২০১৫ বিশ্বকাপে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে নামতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বৃহস্পিতবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৯টায় মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এমসিজি) শুরু হবে বাঘ-সিংহের লড়াই।

বিশ্বকাপের বাইরে লঙ্কানদেরকে হারানোর রেকর্ড থাকলেও ক্রিকেটের এই মহাযজ্ঞে একবারও হারাতে পারেনি বাংলাদেশ। ২০০৩ সালে ১০ উইকেটের বিশাল হার আর ২০০৭ সালে ১৯৮ রানে হারের দু:সহ স্মৃতি এখনো তাড়া করছে টাইগারদের।

তাই এ ম্যাচটিকে সামনে রেখে বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিশ্বকাপে যে দুটো ম্যাচে আমরা লংকানদের কাছে হেরেছি, সেই দুটো ম্যাচেই আমরা বাজে খেলেছি। কালকের (বৃহস্পতিবার) ম্যাচে আমরা যদি ভালো করতে পারি, নিজেদের খেলাটা খেলতে পারি, তাহলে তাদের না হারানোর কোনো কারণ আমি দেখি না।’

শ্রীলংকার বর্তমান দলটি বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের কাছে যথেষ্ট পরিচিত উল্লেখ করে টাইগার অধিনায়ক বলেন, তবে তাদের প্রতি যথেষ্ঠ শ্রদ্ধাও রয়েছে। তাই দলকেও সতর্ক করে দিয়েছেন অধিকতর অভিজ্ঞ লংকানদের বিষয়ে।

মাশরাফি বলেন, ‘মাত্র একটি বলই লাগে একজন ব্যাটসম্যানকে আউট করতে। তাই পরিকল্পনা মাফিক ক্রিকেট খুবই জরুরি। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডের (এমসিজি) অভিষেকটা স্মরণীয় করে রাখতে চাই শ্রীলংকার বিপক্ষে জয়ের মাধ্যমে।’

বাংলাদেশের লংকান কোচ হাথুরুসিংহকে লংকা-বধের অন্যতম অস্ত্র মন্তব্য করে মাশরাফি বলেন, ‘কোচ তাঁর নিজ দেশের বিপক্ষে দুর্দান্ত সব পরিকল্পনা আঁটছেন। তিনি আমাদের দারুণভাবে সাহায্য করছেন। বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনাও তৈরি করছেন। পুরো বিষয়টিই এখন নির্ভর করছে আমাদের ওপর, আমাদের ভালো খেলার ওপর'।

মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে আপাতত কোনো শঙ্কা নেই বলেই জানিয়েছেন মাশরাফি। নেটে মুশফিক ব্যাট করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মুশফিক আমাদের খুব গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। আপাতত তাকে নিয়ে কোনো সংশয় নেই। তিনি আজ নেটে ব্যাট করেছেন। আশা করছি আগামী কালকের ম্যাচে দলের অংশই থাকবেন।’

তবে কাল শ্রীলংকার বিপক্ষে উইকেট রক্ষকের দায়িত্বটা পালন না করার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, সে ক্ষেত্রে মুশফিকের বদলি হিসেবে স্ট্যাম্পের পেছনে দাঁড়াবেন এনামুল হক বিজয়।

এদিকে লংকান অধিনায়ক ম্যাথুস বলেন, এই ম্যাচটি আমাদের সবার জন্য হবে চাপের একটি ম্যাচ। এটি হবে কঠিন ম্যাচগুলোর একটি, নিকট অতীতে অসাধারণ পারফর্ম করে আসছে বাংলাদেশ। তাদের একদল নিয়মিত পারফর্মার রয়েছে। তাই আমরা তাদের সব ব্যাটসম্যান ও বোলারদের খুবই গুরুত্ব সহকারে নিয়েছি। এই ম্যাচে যারা সেরা খেলাটা খেলতে পারবে তারাই জয়লাভ করবে। আশা করি আগামীকাল আমরা আমাদের সেরা খেলাটা উপহার দিতে পারব।’

১৯৯৬ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন এবং গত দুই আসরের ফাইনালিস্ট শ্রীলংকার সঙ্গে এর আগে ৩৭টি ওডিআই ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। তন্মধ্যে ৩২টিতেই জয় পেয়েছে লংকানরা। আর বিশ্বকাপে টাইগারদের বিপক্ষে লংকান সফলতা আরো উজ্জ্বল। তবে এবারের আসরে লংকানদের সুচনাটা হয়েছে বাজেভাবেই। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দলটির শীর্ষ ব্যাটসম্যানরা খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। যে কারণে বিশ্বকাপের ওই সহ-আয়োজকদের কাছে উদ্বোধনী ম্যাচে তারা হার মেনেছে ৯৮ রানের বিশাল ব্যবধানে। ডানেডিনে অনুষ্ঠিত আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয় পেতেও বেশ সংগ্রাম করতে হয়েছে শ্রীলংকাকে। আন্ডরডগ আফগানিস্তানের বিপক্ষে যদি মাহেলা জয়বর্ধনের সেঞ্চুরিটি না হতো তাহলে ফলাফলটিও অন্য রকম হবার আশংকা ছিল।

লংকান দলের তারকা ব্যাটসম্যান কুমার সাঙ্গাকারা এবং তিলকরত্নে দিলশান এখনো জ্বলে ওঠার অপেক্ষায় রয়েছেন। তবে এই মুহুর্তে তাদের প্রধান সমস্যা হচ্ছে অনিয়ন্ত্রিত বোলিং। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে ১৬টি ওয়াইড ও একটি নো বল দিয়েছে।

টুর্নামেন্টে এ পর্যন্ত দুই ম্যাচে অংশ নিয়ে লাসিথ মালিঙ্গা রান দিয়েছেন ১২৫টি। তবে এসব বিষয় নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নন ম্যাথ্যুস। তিনি বলেন, ‘ল্যাসিত মালিঙ্গা তার সমস্যাগুলো নিয়ে নেটে কঠোর পরিশ্রম করছেন।’

লংকান অধিনায়ক নিশ্চিত করেছেন যে, হ্যাস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়া অল রাউন্ডার জীবন মেন্ডিস টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ছেন। তার পরিবর্তিত হিসেবে ডাক পাচ্ছেন ওপেনার উপুল থারাঙ্গা।

জেডআই