিয়া। বাংলাদেশ সময় মঙ্গবার রাত চারটায় কুইয়াবায় শুরু হওয়া দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে চূড়ান্ত পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচেও তারা দেখাতে চাইবে সেই দাপট। কেননা শুধু চূড়ান্ত পর্বে উঠে সন্তুষ্ট হওয়ার কথা না পরের বিশ্বকাপের স্বাগতিকদের।
রাশিয়ার ২০০২ বিশ্বকাপ স্কোয়াডের একমাত্র যে ফুটবলার আছেন এবারো, সেই আলেক্সান্দার কেরজাকভের কথা শুনে চমকে যাবেন সবাই, ‘আমরা বিশ্বকাপ জিততে এসেছি। আমাদের সব ফুটবলার রাশিয়ার ঘরোয়া লিগে দুর্দান্ত খেলছে, যদিও বাইরে আমাদের কেউ তেমন চেনে না। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হল, কোচ ফাবিও কাপেল্লো আমাদের শক্তি-দুর্বলতা ভালোই জানেন।
যদি নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারি, তাহলে আমরা সফল হব।’ তা বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে সফল হোন কী না হন, সামর্থ্য অনুযায়ী খেললে বেলজিয়াম, আলজেরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়ার গ্রুপ থেকে নকআউটর পর্বে ওঠা রাশিয়ার জন্য খুবই সম্ভব।
প্রথম ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়ার জন্যও যেমন সেটি অসম্ভব না। মহাদেশীয় পরাশক্তি হিসেবে স্বীকৃত তারা, কিন্তু বাছাইপর্বটা খুব ভালো কাটেনি। তবু টানা অষ্টমবারের মতো চূড়ান্ত পর্বে উঠে এসেছে ঠিকই। অবশ্য সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচে চার হার, এর মধ্যে সর্বশেষ প্রস্তুতি ম্যাচে ঘানার কাছে ০-৪ গোলে বিধ্বস্ত হওয়া মিলিয়ে বেশ বেকায়দায় দক্ষিণ কোরিয়া। এসব সামলে যদি নকআউট পর্বে যেতে পারে, তাহলে পালাবদলের সময় পেরিয়ে আবার সাফল্যের রাজপথে উঠে যাবে কোরিয়ানরা। ‘এইচ’ গ্রুপ থেকে সেটি সম্ভব বলে বিশ্বাস তাদের।
ব্রাজিল বিশ্বকাপ রাশিয়া-দক্ষিণ কোরিয়ার কোচের সামনে নিয়ে এসেছে আলাদা চ্যালেঞ্জ। সেই ফাবিও কাপোল্লো ও হং মিউং-বো আবার মুখোমুখি হয়ে যাচ্ছেন প্রথম ম্যাচেই। কাপেল্লো ক্লাব ফুটবলের কিংবদন্তিতুল্য কোচ। কিন্তু আন্তর্জাতিক আঙ্গিনায় সফল হতে পারেননি ততটা। গত বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে তুলেছিলেন চূড়ান্ত পর্বে। কিন্তু ঝরে যেতে হয় কোয়ার্টার-ফাইনালের আগে। শিরোপাপ্রত্যাশী এক দলের ক্ষেত্রে যা ব্যর্থতা হিসেবেই গণ্য।
রাশিয়ার দায়িত্ব নিয়ে বরং কাপেল্লো ফিরেছেন সাফল্যের কক্ষপথে। বাছাইপর্বে পর্তুগালকে পিছু ফেলে দলকে করিয়েছেন গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন। চূড়ান্ত পর্বের অভিযান শুরুর আগে তাঁর কেবল একটাই দুশ্চিন্তা, ইনজুরির কারণে অধিনায়ক রোমান শিরোকভকে স্কোয়াড থেকে বাদ দিতে হল। এই প্লে-মেকার না থাকায় মধ্যমাঠের সৃজনশীলতা কমে যাবে অনেকখানি। দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে যেটির প্রভাব দেখা যেতে পারে।
দক্ষিণ কোরিয়ার কোচ হং মিউং-বো দেশটির সোনার ছেলে। ২০০২ বিশ্বকাপে অবিশ্বাস্যভাবে সেমি-ফাইনাল পর্যন্ত উঠেছিল যে দল, বো ছিলেন সেই দলের অধিনায়ক। টুর্নামেন্টের তৃতীয় সেরা খেলোয়াড়ের ‘ব্রোঞ্জ বল’ও জিতেছিলেন। সেই তিনি এখন দেশের কোচ। এক যুগ আগের স্বপ্নযাত্রার পুণরাবৃত্তির স্বপ্ন কেউ দেখছে না। দলকে নকআউট পর্বে নিয়ে যেতে পারলেই বরং খুশি সমর্থকরা। আজ রাশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে প্রথম ধাপ।
ঢাকা, ১৭ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই





