বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে সফল ও স্বপ্নের বিশ্বকাপে ১৬ কোটি মানুষের আশা পূরণকারী খেলোয়ার, ময়মনসিংহবাসীর অহংকার মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ তার জন্মস্থান ময়মনসিংহে এসে সিক্ত হলেন হাজার হাজার ক্রিকেটপ্রেমী মানুষের ভালবাসায়।
আগেই বলা ছিল মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে তাই তো এই মহেন্দ্রক্ষণকে স্মৃতির এ্যালবামে স্মরণীয় করে রাখতে সময়ের আগেই ময়মনসিংহের সার্কিট হাউজ মাঠ কাঁনায় কাঁনায় পূর্ণ হয়ে যায়। বিশ্বকাপ ক্রিকেটে টানা দুটি সেঞ্চুরী করে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে করেছেন গর্বিত ও সম্মানিত। ময়মনসিংহের গর্বিত সন্তানকে একারণেই আরো আপন করে নিলো ময়মনসিংহবাসী।

মঞ্চ প্রস্তুত, অতিথিরাও চলে এসেছেন, অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছে ময়মনসিংহের মাহমুদুল্লাহ প্রেমী মানুষ। অপেক্ষার প্রহর আর মন সইছেনা। তাইতো মঞ্চ থেকে যখন ঘোষণা হল যে সম্মানিত জেলা প্রশাসক মুস্তাকিম বিল্লাহ ফারুকী সাহেব আমাদের প্রিয় মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে নিয়ে মাঠে আসছেন ঠিক তখননি যেন মৌমাছির চাক ভেঙ্গে ছোটছে মাহমুদুল্লাহর কাছে।
না দেখা পর্যন্ত তর সইছে না, প্রিয় মানুষটিকে সবার আগে একটি পলক দেখার জন্য গাড়ীর পিছন পিছন দৌড়াদৌড়ি যেন গাড়ী থেকে নামা মাত্রই দেখবো তাকে। জেলা প্রশাসক গাড়ী থেকে নেমে তার হাত ধরে নিয়ে আসলেন অতিথি সারিতে।
রিয়াদের গলায় ফুলের মালা। সবাই তাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। স্বেচ্ছাসেবকদের কেউ কেউ ব্যস্ত একটু কাছে গিয়ে সেলফি তোলায়। দর্শকরা চিৎকার করছে রিয়াদ রিয়াদ বলে।
সময় হল সংবর্ধনা দেওয়ার। প্রথমে ময়মনসিংহবাসীর পক্ষ থেকে সংবর্ধনা জানালেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্মমন্ত্রী আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মতিউর রহমান। তারপর জেলা প্রশাসক, জেলা ক্রীড়া সংস্থা, ময়মনসিংহ পৌরসভাসহ একে একে অনেকেই সংবর্ধনা জানালেন।
সংবর্ধনা শেষে একের পর এক বক্তারা বক্তব্য দিচ্ছেন, অবেশেষে উপস্থাপকের কন্ঠে বেসে আসলো বক্তব্য রাখবেন বাংলাদেশের গর্ব, ময়মনসিংহের গর্ব মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। মঞ্চে মাইক হাতে নিয়ে দাঁড়ালেন ময়মনসিংহের কৃতি সন্তান মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। কাঁনায় কাঁনায় পূর্ণ সার্কিট হাউজ মাঠ যেন উত্তেজনায় কাঁপছে।

রিয়াদ বলেন, আজ আমাকে যে সম্মান দেওয়া হয়েছে তাতে আমি গর্বিত। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন যেন আরো ভাল খেলে বিশ্বের কাছে দেশের পতাকাকে অনেক উঁচুতে তুলে ধরতে পারি।
বিশ্বকাপে বাঘা বাঘা বোলারদের চার-ছয়ে মাঠ ছাড়া করলেও সংবর্ধনায় প্রিয় ময়মনসিংহের হাজার-হাজার মানুষের সামনে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ নার্ভাস হয়ে পড়েন।
তিনি বলেন, আমি বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। অনেক কথাই বলতে চাচ্ছি কিন্তু বলতে পারছিনা। এমন সিচুয়েশনে কখনো পড়িনিতো তাই খুব নার্ভাস লাগছে।
কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবার বললেন, সামনে পাকিস্তান সিরিজ, দোয়া করবেন যেন বাংলাদেশের জন্য ময়মনসিংহের হয়ে আরো ভাল পারফর্ম করতে পারি। ভাল সময়, খারাপ সময়-দু সময়েই পাশে থেকে উৎসাহ যোগাতে উপস্থিত শুভাকাঙ্খিদের প্রতি আশা ব্যক্ত করেন বিশ্বকাপে বাংলদেশের মানুষের আশা পূরণ করা এ খেলোয়ার।
ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার যৌথ আয়োজনে সংবর্ধনায় মঙ্গলবার বিকালে জেলা প্রশাসক মুস্তাকিম বিল্লাহ ফারুকীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন এমপি, ময়মনসিংহ পৌরসভার মেয়র জনাব ইকরামুল হক টিটু, রিয়াদের বাবা মো: ওবায়েদুল্লাহ ও বড় ভাই এমদাদুল্লাহ রাজু।
মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত পতাকাকে বিশ্বের বুকে পত পত করে উড়িয়েছেন মাহমুদুল্লাহ তাই তাকে স্বাগত বক্তব্যে ধন্যবাদ জানান জেলা প্রশাসক মুস্তাকিম বিল্লাহ ফারুকী।
ময়মনসিংহের পৌর মেয়র ইকরামুল হক টিটু বলেন, যিনি প্রতিভা, সাহস আর প্রজ্ঞার সমন্বয় ঘটিয়ে গোটা বিশ্বকে টাইগারদের গর্জন শুনিয়েছেন তিনি আর কেউ নন ময়মনসিংহের ইতিহাস তৈরি করা ময়মনসিংহের কৃতি সন্তান মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। তিনি বলেন, ময়মনসিংহের মাটি যে ক্রিকেটের উর্বর ঘাটি তা প্রমান করেছে রিয়াদ।
পরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান বিশ্বকাপে গৌরবোজ্জল সাফল্যের জন্য ময়মনসিংহের সরকারী জায়গা থেকে মাহমুদুল্লাহকে একটি বাড়ীর জায়গা দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের প্রতি আহবান জানান।
মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ তার প্রিয় জন্মভূমি ময়মনসিংহে আসলেন, দেখলেন অবশেষে প্রিয় মানুষদের ভালবাসায় সিক্ত হয়ে ফিরে গেলেন।
এমকে





