স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনার অন্যতম সফল কোচ হিসেবে বিবেচিত পেপ গার্দিওলা। তার সময়ে সম্ভাব্য সব ক'টি শিরোপাই জিতেছিল ক্লাবটি। তবে কোনো রকম চাপ ছাড়াই ২০১২ সালে বার্সার কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। কারণ হিসেবে বলেছিলেন, ক্লাবকে দেয়ার মতো যা কিছু আছে সবই তিনি দিয়েছেন। কিন্তু সম্প্রতি জানা গেলে পর্দার আড়ালের কথা। গার্দিওলাকে নিয়ে সাংবাদিক মার্টি পেরারনাউর লেখা বইয়ে দাবি করা হয়েছে, বার্সা প্রেসিডেন্ট সান্দ্রো রোসেলের সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি হওয়ার কারণেই ন্যূ ক্যাম্প ছেড়েছিলেন এই কোচ।

"পেপ কনফিডেনশিয়াল: দ্য ইনসাইড স্টোরি অব পেপ গার্দিওলা'স ফার্স্ট সিজন এ্যাট বায়ার্ন মিউনিখ" বইয়ে গার্দিওলার বার্সায় দায়িত্ব পালনকালের বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরা হয়। বলা হয়, তার অবসরে যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথা।

গার্দিওলার বার্সা ছেড়ে যাওয়া ছিল দীর্ঘ দিনের ও কঠিন পরিকল্পনা। ক্লাব কর্তৃপক্ষ ও তার সহকারী টিটু ভিলানোভাকে বলার আগে একমাত্র তার বন্ধু ও ব্যক্তিগত সহকারী ম্যানেলকে বার্সা ছেড়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন পেপ।

বার্সায় চার বছরে, ক্লাবের কোচ, মুখপাত্র, অঘোষিত প্রেসিডেন্ট এবং সফরে সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করেছিলেন গার্দিওলা। এই সময় ক্লাবের দুই প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন তিনি।

সাবেক বার্সা প্রেসিডেন্ট জন লাপোর্টার সময় ক্লাবটির প্রধান কোচের দায়িত্ব নেন গার্দিওলা। তার সফলতার পিছনে জ্বালানি হিসেবে কাজ করেছিলেন লাপোর্টা। এরপর ক্লাব প্রধান হন সান্দ্রো রোসেল। কিন্তু পেপ দেখলেন নতুন প্রেসিডেন্ট মুচকির হাসির পিছনে মনোমালিন্য গোপন রাখছেন। তবুও দু'হাত রক্ষা করে চললেন তিনি।

প্রথমত: ২০০৭ সারে বার্সেলোনার 'বি' দলের কোচ হিসেবে পেপকে নিয়োগ দেন প্রেসিডেন্ট লাপোর্টা। সেখানে দারুণ সাফল্য দেখান তিনি। এরপর ২০০৮ সালে মূল দলের দায়িত্ব দেয়া হয় তাকে।

লাপোর্টার সময় ছয়টি শিরোপাই জিতেছিলেন কাতালান কোচ। লা লিগা, কোপা ডেল রে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ইউরোপিয়ান ও স্প্যানিশ সুপার কাপ এবং ক্লাব বিশ্বকাপের ট্রফি জিতেছিল পেপের দল।

২০০৩ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ভাইস-প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন রোসেল। কিন্তু লাপোর্টার সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। ২০১০ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হন সেই রোসেল।

রোসেল মনে করলেন, কোচ লাপোর্টার জন্যই নিয়োজিত ছিল। ফলে তার উপর বিশ্বাস রাখতে পারছিলেন না। তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বটা স্পষ্ট হয়, লাপোর্টার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ভোটাভুটির সময়। সেবার বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে রোসেল ভোটদানে বিরত থাকলেও সেটা ছিল গার্দিওলার ইতি টানার সূত্রপাত।

ধীরে ধীরে অবস্থা আরো ঘোলাটে হতে থাকল। দলের খেলোয়াড়রা দারুণ সাফল্য পেলেও গার্দিওলা দেখলেন, বার্সায় তার দিন শেষের পর্যায়। ফলে মান থাকতেই ২০১২ সালে স্বেচ্ছায় অবসরে যান তিনি।

জেডআই