২০০৭ বিশ্বকাপের কথা মনে আছে? বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামা ভারতকে হারিয়ে দিয়ে বিদায় করেছিল বাংলাদেশ।

এখনও সেই ম্যাচটা ওয়ানডে বিশ্বকাপে বড় অঘটনগুলোর একটি হয়ে আছে।

শচীন টেন্ডুলকার, সৌরভ গাঙ্গুলী, রাহুল দ্রাবিড়দের গোমরা মুখ দেখে আফসোস লাগলেও কোটি বাঙালির কাছে সেটাই ছিল অমৃত।

মাশরাফি, সাকিব, তামিমরা সেদিন মাথা উঁচু করে মাঠ ছেড়েছিল পরাশক্তি ভারতকে হারিয়ে।

আরেকটা বিশ্বকাপ কড়া নাড়ছে দরজায়।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হলেও মঞ্চ তো এক। সাবেক টাইগার ক্রিকেটার রাকিবুল হাসানের চোখে ভাসে ২০০৭ সালে ভারত বধের মুহূর্তটা। এবারও তেমন কিছুই তার প্রত্যাশা।

সংবাদ মাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন, ‘সেবারের মতো এবারও যদি বড় কোনো একটা দলকে বিদায় করে দিতে পারি সেটাই হবে তার বড় খুশির উপলক্ষ্য।’

তিনি আরও জানান, ‘আমি খুশি হব যদি কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত যেতে পারি। আরও বেশি খুশি হব যদি কারও বাড়া ভাতে ছাই দিতে পারি। যেমনটা ২০০৭ বিশ্বকাপে ভারতকে করেছিলাম।’

২০০৭ সালেই প্রথমবার অনুষ্ঠিত হয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সেই আসরে টাইগাররা নিজেদের প্রথম ম্যাচেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে চমক দেখালেও এরপর পাঁচটি আসরের মূল পর্বে কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি।

রাকিবুল হাসান মনে করছেন, ‘এই ফরম্যাটে এখনও ধাতস্থ হয়ে ওঠেনি বাংলাদেশ। তবে যেভাবে এগোচ্ছে তাতে খুব দ্রুতই বড় দল হয়ে উঠবে।

তিনি আরও জানান, ‘টি-টোয়েন্টিতে আসলে আমরা ধাতস্থ হতে পারিনি। এটা পাওয়ার গেম। যার শক্তি আছে তারাই এখানে উন্নতি করবে। আমরা ক্ষীণকায় জাত, শক্তি কম। এমনকি স্কিলও ওরকম নেই।

তবে এই মুহূর্তে আমরা বেশ ভালো দল। দেখেন, আমাদের মুশফিক কিন্তু ছয় মারতে পটু। কাজেই এখন আমরা আস্তে আস্তে বেরিয়ে আসছি খোলস থেকে।
আশা করি আগামী কয়েক বছরে ভালো একটা দল হয়ে যাব এই ফরম্যাটে।’

বিশ্বকাপের আগে দারুণ প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়েকে তাদের মাঠে ৩-০ ব্যবধানে হারালেও ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-১ ও নিউজিল্যান্ডকে ৩-২ ব্যবধানে হারায় টাইগাররা।

এই দুটি সিরিজ জিতলেও সমালোচনা ছিল স্পিনবান্ধব উইকেট নিয়ে।

কেননা, চলতি আইপিএলের ম্যাচগুলোর উইকেটের সঙ্গে তুলনা করলে মিরপুরে যে উইকেটে খেলেছে বাংলাদেশ তার পুরোটা উল্টো দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহ স্টেডিয়াম।

রাকিবুল হাসান মনে করছেন, ‘কোনো অসুবিধা হবে না। কারণ, বাংলাদেশের প্লেয়াররা খুব অভিজ্ঞ। এমন উইকেটে অনেক খেলেছে।

বিশ্বকাপ ভেন্যুতে যাচ্ছেও অনেক আগে। দ্রুতই মানিয়ে নেবে কন্ডিশনের সঙ্গে। আশা করি ভালো করবে। বোলারদের জন্য একটু কঠিন হবে যা দেখছি।

তবে আইপিএলের তুলনায় বিশ্বকাপে আরেকটু বেটার উইকেট হবে। উইকেটগুলা ব্যাটিংবান্ধব হবে। কারণ, মানুষ রান দেখতে চায়।’

এইচএন