তামিমের সেঞ্চুরি ও মাহমুদউল্লাহর দুর্দান্ত ফিফটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩০২ রানের বড় টার্গেট ছুড়ে দিয়ে রোমাঞ্চকর জয় পেলো বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ বিদেশের মাটিতে সবশেষ ওয়ানডে সিরিজ জিতেছিল ২০০৯ সালের আগস্টে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। ৯ বছর পর দেশের বাইরে আবারও সিরিজ জিতল টাইগাররা।

শেষ দুই ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের জন্য ৩৪ রান দরকার ছিল। ৪৯তম ওভারে রুবেলের দুর্দান্ত বল থেকে মোটে ৬ রান নিতে পারেন পাউয়েল এবং নার্স। শেষ ওভারে ক্যারিবিওদের জয়ের জন্য দরকার ছিল ২৮ রান।

মুস্তাফিজের করা শেষ ওভার থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ মাত্র ৯ রান নিতে পারে। তাতে বাংলাদেশের ১৮ রানের জয় নিশ্চিত হয়। 

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এই জয়ে ২০০৯ সালের পর এশিয়ার বাইরে সিরিজ জয় করলো মাশরাফি-তামিমরা। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪ বছর ধরে কোন সিরিজ জয়ের স্বাদ পায়নি।

এর আগে শনিবার (২৮ জুলা্প্থই) ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেন্ট কিটসে ৩ ম্যাচ সিরিজের শেষ ম্যাচে টস জিতে বাংলাদেশ নির্ধারণী ৫০ ওভারে ৬ উইকেটের বিনিময়ে ৩০১ রান তোলে। 

বাংলাদেশ পক্ষে তামিম ইকবাল ১২৪ বলে ১০৩ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন। এছাড়া মাহমুদুল্লাহ খেলেন অপরাজিত ৬৭ রানের ইনিংস। বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি মর্তুজা ৩৬ রানের ঝড়ো এক ইনিংস খেলেন। দলের পক্ষে আগের দুই ম্যাচে ফিফটি পাওয়া সাকিব করেন ৩৭ রান। 

জবাবে ক্যারিবিও দুই ওপেনার ক্রিস গেইল এবং ইভান লুইস ভালো শুরু করেন। ১০.১ ওভারেই তারা তুলে ফেলেন ৫৩ রান। এরপর মাশরাফির দারুণ এক বলে মুশফিককে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন লুইস। অপর প্রান্তে থাকা গেইল অবশ্য একাই দলকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ৬৬ বলে ৭৩ রান করা গেইলকে মেহেদির ক্যাচে পরিণত করেন রুবেল।  

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটিং দানব ফিরে যাওয়ার আগে পাঁচটি ৬ এবং ছয়টি ৪ মারেন। ২১.৫ ওভারে দলীয় ১০৫ রানের মধ্যে গেইল একাই করেন ৭৩ রান। গেইলের আউটের পর হেটমায়ার এবং শাই হোপ দলের হাল ধরেন। তাদের দু’জনের জুটি থেকে আসে ৬৭ রান।

আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করা হেটমায়ার ৪২ বলে ৩০ রান করে সাজঘরে ফেরেন এ ম্যাচে। ধীর গতিতে এগুনো শাই হোপ ৯৪ বলে ৬৪ রান করে ফেরেন মাশরাফির বলে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান তখন ৪৩.১ ওভারে ৫ উইকেটে ২২৪। হোপের আউটের পর দলের হাল ধরেন রোভম্যান পাওয়েল। তিনি ৪১ বলে অপরাজিত ৭৪ রানের ঝড়ো এক ইনিংস খেলেন। 

বাংলাদেশের পক্ষে ১০ ওভার হাত ঘুরিয়ে ৬৩ রানে ২ উইকেট নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি।

রুবেল হোসেন ৭ ওভারে ৩৪ রানে নেন ১ উইকেট। মেহেদি মিরাজ এবং ‍মুস্তাফিজ নেন ১টি করে উইকেট। দারুণ ১ সেঞ্চুরি করায় ম্যাচ সেরা হন তামিম। এছাড়া, তিন ম্যাচে দুই সেঞ্চুরি এবং এক ফিফটিতে ২৮৭ রান করায় সিরিজ সেরাও হন তামিম।

বাংলাদেশ একাদশ: মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, এনামুল হক বিজয়, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাব্বির রহমান, লিটন দাস, রুবেল হোসেন, মেহেদি হাসান মিরাজ এবং মোস্তাফিজুর রহমান।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ একাদশ: ক্রিস গেইল, ইভিন লুইস, শাই হোপ, জেসন মোহাম্মদ, সিমরন হিতমার, জেসন হোল্ডার (অধিনায়ক), রেভমন পাওয়েল, আন্দ্রে রাসেল, দেবেন্দ্র বিশু, আসলে নার্স ও আলজারি জোসেপ।

এমবি